আপুর বান্ধবী যখন বউ - পর্ব (৫)

আরিফা ঃ আমাকে দুইদিন সময় দাও আমি ভেবে বলছি।,
আমি ঃ তোমার যতদিন সময়। লাগে সময় নাও।
তারপর আমি আমার রুমে চলে আসি, আমারো তো একটু দেখা দরকার কেমন ভালবাসে, আবেগের বসে সে কি বিবেক কে বিসর্জন দিতে পারে কিনা।
গোসল করে একটা লম্বা ঘুম দিলাম, দুপুর বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাহিরে যাচ্ছি এমন সময় দেখি আরিফা ডাকছে।





আমি ঃ কিছু বলবা।
আরিফা ঃ হ্যা তোমাকে নিয়ে আমি একটু বের হতে চাই,।
আমি ঃ কোথায় যাবে।
আরিফা ঃ তুমি রেডি হও আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি, এখন কিছু জানতে চেয়ে না তো।
আমি ঃ ঠিক আছে আমি আসছি, ৫ মিনিট সময় দাও।
রেডি হয়ে নিচে গেলাম, আরিফা আগে থেকেই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমি ঃ হুম চলো।
তারপর বাহিরে গিয়ে একটা রিক্সা নিয়ে যাচ্ছি, রিক্সা থেকে নামলাম একটা এতিম খানার সামনে, ভিতরে জেতেই অনেক গুলো বাচ্চা এসে আরিফার চার দিকে ভির করলো,
মনে হয় আরিফা এদের অনেক আপন।
আরিফা আমার দিকে আঙুল তুলে বলছে ঐ যে তোমাদের ভাইয়া, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাচ্চা গুলো আমার কাছে ছুটে আসলো।
তারপর বাচ্চাদের সাথে বসে সময় পার করলাম,
সন্ধ্যার দিকে একটা গাড়ি এলো গাড়ি থেকে একটা লোক এসে আরিফাকে বললো
লোক ঃ মেডাম খাবার এসে গেছে, এখন কি বাচ্চাদের কে খাবার দিয়ে দিবো।
আরিফা ঃ সবাইকে খাবার দাও।
এমন সময় আরিফা আমার কাছে এসে বলল এদের সাথে বসে খেতে তোমার কোন আপত্তি আছে, দেখো এদের সাথে খেলে অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করবে অনেক শান্তি পাবে।
আমি ঃ আমার কোন সমস্যা নাই, তা ছাড়া আমি প্রতি বছর এমন বাচ্চাদের সাথে বসে খাবার খায়।
আরিফা ঃ তাহলে ঠিক আছে তুমি আমার সাথে বসে খাবে।
তারপর আমি আরিফার পাসে বসে বাচ্চাদের সাথে খাচ্ছি, মাঝে মাঝে আরিফার দিকে তাকিয়ে আছি, আরিফা কিন্তু একবারো আমার দিকে তাকালো না।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাহিরে বসে আছি।
আরিফা ঃ এখানে বসে আছো কেন তোমার কী মন খারাপ।
আমি ঃ না, অনেক ভালো লাগছে, সত্যিই অনেক আনন্দ লাগছে।
আরিফা ঃ এখন চলো সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়।
তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসার সময় এতিমখানার চাচা বলছে।
চাচা ঃ আরিফা মা তুমি আবার কবে আসবে।

