আপুর বান্ধবী যখন বউ - পর্ব (১০)

আমি ঃ আজকে তোমাকে একটা যায়গায় নিয়ে যাবো এখন তুমি আসো
আফিফা ঃ ঠিক আছে আমি আসছি, তুমি হাইওয়ের পাসে অপেক্ষা করো। 
আমি ঃ ঠিক আছে বেশি সময় নষ্ট করবে না 
আফিফা ঃ তুমি ঠিক আছে।
তারপর আধাঘণ্টা পর আসলো।
আমি ঃ এত দেরী করলে কেন।
আফিফা ঃ রেডি হতে আর রাস্তায় যে সময় টুকু গেছে সেই সময় টুকুই লেগেছে, সেই জন্য আমি সরি
আমি ঃ ঠিক আছে আর কখনো দেরি করবে না।
আফিফা ঃ আর কখনো দেরি করবো না, কথা দিলাম, এবার একটু হাসো তো ।





আমিঃ হি হি
আমি ঃ আচ্চা তুমি কি তোমার ভাইয়ের মত আনরোমান্টিক নাকি রোমান্টিক ।
আফিফা ঃ আমি তো রোমান্টিক, আর ভাইয়া কোথায় আনরোমান্টিক, ভাইয়াও রোমান্টিক মানুষ।
আমি ঃ সারাজীবন সিঙ্গেল থেকে এখন বিয়ে করছে এইটা কে রোমান্টিক বলে।
আফিফা ঃ আরে তুমি যানো না, ভাইয়ার গার্লফ্রেন্ড আছে।

আমি ঃ আমার সাথে মিথ্যা বলো, আরিফার সাথে তোমার ভাইয়ের বিয়ে আর বলছো গার্লফ্রেন্ড আছে মজা করো আমার সাথে।
আফিফা কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে বলে
আফিফা ঃ আমি এত কিছু বলতে পারবো না,।
আমি ঃ ও, ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই, আমি এখন আসি।
আফিফা ঃ এই তো এখন এলাম আর এখনি চলে যাবে ।
আমি ঃ তুমি এখন বললে তুমি এত কিছু বলতে পারবে না, তাই চলে যাচ্ছি।
আফিফা ঃ আমার বাবুটা রাগো করতে পারে, আচ্চা বলো কি জানতে চাও।
আমি ঃ আনিছ ভাইয়া ঐদিন চলে গেল কেন, আর তার গার্লফ্রেন্ড আছে তাহলে আরিফাকে বিয়ে করার কি দরকার আছে।

আফিফা ঃ আসলে ভাইয়া দেশের বাহিরে থাকার সময় একটা মেয়ের সাথে প্রেম ও সেই মেয়েটা ঐ দিন ফোন দিয়ে ছিলো তাই চলে গেছে।
আমি আফিফার হাত ধরে আমার বুকের উপর রেখে বললাম জান আমার ভালবাসার কসম লাগে তুমি তোমার ভাইয়ের ঘটনা টা বলো মিথ্যা বললে কিন্তু আমি মরে যাবো।
আফিফা  কান্না করতে শুরু করলো।
আমি ঃ কি হলো তুমি কান্নাকাটি করছো কেন ।
আফিফা ঃ তুমি ভালবাসার কসম দিলে এখন আমি তোমাকে মিথ্যে বলতে পারবো না, এমনটা কেন করলে।
আমি ঃ  তুমি কি আমার সাথে মিথ্যা বলেছো কখনো ।

আফিফা ঃ না।
আমি ঃ আমার জান আমার কলিজার টুকরা বলো না, তোমাকে ভালোবাসি তোমার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে কিছু না জানলে কি হবে।
আফিফা ঃ ভাইয়া বিদেশে একটা মেয়েকে ভালবেসে ফেলেছিলো, তারা বিয়েও করেছে কিন্তু মেয়েটাকে আমাদের পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারবে না, কারণ মেয়েটা মুসলিম না।
আমি ঃ তোমাদের পরিবারের আর কে জানে যে তোমার ভাই বিয়ে করেছে।
আফিফা ঃ আর কেউ জানে না, শুধু আমি জানি, ছাদে একদিন কথা বলার সময় আমার কাছে ধরা খেয়েছিল তারপর সব ঘটনা আমার কাছে বলে, এই বিয়েতে ভাইয়ার তেমন ইচ্ছা নেই।


