আপুর বান্ধবী যখন বউ - পর্ব (৪)

আরিফা ঃ তুমি না মোবাইল কিনতে যাবে আর আমারো কিছু কেনাকাটা করতে করতে হবে, তাই ভাবছিলাম দুজন মিলে একসাথে যাবো। যদি তোমার কোন আপত্তি না থাকে
আমি ঃ ঠিক আছে তুমি রেডি হয়ে নাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
তারপর ফ্রেশ হয়ে আরিফা কে ডাক দিলাম,।
এমন সময় মা বললো
মা ঃ কি হয়েছে রে, এমন ভাবে চিৎকার করছিস কেন।
আমি ঃ আরিফা আপু মার্কেটে যাবে তাই তার জন্য অপেক্ষা করছি।
মা ঃ অপেক্ষা করছিস ভালো কথা চিৎকার দিলি কেন, ওদের রুমে গিয়ে ডাক দে।
আমি মনে মনে বলি রুমে গেলে যা দেখায় তা দেখে মাথা ঠিক থাকে না






মা ঃ কি হলো দাড়িয়ে আছিস কেন।
আমি ঃ হ্যা যাচ্ছি, তারপর ওদের রুমে গিয়ে ডাক দিলাম।
আরিফা ঃ আমিরুল তুমি ১ মিনিট বসো আমার রেডি হওয়া শেষের দিকে।
আমি ঃ ঠিক আছে।
বসে আছি, আজকে শাড়ি পড়েছে অনেক সুন্দর লাগছে মনে হচ্ছে ঘাসের বুকে যেমন শিশিরের ফোটা রোদের সোনালী আলোয় মুক্তোর মত রূপালী আলো ছড়ায় ঠিক সেই রকম লাগছে।
পিছন থেকে আপু বলছে।
তানিশা ঃ কিরে আমিরুল তুই আরিফার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন।
আমি ঃ না দেখছি, আর চিন্তা করছি।
তানিশা ঃ কি চিন্তা করছিস,।
আমি ঃ চিন্তা করছি এই রকম একটা শাড়ি তোকেও কিনে দিতে হবে।
তানিশা ঃ এইটা আমার শাড়ি, আরিফার নাকি অনেক পছন্দ হয়েছে তাই গিফট করে দিয়েছি।
আমি ঃ খুব ভালো করেছিস, এইটা মহৎ একটা কাজ করেছিস।
আরিফা ঃ আমিরুল চলো ।
আমি ঃ আপনি কি কোন বিয়ে বাড়িতে যাবেন নাকি।
আরিফা ঃ পরে বলি এখন চলো।
আমি ঃ ঠিক আছে চলেন।
আমি নিচে গিয়ে বাইকে বসে আছি।
আরিফা ঃ বাইক রাখো, আমরা রিক্সা দিয়ে যাবো।
আমি ঃ আমোর জালা বাইক রেখে আমি রিক্সা দিয়ে যাবো কেন।
আরিফা ঃ আবে হালায় চিল্লাইবার লাগছো কেলা,।
আমি ঃ কিতা কউ তুমি পুরান ঢাকার কথা শিখলা কবে।
আরিফা ঃ আবে হালায় কয় কি কয়বার লাগছো আবে আমা বাড়ি তো পুরান ঢাকা।
আমি ঃ হয়ছে এখন বাইকে উঠো।
আরিফা ঃ বললাম তো রিক্সা দিয়ে যাবো।
আমি ঃ ঠিক আছে চলো।
তারপর রিক্সা নিলাম,
আরিফা আগে উঠে বসলো, তারপর আমি উঠে বসলাম।
আরিফা ঃ এত দূরে বসে আছো কেন, এভাবে কোনায় বসলে একটু ধাক্কা লাগলেই পরে যাবে।
আমি ঃ না পড়বো না।