আরিফা ঃ সঠিক বলতে পারি না, তবে যদি আমি না আসতে পারি তাহলে এখন থেকে প্রতিমাসে আমিরুল আসবে।
চাচা ঃ ও তাহলে ঠিক আছে ভালো থেকো মা, ভালো থেকো বাবা।
তারপর বাহিরে এসে রিক্সা নিয়ে আবার বাসার দিকে রওনা দিলাম।
আরিফা আজকে প্রয়োজন ছাড়া কোন কথা বলছে না, আগের মত চঞ্চলতা তার ভিতরে আমি দেখলতে পাচ্ছি না,
তবে বাচ্চাদের সাথে অনেক হেসে হেসে কথা বলেছে, নিরবতা ভেঙ্গে আমি প্রশ্ন করলাম।
আমি ঃ আরিফা এখানে তুমি কতদিন পর পর আসো।
আরিফা ঃ যখন আমার মন ভালো থাকে না তখন আসি, এই এতিম খানাটা বাবা বানিয়েছে, অনেক গুলো বাচ্চা এখানে থাকে আর লেখা পড়া করে, আমাদের বাসার কেউ গেলে ঐদিন বাহির থেকে খাবার নিয়ে যাওয়া হয়, আর না হলে ওখানেই রান্না করা হয়,
পুরোটাই বাবা নিজের হাতে সামলান আমাদের সাথে ফোন করে কথা না বললেও এতিম খানার খোঁজ খবর ঠিকি রাখেন।
আমি ঃ ও, তাহলে আমার মনে হয় তোমার বাবা অফিসে অনেক ভালো মানুষ।
আরিফা ঃ হুম।
আরিফা ঃ আচ্চা আমিরুল ঐ সময় কি কথাটা তুমি সিরিসলি বলে ছিলে নাকি মজা করেছিলে।
আমি ঃ কোন কথা বলছো তুমি।
আরিফা ঃ এক রাতের কথা।
আমি ঃ সিরিয়াস ভাবেই বলেছি।
আরিফা ঃ তাহলে আমি চিন্তা করে ফেলেছি, তোমার কথায় আমি রাজি, আমার কোন আপত্তি নেই।
আমি ঃ তোমার কি মাথা ঠিক আছে।

আরিফা ঃ তোমার মনের আশা পূরণ করলাম আরকি।
এমন সময় রিক্সা বাসায় এসে পড়লো।
রিক্সা ভাড়া মিটিয়ে রুমে চলে এলাম।
এমন সময় মিজান ফোন করে বললো যে তার বাবা মা তাদের বিয়েটা মেনে নিয়েছে, আর আগামীকাল তাদের বউভাত অনুষ্ঠান, তাই আমাকে রাতেই মেতে হবে।
আমি ঃ মিজান আমি আগামীকাল সকালে আসবো এখন আশতে পারবো না।
মিজান বললো তোর বাসার দরজাটা খোল আমি বাহিরেই দাড়িয়ে আছি।
দরজা খুলে দেখি মিজান আর মিজানের বউ দাড়িয়ে আছে

আমি ঃ ভিতরে আয়।
মিজান ঃ শোর সামনে থেকে, ভিতরে গিয়ে চিৎকার দিতে আরিফা আপু একটু বাহিরে আসেন।
আরিফা ঃ আরে মিজান কেমন আছো তোমরা।
মিজান ঃ আপু আমরা একদম ভালো আছি, আমাদের দুজনের পরিবার থেকে আমাদের বিয়েটা মেনে নিয়েছে, আগামীকাল আমাদের বাড়িতে অনুষ্ঠান তাই আপনাকে দাওয়াত দিতে এলাম,  আপনি কিন্তু আসবেন।
তারপর আমাদের বাসার সবাই দাওয়াত দিলো।
সবাই খুশি।
মিজান ঃ আমিরুল চলিরে।
আমি ঃ ঠিক আছে যা ভালো থাকিস।
তারপর রুমে গিয়ে কাপড় চেঞ্জ করে ছাদে গেলাম।
চিন্তা করছি আগামীকাল আমি মিজানের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবো না। আমার বাড়িতে এলো সবাইকে দাওয়াত দিলো সামনা সামনি আমাকে মোবাইলে বলল আর সরাসরি বলল না, তাই যাবো না।
এমন সময় আরিফা ছাদে আসলো।
আমি ঃ কিছু বলবে।

