আপুর বান্ধবী যখন বউ - পর্ব (৮)

আরিফা ঃ তুমি আমার সাথে চলো।
আমি ঃ না তুমি যাও।
আরিফা ঃ আমার কথার কোন মূল্য নাই তোমার কাছে।
আমি ঃ ঠিক আছে চলো।

এরপর ভিতরে গেলাম,,
আনিছ ঃ আরিফা তুমি আমার পছন্দ করে দেয় তুমি নাও।
আরিফা ঃ হয়ছে ভাই, আপনি পছন্দ করে দিলে কাজ শেষ, আমি আর আমিরুল মিলে পছন্দ করি, আপনি আপনার বোনের জন্য কিনেন।


আনিছ ঃ আমার কোন মূল্য নাই তোমার কাছে, তাহলে আমাকে বিয়ে করছো কেন।
আরিফা ঃ বিয়ের আগ পর্যন্ত আমি কি খাবো কোথায় যাবো তা একান্তই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার, আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।
আফিফা ঃ আরিফা আপু তোমাকে শুরু থেকেই দেখছি তুমি আমাদের সাথে অদ্ভুত আচরণ করছো তোমার সমস্যা কি।
আনিছ ঃ তোমার যদি আমাকে বিয়ে করতে আপত্তি থাকে তাহলে বলতে পারো।
আরিফা ঃ শুনুন আমি কিভাবে চলি কিভাবে চলতে আমার ভালো লাগে তা আমিই ঠিক করবো।
আমি ঃ এখানে ঝগড়া করার কি আছে, আনিছ ভাই আপনি আরিফার জন্য আলাদা ভাবে গহনা কিনেন, বিয়ের পর তা উপহার দিবেন।

আফিফা ঃ একদম ঠিক বলেছেন আমিরুল, এই জন্য আপনাকে প্রথম দেখাতেই ভালো বেসে ফেলেসি।
আরিফা ঃ আসিফা তোমাকে একটা মাইক এনে দেয় তুমি তা পুরো শহরের মানুষকে বলো যে তুমি আমিরুল কে ভালবাসো।

আমি ঃ কথা বন্ধ করো এখন চলো, যার যার পছন্দ মত কিনো।
এমন সময় আনিছের একটা ফোন এলো,
ফোন আসার সাথে সাথে আমাদের থেকে সাইটে চলে গেলো।
আর বললো এখনি সে চলে যাবে ইমার্জেন্সি কাজ পরেছে।
আরিফা ঃ তা আপনার কি কাজ পরেছে।
আনিছ ঃ একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
আফিফা কথাটা ঘুরানোর চেষ্টা করে বললো হয় তো ব্যবসার জন্য।
আনিছ ঃ হ্যা হ্যা আমাকে এখনি যেতে হবে।
আমি ঃ ঠিক আছে আসেন, কিন্তু চলেন একটা সেলফি তুলি ।
সেলফি তুলে ফেইসবুকে আপলোড দিলাম।
সাইদ কে ফোন দিয়ে বললাম তুই আরিফার বাসার সামনে যা আর আনিছ কে ফোলো কর।

গহনা কিনে আমরা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করছি, আমি আরিফাকে চোখ টিপ দিয়ে বললাম আমাকে বিরক্ত করো না, আমি আফিফার সাথে কথা বলি, আরিফা মুচকি হাসি দিয়ে বলল কোন সমস্যা নাই।
আমি আফিফার হাত ধরে বললাম।
আমি ঃ আফিফা আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, I love you জানেমান, তোমাকে না পেলে তোমাকে না পেলে,
আফিফা ঃ বলো আমাকে, না পেলে কি করবে,,।
আমি ঃ তোমাকে না পেলে আমি সেভেনআপ খেয়ে আত্বহত্যা করবো, না হয় হোমুহতি ঔষধ খেয়ে শহীদ হয়ে যাবো।
আফিফা ঃ তুমি সত্যিই আমাকে এত ভালবাস।
আমিঃ তুমি কি তোমার ঐ রূপ কখনো আয়নায় দেখোনি, তোমার মুখের এই হাসি আহ যেন আকাশের চাঁদ কে বলে তুমি নিভে যাও, আমি আলো ছড়াই, তোমার এই চুল আহ মনে হয় পাহাড়ের বুকে ঝর্ণার জল।
আফিফা একটু মুচকি হেসে বলল যাও তুমি বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছো।
আমি ঃ তোমার জন্য লেখবো আমি হাজার হাজার কবিতা, ( কচু লেখবো) তোমার বুকে মাথা পেতে কাটিয়ে দিবো দিনের বেলা।

