যে দোষে আজ আমি অপরাধী - শেষ পর্ব



জান্নাতির কোন উত্তর না পেয়ে আমি দরজার কাছে গেলাম কে এসেছে দেখার জন্য। আমি যেই ওখানে গেছি একে বারে চমকে গেছি। কারন দরজা খুলেই দেখি শান্তা। ওকে দেখে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আবার কোনো সমস্যা বাধাবে না তো। অনেক কিছু হারিয়েছি ওর জন্য। আজ যা পেয়েছি যদি আবার হারাই।

- ভিতরে আসতে বলবি না ইয়াছিন। (শান্তা)
ওর কথায় চমকে গেলাম। কি করবো কিছু বুজতে পারছিলাম না।
- ভিতরে আসুন। (জান্নাতি)

- জান্নাতির এই রকম কথা শুনে অবাক হলাম। শান্তার সম্পর্কে সব জানার পরেও কেন ওকে ভিতরে আসতে দিচ্ছে। আরো অবাক হলাম যখন ওর পিছনে বাবা-মা, চাচা-চাচি, মাইশা, আর সাথে আসিক আর নিলাও আছে। মা, আর মাইশা তো জানে আমি এইখানে কিন্তু আমার পরিবারের সবাই কেমন করে জানলো! আসিকের ইশারাই বুজতে পারলাম ও সবাইকে নিয়ে এসেছে। সবাই ভিতরে এল। ভিতরে আসার পরেই...

- ইয়াছিন, আমাকে তুই ক্ষমা করে দে, তোর সাথে অনেক অন্যায় করেছি। তুই সেইদিন আমাকে বাঁচিয়েছিলি তারপরেও সবার কাছে মিথ্যা বলে তোকে দোষী বানিয়েছি। আমার জন্য এতগুলো বছর তুই সবার থেকে দুরে। আমার জন্য তোর জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। আমি তোর সাথে যে অন্যায় করেছিলাম তার শাস্তি আমি পেয়েছি। আজ আমি জীবনের শেষ পর্যায়ে দাড়িয়ে। আমার ব্লাড ক্যান্সার। যেই দিন এটা ধরা পেরেছে সেই দিন আমি বুঝতে পেরেছি এটা তোর সাথে করা অন্যায়ের ফল। তারপর থেকে ৬ মাস ধরে তোকে খুজে চলেছি। অনেক খুজেছি। বিয়েতে তোকে দেখে কিছুটা চিনেছিলাম। তারপর আজ এই আশিক ভাইয়া বলল তুই ফিরে এসেছিস। তাই এলাম তোর কাছে ক্ষমা চাইতে। তুই ক্ষমা না করলে যে আমি মরেও শান্তি পাবো না।

- আমাকেও ক্ষমা করে দে বাবা। আমি সেইদিন তোর কথা শুনতে চাই নি। সেইদিন যদি তোর কথা শুনতাম তাহলে আজ এইদিন দেখতে হতো না। (বাবা)
- আমাদের ক্ষমা করে দে। আমাদের মেয়ের জন্য আজ তোর এই অবস্থা। (চাচা)
- ইয়াছিন আজ সবাই তাদের ভুল বুজতে পেরেছে। আর সময় নষ্ট করিস না। (আসিক)
- তুই সবাইকে বলেছিস আমি এইখানে আছি? (আমি)

- তোকে কষ্ট পেতে দেখলাম। আমার যে বন্ধু সবাইকে হাসাতো আজ সে হাসতে ভুলে গেছে। যে সব সময় কথা না বলে থাকতে পারতো না, আজ সে নিশ্চুপ। যে সব সময় আড্ডাকে মাতিয়ে রাখতো সে আজ তাকে সবার থেকে লুকিয়ে রাখতে চাই। তাই সবাইকে সব কিছু বলে দেয়েছি। (আসিক)
- আজ যদি আসিক ভাইয়া না জানাতো তাহলে আমি কোন দিন সবাইকে সত্যিটা বলতে সাহস পেতাম না। এতদিন অনেক চেষ্টা করেছি সবাইকে সত্যিটা বলার কিন্তু বলা হয়ে উঠেনি। ভয় পেতাম। কিন্তু আজ তোর খোজ জানার পর সেটা চলে গেছে। তাই আজ সবাইকে সত্যিটা বলে দিয়েছি। (শান্তা)


সবাই ক্ষমা চাওয়ার পরেও ভিতরে অভিমানটা রয়ে গেছে। এত গুলো বছর বিনা-অপরাধে শাস্তি পেয়েছি। যে দোষে আজ আমি অপরাধি এটা ভেবে আর অভিমান করে থাকব না। এমনিতে অনেক গুলো সময় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন অভিমান করে থাকলে আরো সময় নষ্ট হয়ে যাবে।

আমি দেখলাম আসলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে আর করতে চাই না। তাই সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। শান্তা আমার সাথে যে অন্যায় করেছিল ক্ষমা থেকে আর বড় কোন প্রতিশোধ হয়তো পৃথিবীতে আর নেই। সবাইকে নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করবো।

-জান্নাতি, নিলা, আসিক, ওরা চলে গেল জান্নাতিদের বাড়ি আর আমরা চলে আসলাম আমাদের বাড়ি।