আরিফা ঃ না মন ভালো লাগছে না তাই ছাদে চলে এলাম।
আমি ঃ তাহলে তুমি বসো আমি আসি।
আরিফা ঃ আমার পাশে বসো।
আমি ঃ না আমি ঘুমিয়ে পড়বো।
আরিফা ঃ আমি রাজি তুমি যায়গা ঠিক করো।
নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না।
আমি ঃ আরিফা তুমি কি বলছো তা তুমি জানো।৩
আরিফা ঃ হুম আমি জানি, আমার কোন সমস্যা নাই, তুমি তো দেহ চাও, আর আমি তোমার মন চাই , তুমি না হয় দেহটা নিলে, তার বিনিময়ে আমাকে তোমার মনটা দিবে।
চুপ করে নিচে চলে এলাম এখানে আরিফার কোন দোষ নেই, সব টুকু আমার দোষ।
কোন চিন্তা না করে বাহিরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে দিলাম, আরিফার কথা গুলো কানে বাজতে থাকলো (  তুমি তো দেহ চাও, আর আমি তোমার মন চাই, তুমি না হয় আমার নিলে, তার বিনিময়ে আমাকে তোমার মনটা দিবে)
কথাটা বারবার কানে বাজতে থাকলো,
আমি আর কোন কিছু চিন্তা করতে পারছিনা, ২
বাসায় গিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু চোখে ঘুম আসছে না।
তাই আবার ছাদে গেলাম, ছাদে গিয়ে দেখি আরিফা দাড়িয়ে আছে।
আমি ঃ এত রাতে তুমি ছাদে কি করো।
চোখ মুছতে মুছতে আরিফা বললো।
আরিফা ঃ এমনি ঘুম আসছিলো না তাই একটু ছাদের খোলা আকাশ দেখতে এলাম।
আমি ঃ আকাশে মেঘ করেছে বৃষ্টি আসবে রুমে যাও।

আরিফা ঃ আকাশের বৃষ্টি দেখা যায় কিন্তু মনের মাঝে তুফান এলেও তা দেখা যায়না।
আমি ঃ একটা কথা বলবো ।
আরিফা ঃ বলো তোমার কিছু বলার বাকি থাকলে বলতে পারো।
আমি ঃ না থাক, তুমি বরং রুমে যাও।
আরিফা ঃ থাকবে কেন বলো কি বলতে চাও।৬
আমি ঃ না এমনি তুমি বরং ঘুমাতে যাও।
হটাৎ বজ্রপাতের আওয়াজে আরিফা আমাকে জড়িয়ে ধরেছে আমিও কিছুটা ভয় পেয়ে আরিফা কে ঝড়িয়ে ধরেছি।
কিছুক্ষণ পর আমি আরিফাকে ছাড়িয়ে  বলি সরি আসলে আমি হঠাৎ করে এমন হবে বুঝতে পারিনি।।
আরিফা ঃ আমিও অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
আমি ঃ তাহলে এবার রুমে যাও।
আরিফা ঃ একটা কথা বলবো ।
আমি ঃ বলো ।
আরিফা ঃ মানুষ কখন মরে যায় তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই, আজকে যদি বৃষ্টি হয় তুমি আমার হাত ধরে একটু ভিজতে পারবে।
আমি ঃ তোমার মাথা ঠিক আছে, এত রাতে ভিজলে ১০০% ঠান্ডা লাগবে।
আরিফা ঃ ঠান্ডা লাগবে না।
এমন সময় অঝোর বৃষ্টি ঝরতে শুরু করলো, আমি নিচের দিকে রওনা দিলাম আরিফা আমার হাত ধরে থামিয়ে দিলো।
আমি আর কিছু বললাম না।
আমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে, চারদিক কেমন যেন অন্ধকার হয়ে গেছে, আবার বাজের আওয়াজ, আবারো ঝড়িয়ে ধরা তার আবার ছেড়ে দিলাম।
আমি আরিফার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি, ওর চোখ মনে হয় কিছু বলতে চাচ্ছে, চোখের ভিতরে মনে হচ্ছে অনেক গভির যেখানে অজানা অনুভূতি আর বুঝাতে না পারার কষ্ট, আবার হারানোর ভয়,
আমি নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলাম কিন্তু পারছি না, কোন এক অজানা নেশায় আসক্ত হয়ে আছি আমি, কতক্ষণ ছিলাম তা জানিনা,
রাত ৩ টার দিকে তানিশা ছাদে এলো এসে দেখে আমি আর আরিফা চোখের দিকে দুজন তাকিয়ে আছি, কেউ কোন কথা বলছি না,
এরপর তানিশা এসে আমাকে একটা চর মেরে বললো একটা মেয়ের সর্বনাশ করতে তোর গায়ে বাঁধলো না।
আমি ঃ কি সর্বনাশ করলাম রে আমি ।
আরিফা ঃ তানিশা তুই এখানে এলি কেন। আর আমিরুল আমার কোন সর্বনাশ করবে কেন।
তানিশা ঃ এখন কয়টা বাজে, খবর আছে তোর।
আরিফা ঃ ১১ টা ১২ টা হবে।
তানিশা ঃ এখন রাত ৩ টা বাজে।
আমি ঃ তুই আমাকে মারলি কেন।
তানিশা ঃ তুই আমার সাথে কোন কথা বলবি না।
আমি ঃ তোর সাথে কথা আমি বলতে চাচ্ছি না, তুই আমাকে মারলি কেন।
তানিশা ঃ তুই তোর কাজের জন্য মার খাইছোস।
তারপর আমি রুমে চলে এলাম অনেক ঠান্ডা লাগছে,
আর এতক্ষন কিভাবে গেল, তিন চার ঘন্টা এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম তা আমি জানি না, এটাকি কোন ঘর ছিলো। নাকি আমি আরিফাকে ভালবেসে ফেলেছি,
এইসব চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম,
সকাল ১০ দিকে ঘুম ভাঙলো,
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম, বাসার সবাই মনে হয় কোথাও যাবে।২
তারপর মনে পড়লো মিজানের বউ ভাত অনুষ্ঠানে যাবে মনে হয়।
আরিফা ঃ আমিরুল তুমি যাবে না মিজানদের অনুষ্ঠানে।

