যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৩)


বাবা শহরের ভালো একটা কলেজে আমাকে ভর্তি করিয়ে দেয়। কলেজ জীবন ভালোভাবে চলতে থাকলো। কিন্তু চাচার বাসা আর আমাদের বাসা পাশা পাশি থাকায় শান্তার সাথে আমার সমস্যাও বাড়তে থাকলো। ও সারাক্ষন চেষ্টায় লেগে থাকতো আমাকে অপরাধী করার। কিন্তু আমি এটা জানতাম না কেন?? আর সবাই ওর কথা সহজেই বিশ্বাস করে নিতো। আমি সব সময় ওর থেকে দুরে দুরে থাকতাম। কলেজের দুই বছর কিভাবে চলে গেল। বুজতেই পারলাম না। কলেজ লাইফে আমার মাত্র একজন বন্ধু ছিল। সে হল আরিফ। একমাত্র ওর সাথে কথা বলতাম এমনিতে আর কারো সাথে কথা বলতাম না। কলেজের পরে ভারসির্টিতে এডমিশন নিলাম। কিন্তু আরিফ চলে গেল দেশের বাইরে পড়ার জন্য। ওর সাথে যোগাযোগ হতো মাঝে মাঝে।
.
আমার জীবনে কখনো প্রেম আসে নি। কিন্তু ভারসিটি লাইফে প্রেম আসে। আমার জীবনের প্রথম প্রেম লিজা। ও আমাকে হাতে হাত রেখে চলতে শেখায়। নতুন করে বাচতে শেখায়। এখানে আমার বন্ধু সংখ্যা বেশি ছিল। সারাক্ষন মজা করে পাড় হতে লাগলো জীবন। কিন্তু জীবনের কালো অধ্যায়টা খু্ব তাড়াতাড়ি নেমে আসে। তখন আমি সবে মাত্র অনার্সে ফাইনাল ইয়ার পরিক্ষা দিয়েছি। পরিক্ষার পর বাড়ি গিয়েছি। পরিবারে সাথে অনেক ভালো সময় কাটছিল।

.
একদিন মা বললো শান্তাকে নিয়ে বেড়াতে যেতে। আমার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। তবুও যেতে হলো। যদি জানতাম সেইদিন শান্তা এরকম কান্ড করবে তাহলে কখনও যেতাম না। আমি শান্তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হই। সেইদিন হঠাৎ একটা গাড়ি এসে শান্তাকে ধাক্কা  মারে। শান্তা অনেক আঘাত পায়। আমি ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। বাড়ির সবাইকে খবর দেই। প্রায় ৩৫ ঘন্টা পরে ও জ্ঞান ফিরে। বাড়ি সবাই ওকে দেখতে কেবিনের ভিতরে যায়। আমি ভাবলাম সবাই বের হলে আমি যাবো। তাই বাইরে দাড়িয়ে ছিলাম। কিছু সময় পর বাবা বের হয়ে এল। তার সাথে বাড়ির সবাই বের হয়ে আসে।বাবা কে দেখে যেই বললাম বাবা শান্তা,,,,,