আমি ঃ তাহলে যদি কোন ভাবে এই বিয়েটা আটকিয়ে দিতে পারি তাহলে কি তোমার ভাইয়ের কোন আপত্তি আছে।
আফিফা ঃ কিন্তু বাবা মা কে কিভাবে মানাবে,, আর বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে আরো বেশি ভালো হতে, ভাইয়ার একটা বাচ্চা হয়েছে মনে হয়।
আমি ঃ হুম ঠিক বলছো, তোমার ভাইয়ের একটা বাচ্চা হয়েছে,  ঐদিন যখন চলে গিয়েছিল তখন তোমার ভাবি ফোন দিয়েছিলো, সে তার বাচ্চা দেখার জন্য আমাদের কাছে মিথ্যা বলেছিলো, আর তোমার ভাবি কিশোরগঞ্জের একটা ক্লিনিকে ভর্তি আছে।

আফিফা ঃ তুমি এত কিছু জানো কিভাবে।
আমি ঃ আমি আমার বন্ধুকে তোমার ভাইয়ের পিছনে পাঠিয়েছি ওই সব কিছু আমাকে বলেছে,
আফিফা ঃ কিন্তু তোমার এত কিছু জেনে লাভ কি।
আমি ঃ তোমাকে এখন কিছু বলতে পারব না সময় হলে সব কিছু বলবো।
আফিফা ঃ তুমি কি ভাইয়া কে ফলো করছিলে,।
আমি ঃ হুম ।
আফিফা ঃ ভাইয়া কে ফলো করে তোমার কি লাভ,
আমি ঃ আমি আমার লাভ ছাড়া কারো সাথে কথা বলি না আর তোমার ভাইয়ার পিছনে লোক লাগানোর যথেষ্ট কারণ আছে।

আফিফা ঃ এইটা তুমি কোনভাবেই ঠিক করোনি আমি তোমাকে অনেক বিশ্বাস করেছিলাম তুমি আমার ভাইয়ার পিছনে লোক লাগিয়ে দিয়েছো।৪
আমি ঃ একটা মেয়ে তার পরিবার ছেড়ে সারা জীবনের জন্য চলে যাব একটা ছেলের কাছে,,, সেই ছেলেটা যদি বিবাহিত হয়,, বা অন্য কাউকে ভালোবাসে, শুধুমাত্র ফ্যামিলির কথা চিন্তা করে বিয়ে করে,, তাহলে যেই মেয়েটাকে সেই ছেলেটাকে  বিয়ে করে সেই মেয়েটার  জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে,, আর আরিফা  আমার খুব কাছের মানুষ আমি চাইনা ও কোনভাবে কষ্ট পাক,

আফিফা ঃ তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি আমাকে না আরিফাকে ভালোবাসো।
আমি ঃ তুমি ঠিক বলেছ আসলে আমি আরিফাকে পাগলের মতো ভালোবাসি,,,  কিন্তু বিয়েটা ভাঙার জন্য কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না,,, এখন একটা উপায় পেলাম,, আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি,,, কিন্তু নিজের ভালোবাসাকে পাওয়ার জন্য তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছো,,, সেজন্য আমি অনেক দুঃখিত,,,,
আফিফা ঃ তুমি আমার সরলতার নিয়ে খেলা করেছো,,, ভালোবাসার নামে তুমি আমাকে ধোঁকা দিয়েছো,,
কেন করলে তুমি আমার সাথে এমন কি দোষ ছিল আমার,,, 
আমি ঃ সরি আমি সত্যিই দুঃখিত আমি চাইনি তোমাকে কোন ভাবে কষ্ট দিতে, কিন্তু বিয়েটা ভাঙার আর কোন উপায় আমার কাছে ছিলো না।
আফিফা ঃ তুমি তো এই কথা সবাইকে বলে দিবে তখন বাবা মা ভাইয়া কে বাসা থেকে বের করে দিবে।
আমি ঃ তোমাদের পরিবারের কোন ক্ষতি হয় তা আমি কখনো করবো না,,
আফিফা ঃ তুমি আরিফাকে ভালবাসো আরিফা কি তোমাকে ভালোবাসে।

আমি ঃ হুম অনেক ভালবাসে, কিন্তু পরিবারের দিকে তাকিয়ে নিজের ভালবাসা কে পাথর চাপা দিয়েছে।
আফিফা ঃ ঠিক আছে, আমি যেহেতু তোমাকে পেলাম না, তোমার ভালবাসা পাবার সব কিছু করবো

চলবে,,,,,,,,,,,,,

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।