আপুর বান্ধবী যখন বউ - পর্ব (১৪)


আমি ঃ আমাকে যেতে দাও এতে আমাদের দুজনের জন্যেই ভালো হবে।
আরিফা ঃ আমি আর কখনো তোমার সাথে বাজে ব্যবহার করবো না, তোমাকে আর সন্দেহ করবো,, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি তাই তোমাকে কখনো হারাতে চাই না।
আমি ঃ আরিফা  তুমি এত পাগল হলে আমি যেতে পারব না, তুমি আমাকে যেতে দাও, আমি পড়ালেখা করে তোমার কাছে ছুটে আসবো।
আরিফা ঃ কেন যাবে তুমি, আমার কাছে থাকো।
আমি ঃ তোমার মন চাইলে তুমি কানাডায় যেতে পারো, আর আমি তোমার সাথে প্রতিদিন ভিডিও কল করে কথা বলবো, ও আর একটা কথা তুমি মনে হয় আফিফার খবর জানো না, ঐদিন যেই ছেলেকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম সেই ছেলের সাথে আফিফা চুটিয়ে প্রেম করছেন।


আরিফা ঃ কোন দিনের কথা বলছো তুমি।
আমি ঃ ঐ যে ফেইসবুকে যেদিন আমাকে নিয়ে ছবি পোস্ট করেছিলো, ঐ দিন রাব্বানী হোসাইন আমার সাথে ছিলো, সেই ছেলেকে আফিফা ভালবাসে ।
আরিফা ঃ ঐ কারণে আমি তোমাকে মেরেছিলাম, আর মাও তোমাকে মেরেছিল।
আমি ঃ হ্যা কিন্তু ঐ দিন আমি বিনা কারণে মার খেয়েছিলাম।
আরিফা ঃ আর মারবো না বিদেশে যেওনা প্লিজ।
আমি ঃ আমার নিজেকে তোমার জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছি মাত্র দুইটা বছর তোমার কাছ থেকে চেয়ে নিচ্ছি, আমাকে তুমি বিশ্বাস করো না কেন।
আরিফা ঃ যদি গিয়ে সাধা চামরা দেখে বিয়ে করে ফেলো তাহলে আমি কিন্তু মরে যাবো।
আমি ঃ আমার সিনিয়র আপু কে রেখে কারো প্রেমে পরতেই পারি না,, আর তা ছাড়া আমি জীবনে তোমাকে ছাড়া অন্য কোন মেয়েকে ভালবাসিনি।
আরিফা ঃ তুমি প্রতিদিন আমাকে কল দিবে, আমি তোমার সাথে কথা বলা ছাড়া থাকতেই পারবো না।
আমি ঃ তাহলে তুমি অনুমতি দিচ্ছো তো।
আরিফা ঃ ওখানে অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাবে না।
আমি ঃ হা হা হা ঠিক আছে।
আরিফা ঃ  কখন যাবে আগামীকাল।
আমি ঃ বিকালে।
আরিফা ঃ আমি যদি আজকে তোমাদের বাসায় থাকি তাহলে কি তুমি আপত্তি করবে।
আমি ঃ তোমার ইচ্ছা, তবে আমি রাতে তোমার সাথে বসে আডডা দিতে পারবো না, আমার বাসায় অনেক কাজ আছে।

আরিফা ঃ ব্যাগপত্র গুছানো হয়ে গেছে।
আমি ঃ কিছুটা হয়েছে।
আরিফা ঃ বাসায় চলো আমি নিজের হাতে গুছিয়ে দিবো।
আমি ঃ ঠিক আছে, আন্টি আর আংকেল কে বলে নাও নয়তো বা উনারা চিন্তা করবে।
আরিফা ঃ আচ্চা তুমি মা বাবাকে বলেছো যে তুমি বিদেশে যাচ্ছো।
আমি ঃ হ্যা সকালে তোমার বাবা আর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছি।
আরিফা ঃ চলো তাহলে।
আমি ঃ হুম চলো।
তারপর বাসায় এলাম, খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম, সবাই মিলে আমার ব্যাগপত্র গুছিয়ে দিচ্ছে।
আমি  সাইদ ও মিজান কে আসতে বললাম ওরা এলো ওদের সাথে দেখা করলাম, রাতে আবার খাওয়া দাওয়া শেষ করে ছাদে গেলাম।

