আপুর বান্ধবী যখন বউ - পর্ব (৩)

তানিশা ঃ তুই একটা দিন সময় মত উঠতে পারিস না
আমি ঃ তাই বলে তুই আমার গায়ে পানি ঢেলে দিবি, আমাকে একটা দিন আরাম ছে ঘুমাতে দিবি না।
তানিশা ঃ ঐ এত বকবকানি শোনার মত সময় আমার নেই। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ কর, কলেজে নিয়ে যাবি।
আমি ঃ আমাকে তুই ড্রাইভার পেয়েছিস নাকি, আমি আজকে কলেজে যাবো না।
তানিশা ঃ সেটা তোর ব্যাপার কিন্তু আমি যাবো আর তুই দিয়ে আসবি, এই নিয়ে কোন কথা হবে না।
আমি ঃ ঠিক আছে ঠিক আছে, যাহ , তুই আমি আসছি।







ফ্রেশ হয়ে নাস্তা শেষ করে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এমন সময় আরিফা আর আপু আসলো, আরিফা কে আজকে কোন রাজকন্যা মনে হচ্ছে,
তানিশা ঃ কিরে তুই এভাবে কি দেখছিস।
আমি ঃ কিছু না, উঠ।
তারপর আপু তার পর আরিফা দুজন উঠলো।
তানিশা ঃ আজকে কি তুই সত্যিই কলেজে যাবি না।
আমি ঃ না, আমি কলেজে গেলে মিজানের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
তানিশা ঃ কি ক্ষতি হয়ে যাবে।
আমি ঃ আজকেই মিজানের গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে আসবো তারপর ওদের বিয়ে দিবো‌।
আরিফা ঃ এখানে কি পালিয়ে বিয়ের কথা হচ্ছে নাকি
আমি ঃ আবাল কোন হানের এতক্ষণ কি বললাম তাহলে।
আরিফা ঃ এই তুমি তোমার আপুর সাথে যেভাবে কথা বলো সেভাবে আমার সাথে কথা বলবে না।
আমি ঃ কেন এভাবেই বলবো।
আরিফা ঃ আমি তোমাদের স্পেশাল মানুষ।
আমি ঃ কিভাবে ।
আরিফা ঃ আমি তোমাদের মেহমান।
আমি ঃ ডেরস, দুই টাকার মুরগি দশ টাকার মসলা।
আরিফা ঃ কি বললা।
আমি ঃ বললাম আপনি অনেক ভালো।
তারপর কলেজের সামনে নামিয়ে দিলাম।
তানিশা ঃ এখন কোথায় যাবি।
আমি ঃ শুভ কাজটা শেরে ফেলি।
আরিফা ঃ আমিরুল একটা কথা বলি।
আমি ঃ বলেন
আরিফা ঃ আমার না এইসব দেখতে ভালো লাগে, প্লিজ আমাকে নিয়ে যাবে।
আমি ঃ আরে ধরা খেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে, তখন আপনাকে নিয়ে পালাবো নাকি নিজের জীবন বাচাবো কোনকা করবো।
আরিফা ঃ তুমি কি ভিতু নাকি।