তিন দিন পর আমার আর জান্নাতির বিয়ে। বাড়িতে সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত, কিন্তু শান্তা ছাড়া। শান্তা সব সময় আমার পাশে থেকে। কাল আমাদের বিয়ে তাই আজ আমার পরিবার এবং জান্নাতির পরিবার সবাই একসাথে শপিং করতে এসেছি, শপিং শেষ করে সবাই যে যার বাড়ি গেলাম।

- আজ আমাদের বিয়ে হলো, বড় ধরনের অনুষ্ঠান না হলেও বেশ জাকজমক ভাবেই বিয়ের কাজ শেষ হয়েছে। আমি এখন ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে সিগারেটের ধুয়া ওড়াচ্ছি....

আপনারা ভাবছেন বাসর রাতে এই কাজ কেন করছি! তো চলুন বিষয়টা জেনে আসি....

- আজ আমার সেই প্রিয় মানুষটার কথা খুব বেশি মনে পড়ছে, আমাদের কত স্বপ্ন ছিল এই রাতটিকে ঘিরে। কিন্তু আমি রাতটি ঠিক পেলাম শুধু প্রিয় মানুষটি নেই সে এখন অন্য কারো বুকে। কেমন আছো তুমি লিজা? হয়তো অনেক ভালো আছো? তোমার সাথে কাটানো অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে তাই না। জানো এই পাগল মনটা আজও তোমায় ভুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে তার কাছে কি তুমি সত্যি খুব সুখে আছো? সেকি আমার থেকেও বেশি ভালোবাসে। সেকি আমার মত করে তোমাকে পাগলামিতে মাতিয়ে রাখে। জানো এখন হাসতে ভুলে গেছি, আগের মত আর পাগলামি করি না। যেখানে থাকো ভালো থেকো, কোন অভিযোগ রাখিনি। শুধু মোনাজাতে বলতে চাই তুমি সুখে থেকো।

- তুই এখানে দারিয়ে আছিস? আর ওদিকে ভাবি কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছে (ছোট বোন মাইশার কথায় ধ্যান ভাঙ্গলো)
- উমম, হুম, তুই যা আমি আসছি।

আমি এখন বাসর ঘরের সামনে., ভাই আমি কি ভিতরে যাবো নাকি? আসলে প্রথম বিয়ে তো তাই কিছু বুঝতে পারছি না দ্বিতীয় বার ঠিক হয়ে যাবে।
.
- ঘরে ডুকলাম, দেখি বউ আমার ইয়ায়ায়া বড় একটা ঘোমটা দিয়ে বিছানার মাঝে বসে আছে, আমাকে দেখে খাট থেকে নেমে এসে পা ধরে সালাম করে নিল।
- চলো দুরাকাত নফল নামাজ আদায় করি । (আমি)
নামাজ পরে আমি শুতে যাবো তখনি বলতাছে,  
- আজ আমরা ঘুমাবো না (জান্নাতি)
- আমি তো রিতি মত অবাক এই মেয়ে বলে কি ঘুমাবে না কিন্তু কেন...?
- আমার অনেক দিনের স্বপ্ন এই রাতটা নিয়ে, আজ আমরা সারা রাত গল্প করে কাটিয়ে দিব (জান্নাতি)
- কিন্তু গল্প তো আমরা কালকের রাতেও করতে পারি...(আমি)
- আমি বলছি গল্প করব তো আজকেই গল্প করবো (এটা বলে খাট থেকে আমাকে টেনে বারান্দার বেলকুনিতে নিয়ে যায়)
ওমা একি এখানে এত সুন্দর করে কে সাজিয়েছে।

- ওই দিকে তাকিয়ে দেখেন চাঁদটিকে কত সুন্দর লাগছে, আমাদেরকে মিটি মিটি আলো দিয়ে রেখেছে।
- চাঁদ তুমি যেমন রাতকে ভালোবাস, আমিও তেমনি এক জনকে ভালোবাসি। আকাশ সমান ভালোবাসা নিয়ে আমি তার সামনে দারিয়ে আছি। তুমি চোখ খুলে দেখ ভালোবাসার সাগর নিয়ে দারিয়ে আছি আমি, কি বলবে না তুমি I love you too (জান্নাতি)

-তুমি কি হবে আমার বেঁচে থাকার হাসির কারন? তুমি কি হবে আমার ফুট ফুটে সোনার টুকরো মেয়ের আম্মু? তুমি কি হবে আমার আধার রাতের আলো? কথা গুলো শেষ করে জান্নাতিকে কোলে তুলে বেল্কুনি থেকে এনে বিছানায় ফেলে দিলাম।
.
- এই আপনি কি করছেন! উমমমউম্ম...
কথা শেষ করার আগেই জান্নাতির ঠোট আমার দখলে নিয়ে নিলাম, এভাবে দুজন হারিয়ে গেলাম ভালবাসার সাগরে। থাক না ওরা ওদের ভালোবাসা নিয়ে।ওদের জন্য না হয় আমরা একটু দোয়া করব।

<<<<<<<<<<<< সমাপ্ত >>>>>>>>>>

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।