কিছুক্ষণ পর আরিফা ছাদে আসলো।
আরিফা ঃ একা একা দাঁড়িয়ে আছো কেন।
আমি ঃ এমনি, মনটা ভালো লাগছে না।
আরিফা ঃ তাহলে যেওনা।
আমি ঃ তোমার কথা চিন্তা করেই মন খারাপ হচ্ছে।
আরিফা ঃ আমার কথা তোমার ভাবার সময় আছে তাহলে।
আমি ঃ আমি ভাবছি যদি বিদেশে কোন সুন্দরী একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে ফেলি তাহলে তোমার কি হবে।
আরিফা ঃ আবার শুরু করলা, আজকে আমি তোমাকে মারতে পারব না, তাই এমন করছো।
আমি ঃ আমাকে একবার ঝড়িয়ে ধরবে প্লিজ।

এই কথা বলার সাথে সাথে ঝড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলো।
আমিও কান্না শুরু করলাম,
সব কিছু রাগের মাথায় করেছি কিন্তু আসলে তো আমিও আরিফা কে পাগলের মত ভালবাসি।
অনেকক্ষণ পর আমি শান্ত হলাম।

আমি ঃ আরিফা, এই আরিফা এবার আমাকে ছাড়ো।
আরিফা ঃ আর একটু পর এখন একটু এভাবে ধরে রাখো।
এমন সময় তানিশা গলা কাশি দিয়ে ছাদে এলো।
দুজন ঝটকা মেরে ছেড়ে দিলাম।
তানিশা ঃ মনে হয় এখন ছাদে আশাটা আমার উচিৎ হয়নি।
আরিফা ঃ না ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই।
আমি ঃ কেন এখন ছাদে আসলে কি সমস্যা।
তানিশা ঃ তোরা তো দুজন ঝড়ে ধরে পিষে ফেলছিলি তাই বললাম।
আমি ঃ কয়, কিছু না তো।
আরিফা ঃ আমি একটু নিচে যাচ্ছি আমার একটু কাজ আছে।
তানিশা ঃ তোরা দুজন থাক আমি নিচে যাচ্ছি আর আমিরুল তোর সাথে বাবার কি জানি কথা আছে,, আরিফা তোর বাবা মা এসেছে, তোদের দুইজনকে ডাকছে, আমি এই সেই বলে কিছুক্ষণ কথা বলছি তোরা কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আয়।

আমি ঃ না চল এখনি যায়,
আরিফা ঃ ৫ মিনিট পর যাবো তুমি এখন থাকো, এই তানিশা তুই নিচে যা ,
আমি ঃ পাগলামী করো না তো আংকেল আন্টি আসছে নিশ্চয় কোন জরুরী কথা আছে।
আরিফা ঃ তাহলে আবার ছাদে আসবা চলো নিচে চলো।
তারপর নিচে গেলাম।
আমি ঃ আসসালামুয়ালাইকুম আংকেল আন্টি কেমন আছেন।
আংকেল ঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম, ভালো আছি,।
বাবা ঃ আমিরুল তোর আংকেল বলছিলো তোর আর আরিফার বিয়েটা আজকে হয়ে যাক,,,
আমি ঃ এটা আবার কেমন কথা, আমি এখন বিয়ে করতে পারব না।
আংকেল ঃ আমরা চাই আরিফা তোমার মায়ের কাছে থাকুক।
আমি ঃ এমনিতেই থাকুক কোন সমস্যা নেই, আপনি মনে হয় আমাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।
আন্টি ঃ আমিরুল আমরা তোমাকে বিশ্বাস করি, তাই তোমার হাতে আমাদের একমাত্র মেয়েকে তুলে দিচ্ছি।
আমি ঃ পড়ালেখা শেষ না করে আমি বিয়ে করতে পারব না, বেয়াদবি নিবেন না দয়াকরে। আমি বিয়ে করে বউ বাসায় রেখে পড়ালেখা করতে পারবো না।

