আপুর বান্ধবী যখন বউ - পর্ব (১৬)


তানিশা ঃ সবাই কে যখন ক্ষমা করে দিলি আমাকে কেন করতে পারিস না।
আমি ঃ তোর জামাই কয়।
তানিশা ঃ তোর কথা শুনে লজ্জায় রুমে চলে গেছে।
আমি ঃ ঠিক করছি, তোর জামাইয়ের লজ্জা আছে তাই চলে গেছে তোর লজ্জা থাকলে তুই চলে যা।
তানিশা ঃ ঠিক আছে, আগামীকাল আমি ওকে নিয়ে চলে যাবো, আর কখনো আসবো না।
আমি ঃ আজকেই চলে যা।
তানিশা ঃ আমি চলে যেতাম কিন্তু শশুর বাড়ীতে কথা উঠবে তাই যেতে পারছি না।
আরিফা ঃ আমিরুল তুমি আর আমার আগের আমিরুল নেই, অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছো।
আমি ঃ সময়ের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়।
আমি ঃ তানিশা আজকে যদি না যাস তাহলে।
তানিশা ঃ তাহলে কি।
আমি একটু চুপ করে থাকলাম।
বাবা ঃ তাহলে কি।
আমি ঃ তাহলে ।
আরিফা ঃ তাহলে কি।

