ধর্ষক যখন স্বামী - পর্ব (১)

মদের গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নিরার।ঠিকমতো শ্বাসও নিতে পারছে না সে।কিন্তু তাতে বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই নিরবের।সে তো তার শারীরিক চাহিদা মিটাতে ব্যস্ত।কু্ঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে সে নিরার শরীর।অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছে নিরা।কিন্তু চিল্লাতে পারছে না। কারন নিরব তার মুখ একটা কাপড় দিয়ে বেঁধে রেখেছে। তাছাড়া নিরব নিরার সদ্য বিয়ে করা স্বামী। তাই চাইলেও সে চিল্লাতে পারবে না।





নিরবের প্রত্যেকটা স্পর্শে রয়েছে কেবল ঘৃণা,,, না আছে ভালোবাসা আর না আছে অনুভূতি,,,,বারবার কামড় দিচ্ছে সে নিরার শরীরে,,,, ফলে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠছে নিরা,,, কিন্তু তার কিছু করার নেই,,, এ-ই ব্যথাই যে তার সহ্য করতে হবে,,,,, এক সময় নিরা শরীরের যন্ত্রণা আর সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারায়,,,,,
,
,
সকালে,,,,
নিরার ঘুম ভাংতেই সে শরীরের ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে,,,, তার গায়ে শুধু একটা চাদর বিছানো আর মুখ এখনও কাপড় দিয়ে বাঁধা,,,,নিরা মুখে কাপড়ের বাধঁন খুলে পাশে তাকাতেই দেখে নিরব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে,,,, ঘুমন্ত অবস্থায় খুব নিষ্পাপ লাগছে নিরবকে,,, কিন্তু কে বলবে,,,, এ নিষ্পাপ চেহারার বিপরীতে একটা হিংস্র মানুষ লুকিয়ে আছে,,,,
কালকে রাতের কথা মনে পরতেই মুহূর্তেই নিরার চোখ পানিতে ভীজে যায়,,,অসহ্য কষ্ট হচ্ছে তার,,,, উঠে বসারও তেমন শক্তি নেই,,,, তবুও কোনোমতে গায়ে চাদর জড়িয়ে সে ওয়াশরুমে চলে যায়,,,,তারপর পানির কল ছেড়ে সেটার নিচে বসে পরে,,,আর অঝড়ে কাদঁতে শুরু করে,,, যেন একটু হলেও এ পানিতে তার কষ্টগুলো মুছে যায়,,,,
প্রায় ৪০ মিনিট পর নিরা ওয়াশরুম থেকে বের হয়,,,ওয়াশরুম থেকে বের হতেই নিরা নিরবকে সোফায় বসে থাকতে দেখে,,,,ল্যাপটপে কি যেন কাজ করছিল সে,,, নিরাকে ওয়াশরুম থেকে বের হতে দেখেই বলে ওঠে,,,,

নিরবঃ এটা তোর একার রুম না যে তুই ১ঘন্টা ধরে ওয়াশরুমে বসে থাকবি,,,,আর যদি এমন দেরি করিস তাহলে জানে মেরে ফলব,,,,,
বলেই নিরব রাগে গজগজ করতে করতে তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়,,,,, আর নিরা,, সে হাবলার মতো নিরবের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,,,, আর ভাবছে,,,,
নিরাঃ [ উনি মানুষ নাকি অন্য কিছু,,,,উনার মাঝে কি একটুও অনুতপ্তবোধ কাজ করছে না,,, কিভাবে এত নরমাল বিহেব করছেন,,??উনার কি কালকের কথা একটুও মনে নেই,,,??]
নিরা এসব ভাবছে,,, হঠাৎ সে দরজা ধাক্কানোর শব্দ পায়,,,দরজা খুলতেই দেখে মিসেস মুজমাল [ নিরবের মা ] দাঁড়িয়ে আছেন,,,নিরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই তিনি গর্জে ওঠেন,,,,
মিসেস মুজমালঃ কিরে নবাবজাদি,,,কয়টা বাজে খেয়াল আছে,,,এতক্ষন ঘুমাচ্ছিলি কেন,,,ঘরের এতগুলো কাজ কে করবে শুনি,,,,?? নাকি ভেবেছিস আমার ছেলের সাথে তোর বিয়ে হয়েছে দেখে আমি তোকে আমার মাথার উপর উঠিয়ে রাখব,,,জীবনেও না,,তুই রাস্তার মেয়ে ছিলি আর রাস্তার মেয়েই থাকবি,,,,,
,
,
,
,
,
কি ভাবছেন,,,নতুন বউয়ের সাথে শ্বাশুড়ি এভাবে কথা বলছে কেন,,আসলে এভাবে কথা বলত না,,, যদি নিরা আর তার মা নিরবদের বাসায় আশ্রিতা হিসেবে না থাকত,,,,
নিরার পুরো নাম নিরাদ্রি রাহমান নিরা,,,সবে মাত্র ১৮ বছরে পা দিয়েছে,,,পড়ালেখা শুধু ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত করতে পেরেছে,,, তারপর আর লেখপড়া করার সৌভাগ্য হয় নি তার,,, এর মূল কারন হয়তো এ-ই,,, যে নিরার বাবা নেই,,,নিরা যখন ছোট তখন তার বাবা মারা যান,,,নিরার নানু বাড়ির কেউ ছিল না,,, আর যারা ছিল,,তারা বিদেশে চলে গিয়েছিল,,, তাই নিরা আর তার মা নিরার বড় চাচার বাসায় থাকা শুরু করে,,,,নিরার বড় চাচার ছেলেই নিরব,,,,নিরা আর তার মাকে নিরবদের বাসায় থাকা কেউ পছন্দ করতো না,, একমাত্র নিরব ছাড়া,, সে নিরাকে নিয়ে সবসময় খেলাধুলা করত,,,,খেলার ফাঁকে মাঝে মাঝে ২-১ টা কামড়ও দিত,,,, ফলে নিরা ব্যথায় অনেক কান্না করত,,, তা দেখে নিরব হাসতে হাসতে বলত,,,,