আফিফা ঃ মিললো না তো বলো রাতের বেলা।৬
আমি ঃ না পাগলী রাতের বেলা তোমার রূপ দেখে দেখে কাটিয়ে দিবো,।
আফিফা ঃ তাহলে আবার প্রপ্রোজ করো।
আমি ঃ আরিফা তুমি একটু বাহিরে যাও।
আরিফা বাহিরে গেলো।
আমি আফিফার হাত ধরে হাতে একটা চুমু দিয়ে বললাম I love you afifa আমি তোমাকে ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
আফিফা ঃ আমিও তোমাকে ভালোবাসি, আচ্ছা একটা লিপ কিস দাও এখন।
আমি ঃ এখানে সম্ভব না পাগলি।
আফিফা ঃ না এখানেই দিতে হবে‌।
আমি ঃ টুপপুস করে একটা লিপ কিস দিয়ে বললাম এবার হয়ছে পাগলী।
আফিফা ঃ আমি তোমাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি।
আমি ঃ জীবনটা তোমার কাছে রেখে দাও, ভালবাসাটা আমাকে দিয়ে দাও। আর আজকে রাতে তুমি একটু বাহিরে আসবে তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।

আফিফা ঃ ঠিক আছে আসবো ,, তবে দুষ্টুমি করবে না কিন্তু, বিয়ের আগে এসব আমি পছন্দ করি না।
আমি ঃ তুমি তা বলো আমি রাজি, এখনি বিয়ে করি চলো।
আফিফা ঃ না আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে করবো, অবশ্য বিয়ের আগে তুমি হাল্কা বোনাস পাবে।
আমি ঃ ঠিক আছে, তুমি আমাকে ভালবাস না, তা পরিষ্কার করে বললেই পারতে এত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলার কি আছে ।
আফিফা ঃ রাগ করো না, আরিফা আপু যদি জানতে পারে তাহলে তোমার সাথে রাগ করবে,।
আমি ঃ আরিফা আগে থেকেই এমন, নিজেও প্রেম করবে না আমাকেও করতে দিবে না, বলো তো আফিফা আমার এই কচি শশার মত জীবন এভাবে যায়, আজ প্রথম তোমাকে কিস করলাম, আজকে তুমি আমার জীবন কে ধন্য করে দিলে।

এমন সময় আরিফা চলে আসলো, কিছুটা আমার উপর রেগে আছে তা বুঝতে পারলাম।
ওদের কে বাসায় পৌছে দিয়ে বিদায় নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিবো এমন সময় আরিফা আমাকে তার রুমে যেতে বললো, রুমে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
আরিফা ঃ এইটা কি হলো।
আমি ঃ কোনটা কি হলো।
আরিফা ঃ তোমার গালটা একটু এদিকে আনো।
ঠাস ঠাস ঠাস তিনটা দিয়ে দিলো।
আমি ঃ এইটা কি হলো।
আরিফা ঃ তুই আফিফাকে দুইটা কিস করছোর একটা হাতে একটা ঠোঁটে।
আমি ঃ দুইটা কিস করছি দুইটা চর দিবা ৩ টা দিলা কেন।
আরিফা ঃ আরেকটা অগ্রিম দিয়ে দিলাম, আবার যদি কিস করিস তাহলে তোর ঠোঁট আমি ছিরে ফেলবো।
আমি ঃ তাই বুঝি।
আরিফা ঃ হুম।