আমি ঃ না আমি যাবো না।
আরিফা ঃ তাহলে আমিও যাবো না।
আমি ঃ তুমি যাও, আর না গেলে মিজান মন খারাপ করবে,
আরিফা ঃ তুমি না গেলে মন খারাপ করবে না।
আমি ঃ না, কারণ আমি আরো পড়ে যাবো।
আরিফা ঃ আমি তোমার সাথে যাবো।
এমন সময় মা বাবা তানিশা সবাই বলছে আমিরুল আরিফা তোমরা আসো।
আমি ঃ আমি একটু পরে যাবো।
মা ঃ তোর ফাইজলামি বাদদে এখন চল।
আমি ঃ আমি তো যাবার জন্য রেডি হয়নি।
মা ঃ তাহলে রেডি হয়ে চলে আসিস, আরিফা চলো আমরা যায়।
আরিফা আর কোন কথা বলল না, আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেল মায়ের সাথে।
তারপর আবার গোসল করে নীল রঙের পান্জাবী পড়ে চলে গেলাম।

গিয়ে দেখি অনেক মানুষ এসে গেছে, দুপুরের খাবার সময় খাবার খাচ্ছি এমন সময় একটা ছেলে আরিফার উরনা ধরে টান মারে, আমি ছেলেটার কাছে গিয়ে বললাম তুমি কি ইচ্ছা করে টান মারছো নাকি এমনি হয়ে গেছে।
ছেলেটা বললো কি জিনিস ভাই ইচ্ছা করেই দিছি। ২২২
আমার মাথা নষ্ট হয়ে গেল,
লাথি ঘুষি চর থাপ্পর যেভাবে পারছি মারছি,
কয়েক জন ফেরানোর চেষ্টা করছে,
আমি ঃ ছেলে আর আমার মাঝে যেই খা,,,,,,,,,,না,,,,,,,,,কি,,,,,,,,,,র,,,,,প,,,ো,,,,,লা,,,,,,,,,আসবি ঐটারে সহ দিমু,,,,,,,,,,,,,,মা,,,,,,,,,,দা,,,,,,,,,,র,,,,,,,প,,,,,,,,,,ল,,,,,,
ইচ্ছা মত কিছুক্ষণ দেওয়ার পর
মিজান ঃ কিরে তুই আমার মেহমান কে মারিস কেন।
আমি ঃ তোর মেহমান আরিফার উরনা ধনে টান মারছে,,, খা,,,,,,,,,,,না,,,,,,,,,,,প,,,,,,,,ল,,,,,,,,র,,,,, কত বড় সাহস এর আবার আমাকে বলে যে কি জিনিস ।
মিজান ঃ ভাই বুঝতে পারে নাই, ছাইড়া দে,,, তারপর মিজান ছেলেটাকে বলল আরিফার কাছে ক্ষমা চাইতে।
ছেলেটা আরিফার কাছে ক্ষমা চাইছে
আরিফা ঃ থাক ভাই আর কখনো এমন করোনা।
ছেলেটা ঃ আপু জীবনেও করবো না।
আমি ঃ তুই কর চায় না করে তাতে আমার কিছু যায় আসে না, আমার পরিচিত কারো সাথে করলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা রাখবো না, ইনশাআল্লাহ।
তারপর আমি খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে ছেলেটা কে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম,,
আসলে রাগ উঠলে মাথা ঠিক থাকে না, ঐ জন্য এমন করি,,
হাসপাতাল নিলে বলে পুলিশ কেইস
আমি ঃ ইভটিজিং করতে গিয়ে ধরা খাইছে, তাই এমন হয়ছে,, কি কি লাগবো বলেন, আমি করে দিচ্ছি।
ডাঃ থানায় ইনফরমেশন করতে হবে,
আমি ঃ এখন আপনাকে মারবো তারপর আপনি থানায় যাবেন পুলিশ আসবে তদন্ত করবে, আমি পুলিশ কে ঘুষ দিয়ে পাঠিয়ে দিবো,
তারপর আবার আরেকটা তদন্ত কমিটি গঠন হবে, যে এই কমিটি ঠিক মত কাজ করেছে কিনা, তারপর তোর চিকিৎসা হবে,,
ডা ঃ বুঝতে পারছি ভাই ধারান আমি চিকিৎসা করছি।
তারপর ছেলেটা কে হাসপাতালে দিয়ে আসলাম, আসার আগে দেখলাম ছেলেটার মা আসছে এসে কান্না করছে,
তারপর আমি বললাম আমি আপনার ছেলে কে মেরেছি পারলে ক্ষমা করে দিয়েন,,
ছেলেটার মা ঃ আল্লাহ তোলর শরীরে কিরা পড়বে, তুই আমার ছেলেটাকে মারছিস।
আমি ঃ আন্টি আপনি ধারান আমি আসছি।
তারপর এক পেক রক্ত দিয়ে চলে আসলাম
রাতে বাসায় আসলাম।