তানিশা ঃ আরিফা এইসব কাজ অনেক কঠিন কাজ তুই যাসনে।
আরিফা ঃ আরে দূর বোকা তোর মত এত বেরসিক নাকি, জীবনের প্রথম একটা সুযোগ পাবো তাও আবার হাত ছাড়া করবো নাকি।
আমি ঃ এই মিস আরিফা, আপনি কি জানেন এইসব ঘটনায় অনেক কষ্ট করতে হয়, আর ধরা পরলে মাইর একটাও মাটিতে পড়ে না, যদি দুইএকটা মাইর মাটিতে পড়ে তাহলে তা আবার উঠিয়ে পিঠে দেয়।
আরিফা ঃ তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে তুমি পারবা আমি জানি, তোমার চলাফেরা দেখেই বুঝা যায়।
আমি ঃ ঠিক আছে আমি যেভাবে বলবো সেভাবে থাকতে হবে।
আরিফা ঃ ঠিক আছে।
তানিশা ঃ তাহলে তোরা যা আমি কলেজে গেলাম, আর আমিরুল আরিফার যেন কোন ক্ষতি না হয়।
আমি ঃ বেশি পেঁচাল পারবি না।
তারপর আরিফা কে নিয়ে আমাদের আডডা দেওয়ার যায়গায় গেলাম, সাইদ আগে থেকেই রেডি হয়ে আসছিলো।
সাইদ ঃ কিরে তুই এত দেরী করলি কেন ।
আমি ঃ এমনি একটু সময় লাগছে।
সাইদ ঃ ধারা ধারা আমরা তো জানি তুই প্রেম করস না, তা সাথে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আসছিস,
আমি ঃ তুই সব সময় নেগেটিভ ভাবিস উনি আমার আপুর বান্ধবী আরিফা আপু।
সাইদ ঃ সরি আপু কিছু মনে করবেন না আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।
আরিফা ঃ ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই,তারপর সাইদ ওর বাইক দিয়ে যাচ্ছে আমি আর আরিফা এক বাইক দিয়ে যাচ্ছি।
আরিফা ঃ আমিরুল তোমার গার্লফ্রেন্ড নাই।
আমি ঃ না, আমার কাছে এইসব প্রেম ভালবাসা করার মত ইচ্ছা নাই, তারপরেও হয়তো বা এক দুইটা প্রেম হয়ে যেত কিন্তু আপুর জন্য আর সম্ভব হয় না।
আরিফা ঃ ও তা তানিশা তোমাকে ভালবাসতে না করে নাকি।
আমি ঃ না তবে আপু মা বাবা যাকে পছন্দ করবে আমি তাকেই বিয়ে করবো, ছোটদের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ নয়।
আরিফা ঃ আমিরুল আমি সত্যিই তোমাকে অনেক বাজে মনে করতাম কিন্তু তোমার মনটা অনেক ভালো।
আমি ঃ ধন্যবাদ আপনাকে।
আরিফা ঃ তোমার না আজকে ফোন কিনতে যাবার কথা।
আমি ঃ যাব তো এই কাজটা শেষ করেই যাবো।
এসব কথা বলতে বলতে মিজানের মামার বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম,।
আমি ঃ আরিফা তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকো আমি আসছি।
আরিফা ঃ আমিও ভিতরে যাবো।
আমি ঃ তুমি গেলে সব লেটাচুখে যাবে।
আরিফা ঃ আমি এখানে সব কিছু দেখার জন্য এসেছি।

আমি ঃ ঠিক আছে চলুন কিন্তু অতিরিক্ত কোন কথা বলতে পারবে না, আর আমি যেভাবে বলবো সেভাবেই থাকতে হবে।
আমি সাইদ আর আরিফা ভিতরে গেলাম,
আমি ভিতরে গিয়ে খালাম্মা খালাম্মা বলে চিৎকার দিতে লাগলাম, এমন সময় দুইকা মহিলা ঘর থেকে বের হয়ে এলো, আমি পায়ে সালাম করে বলতে থাকলাম।
আমি ঃ খালাম্মা আপনারা গতকাল আমার জীবন বাঁচিয়েছেন আপনাদের কে একবার দেখতে এলাম।
মহিলা ঃ থাক বাবা থাক বেঁচে থাকো, গতকাল তোমরা দুজন এখানে যে অবস্থায় এসেছো তাতে আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, তোমার তো গেন ফিরছিলো না,
অন্য মহিলা ঃ আসলে ভাবি আমারো ভয় লেগেছিল, আমার তো মনে হয় এই যায়গাটা ভৌতিক ভাবে প্রভাবিত।
মহিলা ঃ তা তোমরা দুজন তো গতকাল আসছিলে এই এই মেয়ে তো আসেনি,,
আমি ঃ খালাম্মা আমি একে এর বাবার বাড়ি থেকে পালিয়ে নিয়ে এসেছি, একটু আগেই বিয়ে করেছি , আর গতকালের ঘটনা ওকে বললেই ও আপনাদের এক পলক দেখার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল, তাই নিয়ে এলাম, তা খালাম্মা গতকাল একজন আপু কে দেখেছিলাম তার মোবাইল দিয়ে আমার মোবাইল খোঁজ করে পেয়েছিলাম সে কোথায়, তাকে একটা ধন্যবাদ দেওয়া আমার খুব প্রয়োজন।
মহিলা ঃ ধারাও আমি ঠেকে দিচ্ছি দেখা করে যাও আর শোন পালিয়ে বিয়ে করা ঠিক না, এটা তুমি ভুল করেছো।
এমন সময় মিজানের গার্লফ্রেন্ড এলো,
আমি আরিফা কে বললাম যাও তুমি আপুর সাথে একটু কথা বলো আর তার জন্য আনা গিফ্টটা দাও আরিফা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,।
আমি ঃ তাকিয়ে থেকো না, আমার দিকে তাদের জন্য আমার জীবন বেঁচেছে তাকে তুমি আনা গিফ্টটা দাও।
তারপর আরিফা বাহিরে নিয়ে গেলো, আমি সাইদ ওয়াশ রুমে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির পিছনের দেয়াল টপকে বাহিরে চলে গেলো,
কিছুক্ষণ পর আমি বলতে লাগলাম।