আরিফা ঃ এত কথা বলার কি আছে কাছে এসে বসো।
তারপর আর কিছু বললাম না, একদম পাশাপাশি বসে আছি।
আরিফা বা আমি কেউ কিছু বলছিনা।
অনেকক্ষণ ধরে চুপ করে আছি, এমন সময় ফোন বেজে উঠল।
আমি ঃ হ্যালো কে।
সাইদ ঃ দোস্ত আমার অবস্থা খারাপ, দুই গার্লফ্রেন্ড সাথে দেখা করতে হয়বো পকেটে টাকা নাই।
আমি ঃ মর গিয়ে এইসব কাজের জন্য আমাকে ডাকবি না।
সাইদ ঃ দোস্ত তোর কাছে টাকা থাকলে দেন পরে দিয়া দিমু।
আমি ঃ আমার কাছে কোন টাকা নাই, পারলে তুই আমারে কয়েক টাকা দে।
তারপর ফোন কেটে দিলাম।
মার্কেটের সামনে রিক্সা থামালো ভাড়া মিটিয়ে ভিতরে গেলাম,
আরিফা ঃ তোমার সব চেয়ে কোন রঙ ভালো লাগে।
আমি ঃ আমার কাছে সব রঙ ভালো লাগে, তোমার কোনটা দরকার।
আরিফা ঃ কোন রঙের শাড়ি পছন্দ করো।
আমি ঃ  ইয়াং বয়সে নীল রঙের শাড়ি পড়াই ভালো, আর তোমাকে বেশ মানাবে।
আরিফা ঃ আর থ্রিপিস কোন রঙের হলে ভালো হবে।
আমি ঃ থ্রিপিস কালো রঙের হলে ভালো লাগবে, আর আর হলুদ রঙের হলেও ভালো লাগবে।
আরিফা ঃ ঠিক আছে চলো,
তারপর প্রথমে নীল রঙের শাড়ি নিলো, এর কালো রঙের থ্রিপিস নিলো, আর হলুদ রঙের থ্রিপিস নিলো।
কিছুক্ষণ পর বললো তুমি এখানে ধারাও আমি একটু আসছি, তারপর লেডিস শপে গিয়ে ৩০ পড় আসলো।
আমি ঃ এতক্ষণ লাগে।
আরিফা ঃ মেচিং করে কিনলাম।
আমি ঃ কি ।
আরিফা ঃ কিছু না।

আমি ঃ এবার তাহলে বাহিরে যাওয়া যাবে।
আরিফা ঃ তোমার মোবাইল কিনবে না।
আমি ঃ আমার মোবাইল এখান থেকে কিনব না, অন্য দোকানে গিয়ে কিনবো।
তারপর আমার পছন্দ মত একটা মোবাইল কিনলাম,।
আমি ঃ চলো বাসায় যায়।
আরিফা ঃ শপিং করার পর খাওয়া দাওয়া না করে আমি কোন দিন বাসায় যায়না, তাই খাওয়া দাওয়া করে বাসায় যাবো।
আমি ঃ ঠিক আছে চলো রেস্টুরেন্টে যায়।
তারপর খাওয়া দাওয়া করলাম, টুকটাক কথা তারপর আরিফা জোর করে বিল দিলো।
বাহিরে এসে রিক্সায় উঠলাম একটু যেতেই ফুলের দোকান দেখে আরিফা বললো।
আরিফা ঃ থামেন থামেন আমার ফুল কেনার বাকি আছে।
আমি ঃ এখন ফুল দিয়ে কি করবে।
আরিফা ঃ গোলাপ আমার অনেক প্রিয় তুমি একটু ধারাও আমি আসছি।
এরপর অনেক গুলো ফুল নিয়ে আসলো।
তারপর আবার বাসার দিকে রওনা দিলাম,
কিছুক্ষণ পর বাসায় গেলাম।
আধা ঘন্টা পর বাসায় পৌছে গেলাম।
আমি ঃ গোসল করে ঘুমিয়ে পড়লাম,৪
একঘন্টা পর আবার তানিশা আপু ডাকতে শুরু করলো।
আমি এখন তো সকাল হয়নি এখন ডাকছিস কেন।
তানিশা ঃ আরিফা তোকে ছাদে যেতে বলেছে।
আমি ঃ তুই যা আমি এত রাতে যেতে পারবো না।
তানিশা ঃ তুই না গেলে আমি পানি ডালবো বিছানায়।
আমি ঃ আমি কি যাবো না বলেছি ,, আমি বলেছি একটু যাচ্ছি ।
তানিশা ঃ গুড এখন যা।
আমি ঃ ঠিক আছে আমি যাচ্ছি।
তারপর ছাদে গেলাম গিয়ে দেখি নীল রঙের শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
 অনেক সুন্দর লাগছে মনে হয় রাতের নীল পরী এখানে এসেছে হালকা চাঁদের আলোয় আরিফাকে আলোকিত করে রেখেছে।
আমি ঃ আমাকে কি  ডেকেছো।।
আরিফা ঃ হুম।
আমি ঃ কিছু বলবে।