আমি জোর করে আরিফাকে কিস দিলাম পাঁচ মিনিট, তারপর জোর করে ছাড়িয়ে দিলো।
আরিফা ঃ ঐ এইটা কি করলি, আমাকে মেরে ফেলবি তুই, এতক্ষণ কি কেউ কিস করে।
আমি ঃ বেঁচে গেছো তুমি, আমার সাথে যদি বিয়ে হতো তাহলে একটা কিস করতাম সন্ধ্যা বেলা আর সারতাম সকাল বেলা।
আরিফা ঃ লুচ্চা কোন হানের, তুই সত্যিই কডি লুচ্চা।
আমি ঃ আরেকটা দিবো।
আরিফা ঃ না, আর না, এখন বলো আফিফার সাথে এমন করার কারণ কি।
আমি ঃ তোমার হবুবরের গার্লফ্রেন্ড আছে, না হয় বউ আছে দুইটার থেকে একটা।
আরিফা ঃ তুমি কেমন করে বুঝলা।

আমি ঃ যখন মোবাইল আসছিলো তখন নাম্বার সেভ করা ছিলো জানু বলে, তারপর দেখলাম আনিছ ভাইয়ের চলে যাওয়ার কথাটা আফিফা কথাটা অন্ন দিকে কাটিয়ে দিতে চাইলিলো, এই বিষয়ে আফিফা সব চেয়ে ভালো জানে ওর কাছ থেকে কথা বের করতে হবে, তাই এত নাটক করতে হচ্ছে, আর তুমি আমাকে মারলে।
আরিফা ঃ সরি, দাও তোমার গালে চুমু দেয়।
আমি ঃ তোমার নানীর পুটকিত চুমা দেওয়া,,, আমি গেলাম, অনেক কাজ আছে
আরিফা ঃ এই তুমি এত খারাপ কেন।
আমি ঃ অনেক কাজ আছে, রাতে কথা হবে, এখন চলি।
তারপর আফিফার সাথে দেখা করে চলে আসি।

বাসায় এসে একটা ঘুম দিলাম, মাথায় কোন চিন্তা নাই, আরিফা কে যদি আপোষে না পাই তাহলে নয় ছয় বুঝ দিয়ে বিয়েটা আটকাবোই,, আর আছে পাঁচ দিন,,,
রাতের১২ দিকে আফিফার ফোনে ঘুম ভাঙল।
আমি ঃ হাই জানু, আমার বাবুটা কি করো এখন।
আফিফা ঃ তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছি, তুমি যে বললা আমার সাথে রাতে দেখা করবে।
আমি ঃ আমাকে আদর দিলে এখনি দেখা করবো।
আফিফা ঃ যাও দুষ্ট বিয়ের আগে এসব হবে না।
মনে মনে বলি তোর কাছে কে চাইছে রে,
আমি ঃ এই বয়সে দুষ্টুমি না করলে কখন করবো।
আফিফা ঃ আগামীকাল দেখা করবে বলে দিলাম।
আমি ঃ চেষ্টা করবো, আর শোন স্বপ্ন দেখা বাদ দিয়ে ঘুমাও,, না ঘুমিয়ে চেহারা খারাপ করো না, বুঝলা তাহলে কিন্তু আমার পরিবারের কেউ তোমাকে পছন্দ করবে না, আর তুমি তো পারিবারিক ভাবে বিয়ে করবে, তাই এখন ঘুমিয়ে যাও,,,।

আফিফা ঃ একটা কিস দাও আমি ঘুমিয়ে পড়বো।
আমি ঃ একটু দাঁড়াও।
আরিফার ছবিটা বের করলাম এবং ছবিতে চুমু দিলাম, আর ঐদিকে আফিফা ভাবছে ওকে চুমু দিছি,, কি বুদ্ধিমান ছেলে আমি, নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে,,
ভাবতেই বুকটা গর্বে ফুলে উঠেছে,
একটু পর সাইদ ফোন দিছে।

