দুষ্টু আত্মা: ভয়ংকর ভূতের গল্প - ৩

 
সেদিন ছিল পূর্ণিমার রাত। রাত প্রায় তিনটা বাজে । আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম। বাসার সবাই ঘুম। হঠাৎ ছাদ থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো। বিকেল বেলায় আমরা ছাদে খেললে যেমনটি শব্দ হয় ঠিক তেমনটি। আমি বেশ অবাক হলাম, এতো রাতে ছাদে আবার কে খেলছে !



কাকু আর আমি একই রুমে থাকি। বেশ কয়েকবার শব্দ হওয়ায় কাকুকে ডাক দিলাম। কাকুর উঠার নামটি নেই। নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। অনেকক্ষন ডাকা ডাকি করার পরে কোন রকম মাথা তুলে বললেন তুই গিয়ে দেখনা কে ? ইদুর টিদুর হবে হয়তো। বলে কাকু আবার নাক ডাকতে শুরু করলেন। এদিকে ছাদের শব্দ দৌড়া দৌড়ি পর্যায় পৌছে গেছে । আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম আমার তেমন ভয় করছেনা। বরং দেখতে ইচ্ছে করছে এতো রাতে ছাদে কে দৌড়া দৌড়ি করছে।

আমাদের রান্না ঘরের দেয়ালে মা ছাদের চাবি ঝুলিয়ে রাখেন। আমি ঘর থেকে বের হয়ে ছাদের চাবি নিলাম । আমাদের ফ্লাট থেকে বের হতেই ডান দিক দিয়ে উঠে গেছে ছাদের সিঁড়ি। প্রতিটি বারান্দায় বাতি জ্বলছে। তিন তলার বারান্দা ঘুরে ছাদের সিঁড়ি। আমি ছাদের সিঁড়িতে উঠার পরও আমার কোন ভয় লাগছিল না। তিন তলা থেকে ছাদের দরজা দেখা যায়। বন্ধ দরজা। তালা দেখা যাচ্ছে। তবে ছাদে শব্দ করছে কে ?

আমি ছাদের তালা খুলে ফেললাম। চাঁদের আলোয় ছাদ ভেসে যাচ্ছে। ছাদে বের হলেই সামনে রবিন চাচ্চুদের ৪ তলা বাড়ী। রবিন চাচ্চুদের বাসা থেকে আমাদের পুরো ছাদটা দেখা যায়।



ছাদের এ মাথা ও মাথা বেশ ভাল করে দেখলাম কেউ নেই। আমি বেশ অবাক হলাম। তা হলে শব্দ করলো কে? পানির ট্যাংকির উপর দেখলাম, নাহ কেউ নেই। এবার কিন্তু আমার গা বেশ কেমন ছমছম করছে। আশে পাশের বাড়িগুলোর দিকে বেশ কয়েকবার তাকিয়ে আমি নীচে নেমে এলাম ।

ঘরে এসে ঢকঢক করে দু গ্লাস পানি খেলাম। এমনিতেই আমি বারবার হিশু পায় বলে রাতের বেলা পানি কম খাই। কিন্তু সেদিন তেসটা যেনো আর মিটছিলো না। ২য় গ্লাস পানি শেষ করার মুর্হুতে আবার ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো। আমি গ্লাসটি রেখে উঠে পড়লাম। ছাদের সিঁড়িতে এসে দেখি ছাদে তালা মারাই আছে। দরজা বন্ধ। কিন্তু দরজার ওপাশেই কে যেনো দৌড়াচ্ছে । আমি ভয়ে ভয়ে তালা খুলে ছাদে এলাম । আবারও চাঁদের আলোয় চোখ ভেসে গেলো । আমি পুরো ছাদ বেশ ভাল করে দেখলাম। না। কেই নেই। নিজেকে কেমন বোকাবোকা মনে হলো। নিজেকে শান্তনা দিলাম হয়তো রাত জেগে পড়ার ফলে উল্টা পাল্টা শব্দ শুনছি।

ছাদ তালা দিয়ে নামার জন্য পেছন ঘুরতেই চমকে উঠলাম। হাতের ডান পাশে সিঁড়ির শেষ মাথার ছাদের দেয়াল ঘেষে কে যেনো বসে আছে। ভয়ে আমার বুক তখন ধুকপুক করে উঠা নামা করছে । আমি কোন রকম জিজ্ঞেস করলাম। কে! কে ওখানে? হালকা আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দু’হাটুর মাঝখানে মাথা রেখে কে যেনো বসে আছে । ছোট্ট শরীরটা দেখে আট দশ বছরের বাচ্চা বলে মনে হলো। 

আমি কানে তখন কিচ্ছু শুনছি না। চোখেও ভাল করে দেখছি বলে মনে হলো না। শুধু তাকিয়ে আছি। আর জোরে জোরে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করছি কে ! কে ওখানে ?

বেশ কয়েক বার চিৎকার করতেই হাটু থেকে মাথা তুলে আমার দিকে তাকালো। ভয়ে আমি চমকে উঠলাম। জাপানি ভুতের সিনামায় দেখা আট নয় বছরের একটি ছেলে আমার দিকে হাটু থেকে মুখ তুলে তাকালো । বড় বড় দুটো চোখ । সমস্ত মুখ কেমন ফেকাসে হয়ে আছে ।



অনেকক্ষন পানিতে ভিজলে চামড়া যেরকম ফেকাসে হয় তেমনটি। আমি আরো জোড়ে চিৎকার করলাম কে কে? ছেলেটি কোন উত্তর দিলো না শুধু একটি হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। আমি ভয়ে তখন কি ভাবে যে নীচে নেমে এলাম বলতে পারবো না । যখন চোখ খুললাম তখন দেখি আমি বিছানায় শুয়ে আছি; মা-বাবা, কাকু আর একজন ডক্টর আমায় ঘিরে আছেন ।

বাবা কাকুকে বকছেন আমাদের কেন ভুতের গল্প শুনায় তার জন্য । মা’র হাতের ফাঁক দিয়ে আমার চোখ যখন দরজার কাছে গেলো তখন আবার চমকে উঠলাম। ছাদে দেখা ছেলেটি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে । আমার চোখাচোখি হতেই ডান হাতটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। আমি আবার জ্ঞান হারালাম ।

সে বার আমাকে অনেকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিলো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সে রাতের পর ঐ ছেলেটিকে আর কোনদিন আমাদের ছাদে দেখা যায়নি। সে রাতে অবশ্য আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল সেটি হলো আমাদের পাশের বাসার রবিন চাচ্চু মারা গিয়েছিলো। ভাল মানুষ হঠাৎ নাকি কি দেখে খুব ভয় পেয়েছিলেন ।

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।