পিছন থেকে ফুলের তোড়া বের করে হাঁটু গেড়ে বসে বলে
আরিফা ঃ I love you আমিরুল, আমি অনেক ভেবেছি কিন্তু চিন্তা করে দেখলাম আমার জীবনে তোমার মতই একজন মানুষ দরকার।
আমি ঃ আমার মত বয়সে ছোট ছেলে তোমার দরকার।
আরিফা ঃ বিশ্বাস করো আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি, মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করেছি কিন্তু পারিনি, তোমাকে ভাল না বেসে থাকতে পারলাম না।
আমি ঃ আরিফা তুমি আমার বড় বোনের বান্ধবী এইটা সমাজ পরিবার কেউ মানবে না।
আরিফা ঃ তুমি মানলেই সবাই মানবে।
আমি ঃ তুমি এখন উঠো‌।
আরিফা ঃ না তুমি আগে আমার ভালবাসা গ্রহণ করো, আমি তোমার বোনের সাথে কথা বলেছি সে বলেছে তুমি রাজি হলে তার কোন আপত্তি নেই আর তোমার পরিবারের কারো আপত্তি থাকবে না।
আমি ঃ দেখো আরিফা আমি তোমাকে আমার বোনের নজরে দেখেছি, যা শুধু আপু ডাকিনি, ঐটা আমার অনেক বড় ভুল ছিলো তোমাকে আমার আপু ডাকার প্রয়োজন ছিলো, আর শোন তুমি উঠে ঘরে যাও আর ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করো।
আরিফা ঃ তুমি আমাকে গ্রহন না করলে আমি এখান থেকে যাবো না।
আমি ঃ দেখো সেটা তোমার ব্যাপার ,
আরিফা ঃ আজকে যদি তুমি আমাকে গ্রহন না করো তাহলে আমি নিজেকে শেষ করে দিবো
আমি ঃ আচ্চা তুমি আমাকে দুইদিন সময় দাও আমি দুই দিন পর তোমাকে আমার উত্তর দিবো।
আরিফা ঃ দুই মিনিট সময় দিলাম।
আমি ঃ দুই দিনের সময় কি বেশি চেয়েছি, আর বেশি তেরি বেরি করলে আমি নিজেই নিজেকে শেষ করে দিবো।
আরিফা ঃ না তুমি নিজের কোন ক্ষতি করো না, আমি তোমাকে দুইদিন সময় দিলাম।
তারপর আরিফা কে রুমে যেতে বললাম।
কিছুক্ষণ পর আমিও রুমে চলে এলাম।
একটু পর তানিশা আমার রুমে এলো।
তানিশা ঃ ঐ তুই কি রে মেয়েটা নিজের লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে তোকে প্রপোজ করলো আর তুই ওকে ফিরিয়ে দিলি।
আমি ঃ আমি তোর কি এমন ক্ষতি করেছি রে তুই তোর বান্ধবীকে আটকাতে পারলি না,।
তানিশা ঃ আরিফা কে চিনি ও অনেক ভালো মেয়ে কোন ছেলের সাথে ওর আডডা নেই, কারো সাথে প্রেম করেনি, তা ছাড়া বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে।
আমি ঃ সব কিছু ঠিক আছে কিন্তু আরিফা তো আমার চেয়ে বড়, তুই যেনে শুনে এমন একটা কাজ কে উৎসাহিত করলি।
তানিশা ঃ ঐ তকে অনেক আগে থেকেই ভালবাসে, ঐ তোকে আরো এক বছর আগে থেকেই ভালোবাসে।।
আমি ঃ মজা করিস আমার সাথে, দুইদিন আগে আমাকে প্রথমবার দেখেছে আর তুই বলছিস এক বছর, শোন পাঁচ বছর হলেও আমার কিছু করার নেই, তুই আমার সাথে ওর উকালতি করতে আসিস না।
ঠাস ঠাস ঠাস, তিনটা চর দিলো তানিশা আমার গালে।
তানিশা ঃ আমার মুখে তোর কথা শুনেই তকে ভালবেসে ছিলো, তুই যখন আমাকে কলেজ থেকে নিয়ে আসতি তোকে এক নজর দেখার জন্য দূরে দাঁড়িয়ে তোকে দেখতো।
আমি জানতাম ভালবাসা কি তুই তা বুঝিস না, তাই আরিফাকে প্রপ্রোজ করতে মানা করেছিলাম, কিন্তু যখন তুই মিজানের জন্য এত কিছু করলি তখন আরিফা আমার কোন কথাই মানলো না।
তাই প্রপোজ করছে।