কেউ আমার সাথে কথা বলছে না, কারণ আজকেও মারামারি করছি।
আর আমি এটাও জানি আজকে আমার খাবার বন্ধ।
কি আর করবো না খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম,
রাত ১২ দিকে আরিফা কল দিছে।
আমি ঃ কিছু বলবা।
আরিফা ঃ একটু ছাদে আসো।
আমি ঃ কিসের জন্য।
আরিফা ঃ এমনি তুমি আসো।
আমি ঃ ঠিক আছে।
তারপর ছাদে গিয়ে দেখি আরিফা খাবার নিয়ে ছাদে বসে আছে।
আমি ঃ কি ব্যপার ছাদে আসতে বললা কেন।
আরিফা ঃ খাবারটা খেয়ে নাও,।
আমি ঃ এইটা কার খাবার।
আরিফা ঃ তোমার জন্য লুকিয়ে রাখছিলাম।
আমি ঃ আমার মাথায় হাত দিয়ে বলো এইটা কার খাবার।
এইবার আরিফা বললো।
আরিফা ঃ এইটা আমার খাবার, রাতে রুমে খাওয়ার কথা বলে নিয়ে আসছিলাম।,
আমি ঃ তুমি খাও, আমি খাবো না।
আরিফা ঃ তাহলে খাবার গুলো নিচে ফেলে দেয।
আমি ঃ না তুমি খাও।
আরিফা ঃ যদি তুমি নিজের হাতে খাওয়াতে পারো তাহলে খাবো,
 আমি ঃ পারবো না।
আরিফা ঃ আমার না রাতে না খেয়ে থাকতে অনেক কষ্ট হয়, তাই বলছিলাম তুমি যদি নিজের হাতে খাইয়ে দিতে।
আমি ঃ তোমার হাতে কি হয়ছে।
আরিফা ঃ তুমি যদি নিজের হাতে খাইয়ে দিতে পারো তাহলে তুমি তা চাইবে তাই পাবে।
আমি ঃ তুমি শিউর ।
আরিফা ঃ হুম।
তারপর আরিফা কে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছি একটু পর আরিফাও আমাকে খায়ে দিচ্ছে।,, এভাবে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম,,
পানি দিয়ে হাত পরিস্কার করলাম।
আরিফা ঃ একটা কথা বলি।
আমি ঃ বলো,
আরিফা ঃ ঐ ছেলেটা আমার উরনা ধরে টান দিছে তাঁর জন্য তোমার এতো খারাপ লাগলো কেন।
আমি ঃ জানি না।
আরিফা ঃ তুমি কি আমাকে ভালবাসবো।
আমি ঃ জানি না।
আরিফা ঃ  আগামীকাল বাসায় চলে যাবো।
মা বাবাকে বলেছি তাই তারা একমাস না থেকেই চলে আসবে, আমি হয় তো আগামীকাল বিকালে চলে যাবো, আর একটা কথা তুমি বলছিলে না, বিয়ের আগে তোমার সাথে একরাত থাকতে আজকে আমি তোমার সাথে থাকবো।
আমি ঃ আরিফা তুমি ভুল ভাবছো আমি তো এত কিছু ভেবে বলিনি।
আরিফা ঃ শর্ত তো শর্তই ।
আমি ঃ আরিফা তুমি না একটু আগে বললা যে আমি তোমার কাছে তা চাইবো তাই দিবা তাহলে শোন আমি চাই তুমি সব সময় হাসি খুশি থাকো।
আরিফা ঃ আমিও চায় তুমি সব সময় আমার পাশে থাকো।
তারপর কিছুক্ষণ কথা বলে রুমে চলে গেলাম,,
সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারলাম আরিফা সকালে তার বাসায় চলে গেছে,
আগামী এক সপ্তাহ পর তার বিয়ে।
আমাদের বাসায় আরিফার বাবা মা আসছিলো আমি ঘুমিয়ে ছিলাম,,,,,
তাই আমার সাথে দেখা হয়নি।
আপু ঃ নে এবার তো তোর শান্তি,, আরিফা যাবার সময় অনেক কেঁদেছে মেয়েটার মুখের দিকে আমি তাকাতে পারিনি,, বার বার বলে গেছে আমি আমার ভালোবাসার মানুষ কে কখনো বুঝাতে পারিনি, আমি তাকে কতটা ভালবাসি।
মা ঃ আরিফা আমাকে সব কিছুই বলেছে, আর এই বিষয়টা তোর বাবাও জানে,,, আমরা ভেবেছিলাম তুই ওকে পছন্দ করবি কিন্তু তুই যেহেতু না করেছিস তাই আমরাও না করে দিয়েছি।
বাবা ঃ জীবনে আসল ভালবাসাটা তুই হারিয়ে ফেললি, আর মাত্র সাতদিন পর মেয়েটার বিয়ে হয়ে যাবে।
আমি কোন কিছু বলতে পারছিনা, কারণ নিজের অজান্তেই কখন যে আরিফাকে ভালো বেসে ফেলেসি তা আমিও জানি না, শুধু নিজের ইগোর কথা চিন্তা করে কিছু বলতে পারলাম না।
এমন সময় তানিশা একটা চিঠি দিয়ে গেল।
তানিশা ঃ এই নে তোর জন্য এই চিঠিটা দিয়ে গেছে।
আমি চিঠিটা নিয়ে আমার রুমে চলে গেলাম,
চিঠিটা খুলবো কি না, তা নিয়ে মনের মাঝে একটা ভয় কাজ করছে কি লিখে গেছে আরিফা।
তাই বাসা থেকে বের হয়ে নদীর পাড়ে বসে চিঠিটা খুললাম,,,
চিঠিটা তে দেখা,,