আংকেল ঃ অসুবিধা কী বাবা তোমার কাছে রাখো আর তোমার কি টাকা পয়সার অভাব আছে যে বিদেশে গিয়ে বড় ডিগ্রি নিয়ে আসতে হবে এবং চাকরি করে সংসার চালাতে হবে।
আমি ঃ আংকেল সকাল বেলা আপনি আর আন্টি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন, আর এখন অন্য কথা বলছেন।
বাবা ঃ দেখুন ভাই সাহেব আমি আমার ছেলের উপর কোন কিছু চাপিয়ে দিতে পারছিনা, আর আমার ছেলের চেয়ে আমার মেয়ে বড় তাই আগে আমি আমার মেয়ের বিয়ে দিতে চাইছিলাম, এখন যদি আপনারা এমন করেন তাহলে কিভাবে হবে বলেন।
আংকেল ঃ তাহলে আপনি আপনার মেয়েকে বিয়ে দেন, এরপর আমিরুল পড়ালেখা শেষ করে আসুক পড়ে বিয়ে করবে।

তারপর আমি আমার রুমে গেলাম,,
কিছুক্ষণ পর আরিফা কল করে ছাদে যেতে বললো, এবং ছাদে গেলাম

আমি ঃ আবার ছাদে আসতে বললে কেন।
আরিফা ঃ আজকে বিয়েটা করলে কি এমন হতো।
আমি ঃ পড়ালেখা করেই বিয়ে করবো, আর বিয়ে করবো বড় অনুষ্ঠান করে, এমন চুপ করে বিয়ে করবো কেন।
আরিফা ঃ আমি মা বাবা কে অনেক রিকোয়েস্ট করে এখানে এনেছিলাম, তুমি সব কিছু নষ্ট করে দিলে।
আমি ঃ ভালবেসেছি সবাইকে জানিয়ে আর বিয়ে করবো এভাবে তা তুমি ভাবলে কিভাবে।
আরিফা ঃ তোর মাথা তুই যা ভালো মনে করিস তাই করিস, আমি আর বাসায় যাবো না, আজ থেকে এখানেই থাকবো।
আমি ঃ তুমি তোমার বাড়িতে থাকবে, আর এখানে মাঝে মাঝে থাকতে আসবে,।
আরিফা ঃ আমি মাঝে মাঝে বাসায় যাবো আর সব সময় এখানেই থাকবো।
আমি ঃ তোমার ইচ্ছা যা মনে করো তাই করো এখন আমি রুমে যাচ্ছি ঘুমাতে হবে।
আরিফা ঃ আপনার ফ্লাইট বিকালে সকালে ঘুমাবে সারারাত আমার সাথে বসে আডডা দিবে এই নিয়ে কোন কথা হবে না।
আমি ঃ ঠিক আছে কিন্তু আমি সারারাত থাকতে পারবো না, সকালে কিছু কাজ করতে হবে,
আরিফা ঃ আমি কাজ করে দিবো, আচ্চা তুমি আমার হাঁটুর উপর মাথা দিয়ে এখানে ঘুমিয়ে যাও, আমি তোমার মাথার চুল গুলো বিলি কেটে দিচ্ছি।

আমি ঃ ঠিক আছে,।
তারপর অনেকক্ষণ এবারে আরিফার হাঁটুর উপর মাথা রেখে গল্প করলাম,
কখন যে ঘুমিয়ে গেছি তা নিজেই বলতে পারব না, সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো তখন দেখি আরিফার মাথা আমার বুকের উপর, আর আমি আরিফার হাঁটুর উপর মাথা দিয়ে শুয়ে আছি।
তারপর হঠাৎ করে বাবা ছাদে আসলো।
বাবা ঃ কিরে তুই রাতে ঘুমাসনি।
আমি না শোনার ভান করে এভাবেই থাকলাম। বাবা কিছুক্ষণ বকবক করে নিচে চলে গেলো।
বাবা নিচে যেতেই আরিফা বলছে এই উঠো উঠো বাবা এসেছিলো,
আমি ঃ আমি জানি বাবা এসেছিলো, কিন্তু লজ্জায় উঠতে পারিনি।
আরিফা ঃ তুমি নিজেই ফেঁসে গেলে আমাকেও ফাসালে।
আমি ঃ তুমি তো এখানে থাকতে বললে, এখন নিচে যাও ফ্রেশ হতে হবে, আর আমার কাজপত্র গুলো গুছানো লাগবে।
আরিফা ঃ নিচে চলো,
তারপর নিচে গিয়ে সব কিছু গুছিয়ে নাস্তা করলাম,
বাসায় বসে বসে গল্প করছি, দুপুরের খাবার খেয়ে বিমানবন্দরের দিকে রওনা দিলাম,
এখন আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি বিমানবন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে।
বাবা ঃ কানাডায় গিয়ে একটা ফোন দিবি ।
মা ঃ ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবি ।
তানিশা ঃ নিজের খেয়াল রাখবি ।
আমি ঃ হুম।