আমি ঃ ঠিক আছে আমাকে একটু চিন্তা করতে দে, আর এই কথা গুলো আমাকে ভালো করে বললেও পারতি গায়ে হাত না তুললেও হতো।
তানিশা ঃ তকে  আদর দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে ফেলেছি এখন মাথা থেকে নামাতে হবে তাই মারছি।
আমি ঃ ঠিক আছে আজকের পর থেকে তুই আর আমার উপর কোন অধিকার খাটাতে আসবি না, ভালো করে চিনি না জানি না কিভাবে আমি একজন কে ভালবাসবো তা তুই একবার চিন্তা করলি না, দুইটা দিন কি বেশি সময় চাইছিলাম।
তানিশা ঃ তোর ইচ্ছা, আমি তোর উপর কোন অধিকার দেখাবো না, যা তকে মুক্তি দিলাম।
আমি রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম,
রাস্তায় অনেকক্ষণ হেঁটে হেঁটে আবার বাসার সামনে এলাম, তারপর ছাদে গেলাম, এক কোনায় ছাদে বসে আছি,
বসে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বলতে পারবো না।
সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেলে নিচে যাবার সময় দেখি আরিফা দরকার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। 
আরিফা ঃ তুমি কোথায় গিয়েছিলে একটু আগে তোমাকে তোমার রুমে পেলাম না।
আমি ঃ ছাদে গিয়ে ছিলাম।
আরিফা ঃ ফ্রেশ হয়ে আসো তোমাকে নিয়ে বাহিরে যাবো।
আমি ঃ আমি যেতে পারব না, আমার অনেক ঘুমের ধরেছে চোখ জ্বালাপোড়া করছে পরে কোন সময় যাবো।
আরিফা ঃ তুমি ঠিক আছে, কোন সমস্যা নাই, আচ্চা আগামীকাল তুমি তোমার কথা জানাবে, দয়াকরে না করো না।
আমি ঃ হুম, চেষ্টা করবো, তবে আপুকে দিয়ে আমাকে অপমান না করলেও পেতে।,
আরিফা ঃ তানিশা তোমাকে কি বলছে ।
আমি ঃ কিছু না, এক বছর কারো পিছনে না ঘুরে তাকে সামনাসামনি বলে দিতে তাহলে এত কষ্ট আর নাটক করার কিছু থাকতো না।
আরিফা ঃ তোমার বাবা মায়ের সাথে দেখা করলাম, আমি তোমাকে যেমন ভাবতাম তা পরীক্ষা করে দেখলাম,।
আইসক্রিমের দোকানে তোমার সাথে ইচ্ছা করেই ঝগড়া করছি, আর তুমি দেখলাম আমাকে টিটকারি মারলে তাই, ভাবলাম তুমি হয়তো ইভটিজিং করো তাই আরেকটু সময় নিলাম।
আমি ঃ জয় বাংলা হয়ছে কাম,।  আজকের পর থেকে আমার বিষয়ে কোনো কথা আপুর সাথে শেয়ার করতে পারবে না। 
আরিফা ঃ তানিশা কে ছাড়া আমি কিভাবে থাকবো, ঐ সব কিছু ব্যবস্থা করে দিলো আর ওকে কোলে কিছু জানাবো না, একা কেমন কথা,।
আমি ঃ শোন আগামীকাল লাগবে না, আজকেই আমার উত্তর নিয়ে নাও, আমি আপুর সাথে প্রেম করতে পারবো না, তবে যদি মা বাবা কে রাজি করাতে পারো তবে তা ভিন্ন কথা।

আরিফা ঃ তোমার চেয়ে বয়সে বড় কারো সাথে প্রেম করতে পারবেনা তাহলে তোমার বাবা মাকে রাজি করানোর কি আছে,।
আমি ঃ আচ্ছা তুমি কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো।
আরিফা ঃ নিজের জীবনের চেয়ে বেশি।
আমি ঃ বিয়ের আগে আমার সাথে রাত কাটাতে পারবে।
আরিফা ঃ কি বলছো এইসব তোমার মাথা ঠিক আছে।
আমি ঃ হ্যা জা শুনলে তাই বলছি বিয়ের আগে আমার সাথে রাত কাটাতে পারবে।
আরিফা ঃ আমাকে দুইদিন সময় দাও আমি তোমাকে ভেবে বলছি।


চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।