আমি ঃ নাহ আরিফাকে দিয়ে কিছু হবে না, এতক্ষণ কি গল্প করছে,,
এই কথা বলে আমি বাহিরে চলে এলাম, মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে আমরা উধাও।
আরিফা আমার পিছনে আর সাইদের পিছনে মিজানের গার্লফ্রেন্ড।
৩০ মিনিটের রাস্তা আমরা ২০ মিনিটেই কাবার করলাম।
তারপর মিজান কে ফোন করে বললাম কাজি অফিসে আয়।
মিজান কাজি অফিসে এলেই বিয়ের কাজ শেষ করে মিজান কে বললাম তোর বউ মানে ভাবিকে  তোর বাসায় নিয়ে যা আর যদি তোর মা বাবা মেনে না নেয় তাহলে আমাদের বাসায় চলে আসবি কিছু দিন থাকার পর সব কিছু একটা মেনেজ করে দিবো ইনশাল্লাহ।
আর এখন চল সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া শেষ করবো।
মিজান ঃ ভাই তুই আমার জীবন বাঁচিয়েছিস আমি আজকে নিয়ত করে ছিলাম ওকে না পেলে মরে যেতাম, আর তরাও গতকাল বাজে ব্যবহার করেছিলি।
সাইদ ঃ আবে শালা আমিরুল গতকাল যে কাহিনী করছে আমার সারাজীবন মনে থাকবো।
আমি ঃ কিরে ভাই এখানেই দাড়িয়ে থাকবি নাকি, আমার পেটে ইঁদুর বাদুর বাঘ সিংহ দৌরাচ্ছে, এখন রেস্টুরেন্টে চল।
মিজান ঃ চল আমারো খুদা লাগছে।
তারপর রেস্টুরেন্টে গেলাম।
মিজান আর ওর বউ একসাথে বসেছে।
সাইদ একপাসে,
আমি আর আরিফা এক পাসে,
মিজান ঃ বাজেট কম, আমার দিকে একটু খেয়াল রেখে অর্ডার করিছ।
সাইদ ঃ হো আজকে তোর বিয়ের খাবার খাবো তো কম কেন খাবো দরকার হলে আজকে তকে বন্দক দিয়ে যাবো, তারপরেও কষ্টের প্রতিসোধ নিবো।
আরিফা ঃ সমস্যা নাই তোমরা খাও যদি টাকা লাগে আমি দিবো।
মিজানের বউ ঃ আমার কাছে আছে আপনারা খান কোন সমস্যা নেই, আর মিজান তুমি সব সময় কিপটামি করো কেন, আমাকে কোন দিন ভালো করে খাওয়ালেনা, আজকেও খেতে দিবে না নাকি।
আমি ঃ ঐ তোমরা হরতাল বন্ধ করো, যার যাহ  লাগে অর্ডার করো, এরপর অর্ডার করা শুরু করলাম, খাওয়া দাওয়া শেষ ১০ হাজার বিল হয়ছে,
মিজান  কষ্ট করে ৭ হাজার দিলো বাকিটা মিজানের বউ দিলো।

তারপর বাসার দিকে রওনা দিলাম
আমি আর আরিফা একসাথে আসছি।
আরিফা ঃ ঐ সময় তুমি ঐ কথা বললে কেন।
আমি ঃ কোন সময় কোন কথা বলছি।
আরিফা ঃ ঐ সময় বললা আমি তোমার বউ, এই কথা না বলে অন্য কোন কথা বলতে পারতে।
আমি ঃ যায়গা বুঝে কথা বলছি, আর সেই জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।
আরিফা ঃ ঠিক আছে, তুমি তোমার বন্ধুর প্রেমের জন্য এত কিছু করো নিজে প্রেম করো না এইটা কেমন কথা।
আমি ঃ কোচ কখনো মাঠে নামে না, আমি ওদের কোচ বুঝলা।
আরিফা ঃ আচ্চা তুমি কি আমার বন্ধ হবে,।
আমি ঃ কেন।
আরিফা ঃ কেন আমরা কি বন্ধ হতে পারিনা।
আমি ঃ তুমি তো আমার চেয়ে বড়।
আরিফা ঃ তাতে কি, আমার যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে তোমার সমস্যা হবে কেন।

আমি ঃ ঠিক আছে আজ থেকে আমরা বন্ধু।
তারপর বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে একটা ঘুম দিলাম।
সন্ধ্যায় আরিফার ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেল।
আমি ঃ কি হলো ডাকছো কেন।
আরিফা ঃ তুমি না মোবাইল কিনতে যাবে, আর আমারো কিছু কেনাকাটা করবে হবে






চলবে,,,,,,,,,,,,, ।

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।