আমি ঃ কিরে শালা এত রাতে ফোন দিলি কেন।
সাইদ ঃ আমিরুল তুই যার ছবি দিছোর ঐ শালা তো কাম ঘটাই ফালছে, বিয়ের আগেই বাচ্চার বাবা হয়ে গেছে,, আর এখন এই বিষয় নিয়ে ঐ মেয়েটার সাথে অনেক ঝামেলা চলছে।
আমি ঃ সাববাস বেটা আব্বাসের বাচ্চা,, এখন তুই কোথায়।।
সাইদ ঃ আরে বেঢা সারাদিন কোন খোঁজ খবর নিলিনা এখন বলিস কয়, আমি কিশোরগঞ্জ আসছি আনিছের পিছনে পিছনে করে, হাতে কোন টাকা নাই, অনেক খুদা লাগছে, পারলে কিছু টাকা দে বিকাশে।
আমি ঃ আজকের রাতটা রেল ষ্টেশনে কাটাইদে সকালে টাকা পাঠাই দিমু,,
সাইদ ঃ বালের আলাপ করো মিয়া,,, তোমার লাইগা সারাদিন খাটলাম,,,,    না খেয়ে আছি, আর তুমি কোও ষ্টেশনে রাত কাটাবো।

আমি ঃ ঐ এত কেসকেস করিস না, ঐ খানে বৃষ্টি আপু নিরা  আছে তার কাছে টাকা চা।
সাইদ ঃ এরা আবার কারা,
 আমি ঃ বৃষ্টি, নিরা, আমার পাঠক ওদের কাছ থেকে টাকা চা,,, ওরা প্রতিদিন গল্প পড়ে,, আর লাইক কমেন্ট করে,, ওরা তোর বিষয়ে জানে।
সাইদ ঃ তোর গল্প তো তেমন কেউ পড়েনা, পড়লে আরো লাইক কমেন্ট দিতো, যেখানে লাইক কমেন্ট দেয়না সেখানে দিবে টাকা হাসালি।
আমি ঃ সারাদেশেই পাঠক আছে, রাজশাহীতে আছে বর্শা আপু, আরো আছে তোমার আমার ভালবাসা, আরো আছে বরিশালের এডমিন বন্ধু, আরো আছে আইনুল বন্ধু, আরো অনেকেই আছে, ওরাও টাকা দিবে, আরো আছে কলকাতার দুই আপু উনারা ইন্ডিয়া বাংলাদেশ বর্ডার ভেঙে এসে লাইক কমেন্ট করে, সব চেয়ে বেশি ভালো আপু হলো সানজিদা আপু, সব চেয়ে বেশি আমার গল্প এপ্রোপ করেছে উনি, উনার বাড়ি কুমিল্লা,, আজকে শুধু মেয়েদের কথা বললাম আগামীকাল ছেলেদের কথা বলবো,,

সাইদ ঃ ভাই তুই দিলে দে না দিলে না কর ।
আমি ঃ তোর বিকাশের একাউন্ট চেক কর টাকা চলে গেছে, ভালো দেখে একটা হোটেলে তা রাতটা আরাম করে কাটা আরো টাকা লাগলে বলিশ।।।

একটা ঘুম দিলাম,
সকালে আরিফার ফোনে ঘুম ভাঙল।
আরিফা ঃ কি করো ।
আমি ঃ আফিফাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি।
আরিফা ঃ বেশ তো দেখো আমি ফোন রাখি ।
আমি ঃ দাড়াও দাড়াও স্বপ্ন দেখি কিভাবে মুরগিটারে লাইনে আনা যায়।
আরিফা ঃ ও এই কথা তা আগে বললেই পারতা ।
আমি ঃ হুম, একটা খবর আছে।
আরিফা ঃ কি খবর।
আমি ঃ কিছু না, পরে বলবো।

চলবে,,,,,,,,,,,,,,

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।