এখন আমার যেতে মন চাইছে না, কারো মুখের দিকে তাকাতে পারছিনা,
কেউ কান্না করছে না, তবে সবার চোখে পানি তা বুঝতে পারছি।
মাকে জড়িয়ে ধরে আছি,,

মা ঃ কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করবি না,  মন চাইলে আসবি ।
আমি ঃ তুমি নিজের খেয়াল রেখো।
বাবা কাছ থেকে বিদায় নিলাম, আরিফার বাবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিলাম।
এইবার আরিফার সামনে গেলাম।
আমি ঃ আরিফা আমি আসি দোয়া করো, মন চাইলে আমাদের বাসাতেই থেকো।
আরিফা কোন কথা না বলে ঝড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করলো,,,
আমি কিছু বলতে পারছিনা গলাটা কেমন যেন শুকিয়ে গেছে, চোখের পানি পড়ছে কিন্তু মুখ দিয়ে কিছু বলতে পারছিনা।
কিছুক্ষণ পর বললাম এইবার ছাড়ো আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আরিফা ঃ নিজের খেয়াল রাখবে, কোন ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবে, মোবাইলে ভিডিও কল করে কথা বলবে।
আমি ঃ ঠিক আছে,
আরিফা ঃ কেঁদে কেঁদে বলছে আর কোন মেয়ের দিকে তাকাবে না, বিদেশে সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখে আমাকে ভুলে যেওনা, মনে রেখো তোমার জন্য কেউ একজন অপেক্ষা করছে।
আমি ঃ হুম এখন আসি,
তারপর আসতে আসতে ভিতরে গেলাম পিছনে তাকানোর শক্তি আমি হারিয়ে ফেলেছি,
আমি জানি পিছনে তাকালে আমি আর যেতে পারবো না।
ভিতরে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শেরে বিমানে উঠে বসলাম।
ভিডিও কল দিয়ে সবাইকে দেখলাম, কিছুক্ষণ পর বিমান ছেড়ে দিলো আর ভিডিও কলটা কেটে গেলো।
তারপর কানাডায় দুইদিন পর আসলাম,,,
অনেক সুন্দর একটা দেশ, উন্নত দেশ উন্নত জাতি,,
সব কিছু থাকলেও আমার জন্ম ভূমির কাছে এসব কিছুই না,, আপনারা হয়তো বা বিশ্বাস করবেন না কিন্তু যারা প্রবাসী তারা যানে দেশের মায়া কেমন, দুনিয়াতে একমাত্র প্রবাসীরাই দেশ কে বেশি ভালোবাসে...

(এখন খারাপ সময় তাদের সাথে চলতে না পারলেও তাদের কে কষ্ট দিয়ে কোন কথা বলবেন না, এই সময়ে আমরা নিজেদের কে সচেতন করে রাখার চেষ্টা করবো গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে বাহিরে যাবার কোন প্রয়োজন নেই, আপনার পাসের মানুষের খোঁজ খবর নেন,, এবং আপনার অবস্থান থেকে তাদের কে সাহায্য করুন, মনে রাখবেন হতদরিদ্র সবার কাছে হাত পাততে পারলেও মধ্যবিত্যরা তা পারে না,,  সম্পদ ব্যবহার করার জন্য এখন উপযুক্ত সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন,, নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচানোর চেষ্টা করুন,, তবে সব কিছু খেয়াল রেখে করবেন নিজের জীবন কে ঝুঁকিতে ফেলবেন না, ইতালিতে অনেক সম্পদ শালী ব্যক্তি তাদের সম্পদ রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে আর বলছে এই অর্থ সম্পদ দিয়ে কি লাভ যা আমাদের কোন কাজে আসেনি, বাঁচাতে পারেনি আমাদের আপনজনের, আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন- আমিন)