নিরবঃ এ-ই নিরাদ্র খান নিরবের কথা না শুনলে এমনই হয়,,,,এখন ভ্যা ভ্যা করে কাদঁলে কোনো লাভ নেই,,,,
বলেই নিরব আরও জোড়ে জোড়ে হাসত,, তারপর নিজেই নিরাকে আদর করে তার সাথে আবার খেলা করত,,,,একমাত্র নিরবের জন্যই নিরাদের নিরবের বাসায় রাখা হয়েছে,,, নাহলে অনেক আগেই মিসেস মুজমাল তাদের বের করে দিত,,,তাছাড়া বিনা টাকাপয়সা খরচ করে তিনি অনেক ভালো ২টা কাজের লোক পেয়েছেন,,, তার আর কি চাই,,,যখন তখন নিরা আর তার মাকে বকতে পারেন,,মারতে পারেন,,বিনা অপরাধে অত্যাচার করতে পারেন,,যা নয় তা বলতে পারেন,,,,যা পরিবারের কারো চোখে না পরলেও নিরবের চোখ এড়ায় নি,,,সে যথাসম্ভব নিরা আর তার মাকে এসব অত্যাচার থেকে রক্ষা করত,,,কিন্তু নিরব বেটার স্টাডির জন্য আমেরিকায় যাওয়ায়,,,নিরা আর তার মার উপর এসব অত্যাচার আরও দ্বিগুণ বেড়ে যায়,,,যা সহ্য করতে করতে তারা ২জনেই অভ্যস্ত হয়ে যায়,,,,
এরপর আসে সেদিন যেদিন নিরব বাংলাদেশে আসবে,,,নিরবের আসার কথা শুনে নিরা তো খুশিতে লাফালাফি শুরু করে দেয়,,,সে ভেবেছিল নিরব তাকে আগের মতো স্নেহ দিয়ে আগলে রাখবে,,,নিরিবের মা কিছু বললে আগের মত প্রতিবাদ করবে,,,কিন্তু সে ভুল ছিল,,কারন নিরব যে আগের মতো নেই,,,,
,
,
,
,
,
____তোর পেটের রঙ তো অনেক সাদা,,,কি মাখিস রে গায়ে,,,
ঘরের অনেকগুলো কাজ করে নিরা সবে মাত্র বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অতীতের কথা ভাবছিল,,,হঠাৎ এমন কথায় চমকে উঠে,,,,, পেছনে ফিরতেই সে আরেকদফা চমকে যায়,,, কারন নিরব তার একদম কাছে দাঁড়িয়ে আছে,,,,তাদের মধ্যে মাত্র ২-৩ ইঞ্চির ফাঁক,,,,, নিরবের মুখে কেমন যেন এক রহস্যজনক বাঁকা হাসি,,,নিরা কিছু বুঝে উঠার আগেই নিরব নিরার বুক থেকে শাড়ির আঁচল ফেলে দেয়,,,,ফ্লোরে বসে ২ হাতে আবদ্ধ করে নেয় নিরার কোমড়,,,তারপর অসহ্র চুমু দিতে শুরু করে নিরার পেটে,,,কিন্তু তাতে কোনো ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে না,,, প্রকাশ পাচ্ছে শুধু ঘৃণা,,,,,

আচমকা এভাবে পেটে চুমু দেওয়ায় নিরার খুব অসস্তি লাগছে,,,,কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভয় কাজ করছে,,,

___নিরব কি আবার কালকের মতো আমার সাথে......!

ভেবেই ভয় আরও দ্বিগুণ বেড়ে যায় নিরার,,, ইতোমধ্যে হাত পা কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেছে,,,,তাছাড়া তারা এখন বারান্দায়,,,কেউ যদি তাদের এ অবস্থায় দেখে ফেলে তাহলে মারাত্তক পরিস্থিতে পরতে হবে তাদের,,,,কিন্তু এতে নিরবের কোনো খেয়াল নেই, সে তো নিরার পেটে চুমু দিতে.....চলবে

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।