ঠাসস, ঠাসস, ঠাসসসসসসসস, করে থাপ্পর মারলেন !! (পুরো কথাটা আর বলা হয়ে ওঠলো না। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না বাবা আমাকে কেন মারলো,,মনে মনে ভাবছি)
.
- আমি ভাবতেও পারি নি তুই এমন কাজ করবি। (বাবা)
.
- বাবা আমি করেছিটা কি??
.
- কি করেছিস তুই জানস না। (মা)
.
- আমাকে বলবে তো।
.
- যা করেছিস তা বলার মতো নয়। (চাচা)
.
- তুই আজই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবি। (বাবা)
.
- মানে আমি কোথায় যাবো??
.
- আমি জানি না। কিন্তু তোর এই মুখ জীবনে আর দেখতে চাই না। (বাবা)
.
.
আমি বুজতেই পরছিলাম না। কি হচ্ছে এইসব। কি দোষ করেছি যে সবাই আমাকে অপরাধি ভাবছে। তাই আমি শান্তার কেবিনে গেলাম বিষয়টা বুঝতে। আমি যেতেই...
.
.
- কিরে তুই এখনো এখানে! তোকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় নি। (শান্তা)
.
- কি এমন হয়েছে যে সবাই আমার সাথে এমন করছে।
.
- আমি সবাই কে বলেছি তুই আমার সাথে অসভ্যতামী করতে চেয়েছিস। তখন আমি তোর কাছ থেকে বাচতে গিয়ে গাড়ির সাথে ধাক্কা খাই।
.
- কেন??
.
- তোকে আমার সহ্য হয় না। তাই তোকে বাড়ি থেকে বের করানোর জন্য। কিন্তু মনে হয় না এত হবে আরো কিছু করতে হবে।
.
এই বলে ও বাড়ির সবাইকে ডেকে বললো যে  সব বলে দেওয়ার জন্য নাকি ওকে আমি মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছি। এতে বাবা আরো রেগে যাই। আমাকে মারধর করে। আমি সইতে না পেরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসি।
.
শান্তা আমার নামে যা বলেছিল কখনো আমি ওকে ওই নজরে দেখিইনি। আমার তো মনেই পড়েনা কখন ওর সাথে অসভ্যতামী করলাম। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনবেই বা কেন??আমি সেইদিনই বাড়ি থেকে চলে আসি। জীবনে এক ঝড়ে সব উলট-পালট হয়ে যায়। পরিবার থেকে বিতাড়িত হওয়ার তিন মাস পড়েই লিজা কে হারাই। লিজার বাবা জোর করে লিজার  বিয়ে আরেক জনের সাথে ঠিক করে। আমার কিছুই করার ছিল না। পারেনি ওকে নিজের করে রাখতে। তারপর একজন সাহায্য করে। ওর মাধ্যমেই পাড়ি জমাই অজানা উদ্যেশে। অনেক গুলো অচেনা মুখের আড়ালে, অচেনা শহরে। তারপর কেটে গেল ৮ টা বছর। দেশ ছাড়ার সময় পন করেছিলাম আর কখনও দেশে ফিরবো না। কিন্তু কি করবো মাটির টান ফিরিয়ে নিয়ে এল।
.
.
বর্তমানে ফিরে এলাম।
- ভাইয়া তোমার জীবনে এত কিছু ঘটে গেছে। (নিলা)
.
- এটা আমার অধ্যায়, জানতে চেয়েছিলে না কেন আমি এত নিশ্চুপ। এটাই তার কারন।
.
- তোকে কে সাহায্য করেছিল বিদেশে যেতে। (আসিক)
.
- কিছু কথা না হয় না জানাই থাক। রাত দুটো বাজে যা গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।
.
- ভাইয়া শুধু একটা কথা, তুমি এখনো  বিয়ে করো নি কেন??
.
- দ্বিতীয় বার কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। আর আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে কারো জীবন নষ্ট করতে চাই নি।
.
.
ওরা ঘুমাতে চলে গেল। আমিও গেলাম। বাইরে চাদের আলো জকমক করছে। কিন্তু চাদের আলো তো আমার জন্য নয়। এই চাদের আলোতে কারো সাথে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সে নেই। তাই আমার জন্য অন্ধকারটাই ভালো। অন্ধকারে খুব ভালো কষ্ট লুকানো যায়। লুকানো যায় কান্না। কাল এক বিশেষ দিন। যখন ঢাকাতেই আছি তাহলে সেখানে যাবো। অনেক কিছু লুকিয়ে আছে ওইখানে। কাউকে দেওয়া কথা পুরন করতে হবে। কিন্তু জানা নেই এই দিনটার কথা মনে আছে কিনা। তবু যেতে হবে। কারন ওয়াদা তো করেছিলাম।
.
.
আজ কষ্ট শেয়ার করে নিজেকে অনেক হালকা লাগছে। আসিকের কথা মতো কাল বিকালে বগুড়া যাবে। কিন্তু তার আগে ওই বিশেষ স্থানে যেতে হবে।
.
পরের দিনঃ..........To Be Continue

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।