আপুর বান্ধবী যখন বউ - পর্ব (৭)

তারপর বাসার দিকে রওনা দিলাম,

বাসায় এসে বসে আছি,
না নিজেকে যেভাবেই হোক সামলিয়ে নিতে হবে,,
বিকালে একা একা বসে আছি, এমন সময় সাইদ আসলো।

সাইদ ঃ কিরে একা একা বসে আছিস কেন।
আমি ঃ তো কাকে নিয়ে বসে থাকবো।
সাইদ ঃ এখনি হেরে গেলি, নিজের সময় পিছিয়ে গেলি, অন্যের সময় তো ঠিকি এগিয়ে যাস।
আমি ঃ আরিফা আমাকে পাগলের মত ভালবাসে, কিন্তু কিছু করতে পারছে না, তাই আমরা দুজন নিরব হয়ে গেছিরে।
সাইদ ঃ বিয়ে ঠিক হয়েছে কিন্তু বিয়ে তো হয়নি।






আমি ঃ পাগলামো করে লাভ কি, আরিফা যদি আসতো তাহলে না হয় পরিবারের কাছে গিয়ে বললাম কোন কিছু একটা করতে।২
সাইদ ঃ দোস্ত আমি বলি কি তুই বরং লাস্ট একটা চেষ্টা কর।
আমি ঃ কি চেষ্টা,
সাইদ ঃ তুই বরং কয়েক দিনের জন্য হারিয়ে যা , মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখ, বাসার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করেদে।
আমি ঃ তাহলে কি হবে।
সাইদ ঃ তোর বাসার সবাই আরিফার মা বাবাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করাবে।
আমি ঃ সেবেনআপ খেয়ে মাতাল হতে বলছিস।
সাইদ ঃ এছাড়া কোন উপায় নেই।
আমি ঃ না থাকলে নাই, পরিবারের সাথে ব্ল্যাকমেইল করতে পারবো না।
সাইদ ঃ তোর ইচ্ছা, নিজের কষ্টটা চেপে ধরে রেখেদে, প্রতিমাসে কষ্টের যে সুদ আসবে তা দিয়ে জীবন চালাবি।
আমি ঃ সাইদ পরিবারের মান সম্মান আমার জন্য নষ্ট হওয়ার চেয়ে আমি মরে যাবো।
সাঈদ আমার দিকে তাকিয়ে আছে, দেখতে পেলাম ওর চোখের কোনে হাল্কা পানি আসছে।
আমি ঃ কিরে সাইদ কাঁদছিস কেন।
সাইদ ঃ তুই অন্যের ভালবাসার জন্য কত অভিনয় করতে পারিস আর নিজের বেলায় এত কঠিন হিসাব করতে পারিস।
আমি ঃ এইসব কথা বাদদে,। এমন সময় আরিফা ফোন করলো।
আরিফা ঃ আমিরুল তুমি কোথায়।
আমি ঃ এইতো বন্ধুদের সাথে আডডা দিচ্ছি।
আরিফা ঃ ও, তুমি তো খুশি মনে হয়, তাই বন্ধুদের সাথে আডডা দাও।
আমি ঃ খুশি হবার মতই কথা।

আরিফা ঃ তুমি কী আমার সাথে রাগ করলা না কি।
আমি ঃ আমি রাগ করলেই কী, তোমার  কিছু আসে যায়।
আরিফা ঃ একটু বাসায় আসো, তোমাকে নিয়ে আজকে গহনা কিনতে যাবো, সাথে আনিছ ভাই যাবে।
আমি ঃ মাঝখানে আমাকে টানাটানি করছো কেন, খাবাব মে হাডডি হতে চাইনা।
আরিফা ঃ তেরে কো কিসনে ভোলা কে তু কাবাব মে হাডডি হ।
আমি ঃ কোয়ী নেহি ভোলা, মেনে সামাজ লিয়া,।
আরিফা ঃ তু ইস ওয়াক্ত কুচ জিয়াদা ছোচ লিয়া,।
আমি ঃ আমি আসতে পারবো না।
আরিফা ঃ তাহলে আমি হাত কাটবো।
আমি ঃ কাটো।।
আরিফা ঃ তোর হাত কাটবো।
আমি ঃ তুমি আমাকে তুই তুই করে বলছো কেন।
আরিফা ঃ এমনি এখন আয় তো।
আমি ঃ আমি যাবো না, তুমি শপিং করবে কিন্তু মাঝখানে আমাকে কেন ডাকবে।
আরিফা ঃ বিয়ের আগে যেন আনিছ ভাই আমার কাছে গেসতে না পারে, সেটার প্রোটেকশন তুমি।
আমি ঃ বাহ তাহলে তো মনে হয় আনিছ ভাই অনেক রোমান্টিক, তোমাদের প্রতি বছর বাচ্চা হবে।
আরিফা ঃ হুম, আমি প্রতি বছর বাচ্চা নিয়ে বাচ্চার ফ্রাম দিবো, না হয় ফিসারী দিবো।
আমি ঃ হুম দিও।
আরিফা ঃ অনেক হয়ছে এবার আসো তো।
আমি ঃ তোমার বারান্দায় আসো, দেখো আমি চলে আসছি।
আরিফা ঃ ভিতরে আসো।
ভিতরে গিয়ে বসলাম, একটু পর আফিফা আসলো।
আফিফা ঃ hi আমিরুল কেমন আছো।
আমি ঃ ভালো তুমি কেমন আছো।
এমন সময় আরিফা নিচে আসলো।
আফিফা ঃ আমিরুল তোমার মোবাইল নাম্বারটা দিবে।