এর মা বাবা কে ফোন করলাম, আরিফা নাকি আমাদের বাসাতেই থাকবে, মেয়েটা পাগলী , এতটা পাগল অথচ ওর উপর রাগ করেই আমি চলে এলাম কাজটা আমার মোটেও ঠিক হয়নি,,
যাই হোক এবার আমার রুমে গেলাম,
আমার সাথে একটা রুমমেট আছে মনে হয়,
আমি বাসার মালিকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে রুমে গেলাম দুই তলা বাসা  দিতীয় তলায় আমার রুম আমার রুম বলতে আমার পাশের রুমে একজন থাকবে তার সে তার রুমে থাকলেও দুজনের একটা কিচেন একটা ওয়াশ রুম,
তারপর নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ রুমে গেলাম,,
গোসল করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
বিকালে ঘুম ভেঙে গেল,, দরজায় টুকার আওয়াজে,,

আমি দরজা খুলে দেখলাম একটা মেয়ে।
আমি ঃ কি চাই এখানে।
মেয়ে ঃ আমি আপনার পাসের রুমে থাকি।
আমি ঃ আপনি কি বাঙালি।
মেয়ে ঃ হ্যা আমি বাঙ্গালী এই বাসার মালিক বাঙালি।
আমি ঃ ঠিক আছে আপনি এখন আসতে পারেন, আমি এখন ঘুমাবো।
মেয়ে ঃ এই যে মিস্টার ধারান, আপনার নাম কি, আপনি কানাডায় কেন আসছেন।
আমি ঃ আমার নাম আমিরুল, পড়ালেখা করার জন্য আসছি ।
মেয়ে ঃ গুড, সকালে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত বাথরুমে যেতে পারবেন না।
আমি ঃ আপনার নাম কি ।
মেয়ে ঃ আমি রূপা,
আমি ঃ দেখো রূপা একসাথে থাকবে কোন জোর খাটাতে যেওনা, যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে অন্য বাসা দেখতে পারো, আমার সাথে উচ্চ আওয়াজে কথা বলবে না, মেরে তকটা বানিয়ে দিবো,, ১০০% ময়মনসিংহের মাল,,  কথাটা যেন মনে থাকে,,
রূপা ঃ ঐ শালা আমিও ময়মনসিংহের প্রডাক্ট এত বড় বড় কথা বলিস না মেরে মাটি চাপা দিয়ে দিবো।
সাথে ঠাস ঠাস করে দিলাম একটা গালে।
আমি ঃ এখান থেকে বিদায় হো,, অন্য বাসা দেখ টাকা লাগলে আমাকে বলিস,,,,।
রূপা ঃ আমি তোকে জেলের ভাত খাওয়াবো ।

আমি ঃ তোকে মার্ডার করবো, তারপর নিজেই জেলে যাবো।
তারপর রূপা আর কোন কথা বলেনি,,, চলে যায়, অবশ্য রূপা চাইলে আমাকে জেলের ভাত খাওয়াতে পারতো কিন্তু তা করেনি,, বরং বাড়িওয়ালা কে বলেছে আমাকে যেন বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
রাতে খুদা লাগছে, বাহিরে গিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে এলাম,,
রূপা ঃ এই যে মিস্টার আপনার খারাপ রুমে রাখা আছে খেয়ে নেন।
আমি ঃ আমি তো বাহিরে গিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে এলাম।
রূপা ঃ এখানে সহজে বাঙালি খাবার পাওয়া যায় না, একটা লোকের সাথে কথা বলে খাবার ঠিক করেছিলাম, সে আমাকে প্রতিদিন খাবার দিয়ে যায় আজকে বাড়িওয়ালা আপনার নাম দেখিয়ে দিয়েছে, তাই আজ থেকে আপনি ঐ খাবার খাবেন।
আমি ঃ ধন্যবাদ রূপা, তখন আমার মাথা নষ্ট ছিলো তাই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিলাম,আমি সত্যিই দুঃখিত।
রূপা ঃ ঠিক আছে আমারো তখন এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি।

চলবে...........

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।