প্রিয়
আমিরুল সেই কবে থেকে তোমাকে ভালোবাসি কিন্তু তা বলতে পারিনি, যখন তোমাকে বললাম তখন তুমি আমাকে বললে তোমার সাথে একরাত থাকার জন্য, আমি তাতেও রাজি ছিলাম, তুমি আবার না করে দিলে,,
ঐদিন বৃষ্টির রাতের কথা মনে আছে তোমার,
ঐদিন আমি তোমার চোখে ভালবাসা দেখে ছিলাম,,
কিন্তু তুমি তা বুঝতে পারলে না,, আমি বাবার কাছে বিয়ের জন্য কিছু দিন সময় চেয়েছিলাম বাবা আমাকে দিয়েছিলো,, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে আমি তোমাকে আমার করে নিতে পারিনি, এক সপ্তাহ পর আমার বিয়ে আমার খালাতো ভাইয়ের সাথে,,
আমি জানি তুমি আমাকে বন্ধু বলে মনে করো,
তুমি পারলে আমার বিয়ের সময় এসো,
তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে আমি তোমার দিকে তাকিয়ে কবুল বলবো।
আর মনে মনে ভাববো তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়ে,,,
ইতি
তোমার পথের কাঁটা আরিফা




চলবে,,,,,,,,,,,,,,,

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।