আমি ঃ কেন।
আফিফা ঃ কথা বলবো।
আমি ঃ নাম্বার দিলাম।
আরিফা আমাদের চেয়ে আছে।
আরিফা ঃ আমিরুল চলো শপিংয়ে যাবো।
আফিফা ঃ আমারো কিছু কেনাকাটা করতে হবে,
আরিফা ঃ আমরা তো গহনার দোকানে যাবো।
আফিফা ঃ আমারো তো গহনা দরকার।
আরিফা ঃ তুমি পরে গিয়ে কিনবে।
আফিফা ঃ ভাইয়া তোমাদের সাথে যাবে না,
আরিফা একটু রেগে গিয়ে
আরিফা ঃ তোর ভাই  নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে।
আফিফা ঃ তো তুমি যাবা ভাইয়ার সাথে আমিরুলের সাথে গেলে তোমার সমস্যা কোথায়।
আরিফা ঃ ঠিক আছে চলো।।
আমি মনে মনে বলি পাইছি আর কোন চিন্তা নাই, আরিফা কে দূর্বল করার যায়গা।
আফিফা হবে আমার তুরুপের তাস।
আফিফা আর আমি আবারো গাড়ির সামনে বসলাম।
আনিছ আর আরিফা আবারো পিছনে।
আফিফা ঃ আমিরুল ভাই রোমান্টিক একটা গান ছাড়েন।
আমি ঃ তুমি তোমার ফোন থেকে বাজাও ব্লুঠুথ চালু করে দিলাম।
আফিফা গান ছাড়লো।
তুমি আমায় এত ভালবাস সে কথা আগে তো বুঝিনি,,,,,,, তুমি আমার কেন কাছে আসো আমি তার মানে তো খুঁজিনি,,,
আফিফা ঃ আমিরুল তুমি দেখতে অনেক সুন্দর।
আমি ঃ তুমিও দেখতে অনেক সুন্দর, মনে হচ্ছে কোন পরী।
আফিফা একটু লজ্জা পেল,
 আরিফা ঃ তা পরীই যখন তখন ঢানা লাগিয়ে দাও।
আমি ঃ আমার স্বপ্নের পরী আরো বেশি সুন্দর, কিন্তু আমার স্বপ্ন গুলো মনে হয় স্বপ্নয় থেকে যাবে।
আফিফা ঃ আমিরুল তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে।
আমি ঃ আমার গার্লফ্রেন্ড আছে, তবে তাকে আটকানোর উপায় আমার জানা নেই।

আফিফা ঃ দেখেন আমিরুল ভাই আমি কোটি পতি বাবার মেয়ে,, আমি আমার মনের কথা চেপে রাখতে পারিনা, আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে ভাইয়ার বিয়ের পর আমি আপনাকে আমার বাবার সাথে দেখা করাতে চাই, আমি আপনাকে ভালবেসে ফেলেছি। আর আপনার বিষয়ে আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলেছি, কিরে ভাইয়া তোর সাথে কথা বলিনি।
আনিছ ঃ হ্যা আমিরুল তোমাকে দেখে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে, আর দেখলাম আরিফাও তোমার ফ্রেন্ড তাই আমি আর আপত্তি করিনি।
আমি একদম চুপ করে আছি,,
আরিফা ঃ এই তোমরা চুপ করবা প্লিজ।
আমি ঃ আনিছ ভাই গাড়িটা আপনি চালান, আমি পিছনে বসি।
আনিছ ঃ তোমার কি কোন সমস্যা হচ্ছে।
আমি ঃ হ্যা একটু মাথাটা ধরেছে।
আরিফা ঃ কখন থেকে তোমার মাথা ব্যথা করছে।
আমি ঃ এই তো কিছুক্ষণ।
তারপর পিছনে গিয়ে বসলাম।
আরিফা ঃ তোমার মাথা টিপে দেয়।
আমি ঃ দরকার নেই।
এরপর দেখলাম আমরা শপিং মলে এসে গেছি।
আমি ঃ তোমরা ভিতরে যাও, আমি গাড়িতেই থাকি।
আরিফা ঃ তুমি আমার সাথে চলো।


পর্বটা ছোট দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত,

পরের পর্ব দেখতে সাথেই থাকুন

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।