আমি ঃ তাহলে ওর শাস্তি হবে ও আর ওর জামাই আমাদের বিয়ের আগ পর্যন্ত এখানে থাকবে।
সবাই যেন দম ছেড়ে বাঁচলো, আর হাসতে থাকলো।
তানিশা ঃ না বিয়ের আগ পর্যন্ত থাকতে পারবো না।
আমি ঃ তুই যেতেও চাস না, আবার থাকতেও চাস না, এটা আবার কোন রকমের নাটক ।
মা ঃ এখনো তো বিয়ের তারিখ ঠিক করা হয়নি।
বাবা ঃ আরে তারিখ ঠিক হয়নি এখানে আমরা সবাই আছি তারিখ ঠিক করে নিতে সময় লাগবে না।
আংকেল ঃ আমিরুল বিয়ের তারিখ কবে হলে ভালো হয় তোমার কাছে।
আমি ঃ আমি জানি না, আপনারা ঠিক করেন,।
এই কথা বলে আমি ওখান থেকে তানিশার রুমে চলে গেলাম সবার সাথে কথা বলেও দুলাভাইয়ের সাথে কথা হয়নি। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আমি ।
আমি ঃ  এই যে গরু চোর ভিতরে আসতে পারি।
দুলাভাই ঃ  ও তুমি আসো আসো ।
আমি ঃ মন খারাপ নাকি।
দুলাভাই ঃ তেমন কিছু না।
আমি ঃ আমার উপর রাগ করে আছেন নাকি ।
দুলাভাই ঃ তুমি কি মনে করো।
আমি ঃ বিয়ের সময় আমার কোন খোঁজ খবর নিয়েছেন।
দুলাভাই ঃ আসলে এখানে তোমার পরিবারের কোন দোষ নেই, তারা তোমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে বলনি।
আমি ঃ আমার চিন্তা তো আপনাকে করতে বলিনি।
দুলাভাই ঃ তোমার বোন যা বলছে তুমি আসলে তেমন।
আমি ঃ কি বলেছে,
দুলাভাই ঃ তোমার মনটা অনেক নরম কিন্তু একটু অভিমানি।
আমি ঃ ঠিক বলেছেন, দুলাভাই আমি একটু এমনি, আচ্ছা আপনার কোন বোন আছে।
দুলাভাই ঃ তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে তুমি আমার বোনকে দিয়ে কি করবা।
আমি ঃ আপনার বোনের বিয়েতে যদি আপনাকে না রাখা হয় তাহলে কেমন লাগবে, তখন কি মুখ দিয়ে মধু বের হবে নাকি নিম পাতার রস ।
দুলাভাই ঃ তোমার কথা ঠিক আছে,
আমি ঃ তাহলে সব কিছু ভুলে যান।
দুলাভাই ঃ আমার কোন সমস্যা নাই তো, আমি কষ্ট পাচ্ছিলাম তোমার বোনের কথা ভেবে ঐ তোমাকে অনেক মিস করেছে।
আমি ঃ থাক পাম দিতে হবে না,  এখন চলেন ছাদে যায়।
দুলাভাই ঃ তোমার বোনের অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারবো না,।
আমি ঃ কেন যেতে পারবেন না কেন।
দুলাভাই ঃ বিয়ের আগে মেয়েরা থাকে একদম সহজ সরল, কিন্তু বিয়ের পর তাদের অনুমতি ছাড়া কিছুই করা যায় না, দুদিন পর বিয়ে করছো তখন বুঝতে পারবে।
আমি ঃ দিলেন তো আমার মনে ভয় ঢুকিয়ে।
দুলাভাই ঃ কিছুই করার নেই, তবে তোমার জন্য রইলো শুভ কামনা,।
আমি ঃ ধন্যবাদ, ( গল্পের লেখক আমিরুল ইসলাম)
দুলাভাই ঃ তুমি ছাদে যাও।
আমি ঃ হ্যা ছাদে যাচ্ছি,
তার ছাদে গিয়ে দেখি আরিফা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে।
আরিফা ঃ কখন থেকে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে আছি তুমি এত দেরী করলে কেন।
আমি ঃ আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিবা ।
আরিফা ঃ কি ।
আমি ঃ বিয়ের পর কি আমার ইচ্ছা মত চলতে দিবা।
আরিফা আমার হাত ধরে বলল ।
আরিফা ঃ দুনিয়াতে কোন নারী তার স্বামীর দিবে না, স্বামীর ভাগ ছাড়া সব কিছুর  ভাগ দিতে রাজি।
আমি ঃ বিয়ের পর কি আমাকে মারবে,
আরিফা ঃ না, আমি আমার জুনিয়র বরটা কে কিভাবে মারব তখন তো সে আমার স্বামী হয়ে যাবে,
আমি ঃ ধন্যবাদ।
আরিফা ঃ আচ্চা। যদি আগামী সপ্তাহে বিয়ে হয় তাহলে কেমন হয়।
আমি ঃ আজকে হলেও আমার কোন আপত্তি নেই, তবে বিয়েটা একটু বড় অনুষ্ঠান করে করার অনেক ইচ্ছা আমার।
আরিফা ঃ আচ্চা ঠিক আছে তাহলে আগামী সপ্তাহে হোক।
আমি ঃ সেটা তো বাবা মা আংকেল আন্টি ঠিক করবে।
আরিফা হাত ফোন করে বললো বাবা আগামী সপ্তাহে বিয়ে হলে কোন সমস্যা নেই।
আমি ঃ এইটা কি হলো।
আরিফা ঃ মা বাবা আমাকে তোমার সিদ্ধান্ত যানাতে বলেছে।
আমি ঃ তার মানে আমরা এতক্ষণ যা বলেছি মা বাবা সব কিছু শুনেছে।
আরিফা ঃ হ্যা কেন কি হয়েছে।
আমি ঃ কাম সারছে , তুমি আমাকে বলবা না যে সব কিছু উনারা শুনছেন।
আরিফা ঃ তাতে কি হয়েছে, উনারা জেনেছে তাতে আরো ভালো হয়েছে, এখন আগামী সপ্তাহে বিয়ে ঠিক হয়ে যাবে,
আমি ঃ তুমি একটাবার আমাকে বলতে।
আরিফা ঃ আহারে কি কষ্ট। কিন্তু আমি খুশি, আমি বউ সেজে থাকবো আমার বরটা রাজ কুমার সেজে আমাকে নিয়ে আসতে যাবে, আমার তো ভেবেই আনন্দ হচ্ছে।
আমি ঃ হয়েছে হয়েছে, এখন থামো।
আরিফা ঃ তুমি আগামীকাল বের হবে দুজন মিলে শপিং করতে যাবো।
আমি ঃ আমি পারবো না, তুমি। একাই করো, আমার শপিং আমার বাসার শপিং আমি কানাডা থেকে করে এনেছি।
আরিফা ঃ এইটা তুমি মোটেও ঠিক করনি,,
আমি ঃ কেন কি হয়েছে আবার।।
আরিফা ঃ আমার অনেক স্বপ্ন ছিল দু'জন মিলে বিয়ের শপিং করবো।
আমি ঃ ঠিক আছে গায়ে হলুদের কিছুই কেনা হয়নি, তাই কিনবে।
আরিফা ঃ তোমার তো মোটামোটি কেনা হয়েছে আমি তো কিছুই কেনা কাটা করিনি।
আমি ঃ ও, তাও ঠিক চিন্তা করো না, তানিশা তোমাকে নিয়ে শপিং করবে।
আরিফা ঃ হয়েছে হয়েছে, আমার জন্য তোমাকে চিন্তা করতে হবে না, আমার শপিং আমি একাই করতে পারবো, নিজেরটা তো বিদেশ থেকে করে এসেছো।
আমি ঃ কি করবো ।
আরিফা ঃ কিছুই করতে হবে না।
এমন সময় তানিশা হাজির।
তানিশা ঃ আরিফা তকে নিচে যেতে বলছে।
আরিফা ঃ কেন।
আরিফা ঃ এখন তোকে তোর বাসায় যেতে হবে, আর বিয়ের আগে এখানে আসার দরকার নাই।
আরিফা ঃ ঐ তানিশা হুকুম করবি না, তুই তোর স্বামীর বাড়ি যা আমি আমার স্বামীর বাড়ি থেকে যেতে পারবো না।
তানিশা ঃ তাহলে আংকেল কে গিয়ে এই কথা বলি।
আরিফা ঃ এই না না,  আমি আসছি ।
তানিশা ঃ তুই আয় আমি নিচে যাচ্ছি।
আরিফা ঃ দুই মিনিট পর আসছি।
তারপর তানিশা চলে গেল।
আরিফা ঃ এইবার একটা কিস দাও তো।
আমি ঃ এখন আবার কিসের কিস।
আরিফা ঃ এই তুমি দাও আমাকে নিচে যেতে হবে।
আমি ঃ আর তো মাত্র অনেকটা দিন, অপেক্ষা করো।
আরিফা ঃ বুঝতে পারছি।
এই কথা বলেই ঝাঁপিয়ে পড়ল আমার উপর।
আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, ছাদে পড়ে গেলাম আরিফা আমার উপর পড়ে গেলো,
আমার বুকের সাথে লেপ্টে আছে তার শরীর।
কিছুক্ষণ চোখে চোখে কথা,
আমি ঃ আরিফা আমার মাথায় ব্যথা করছে, মনে আঘাত লেগেছে।
আরিফা ঃ কয় দেখি দেখি,।
আরিফা ঃ এই তোমার মাথা থেকে রক্ত পরছে।
আমি মাথায় হাত দিয়ে দেখি অনেক রক্ত ঝড়ছে।
আরিফা একটা চিৎকার দিয়ে গেন হাড়াল ।
কেমন লাগে বলেন তো, কেটেছে আমার অথচ উনি গেন হাড়াল , এইটা জাতি মেনে নিবে বলেন,। থাক জাতির মেনে নিতে হবে না, আপনারা মেনে নিলেই হবে।

চলবে..............

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।