সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৫)



মোবাইল টা অন করেই নেটওয়ার্ক নেই। তার মানে আমরা জঙ্গলের এমন জায়গায় আছি নেটয়ার্কের বাইরে। আচ্ছা দিন আপনার ফোন। ইশ যা ফোনটা তো জঙ্গলের ভিতর পড়ে আছে। আমি যখন অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম তখন তো ছিটকে পড়ে গেছিলো কোথাও!! খুব ভালো করেছেন, আপনার ফোন থেকে তুলে নিন আমি শেয়ার করে নিবো। প্লিজ না বলবেননা। আচ্ছা ওকে.। এবার ঘুমান। আমি মুর্তির কাছেই ঘুমাবো এত সুন্দর মুর্তি আহা কখনো কি এতো সৌভাগ্য হবে। আপনি বাইরে ঘুমান। আরে বাইরে জিবজন্তু কি থাকে। কেন আপনার নাকি কোন কিছুতে ভয় নাই। তাহলে এখন ভয় পাচ্ছেন কেন?? আচ্ছা আমি বাইরে ঘুমাচ্ছি। শোনেন এই ঘরে এক বুড়ি থাকতো সে প্রতিরাতে ভুত হয়ে এখানে আসে তার সুন্দরি মুর্তি পাহারা দিতে। বিশ্বাস করছেননা এই দেখেন তার প্রমান। ওমা সত্যি তো একটা সাদা শাড়ী যে। দেখুন ভয় দেখাবেননা মোটেও। আমি থাকতে পারবো যান তো আপনি। আচ্ছা ঠিকাছে। ঘুমিয়ে পড়লো নিধিয়া..

হঠাৎ কিটিমিটি শব্দে জোরে জোরে আওয়াজ হতে থাকলো। নিধিয়া ভয়ে ভয়ে বাইরে এসে নিশাতের পাশে শুয়ে পড়লো।। কি বেপার!! আপনি এখানে কেন রাজরানী?? না মানে ভুত?? হ্যা ভুত। নিশাত নিধিয়া দুজনে সামনে ঘুরলো। দুজন দুজনকে দেখছে। ঘুমের ভাবে আচ্ছন্ন দুজন প্রায়। হঠাৎ করে গায়ে জাল পড়লো। আরে আরে দুজনে চিৎকার করলো।। হই হই লে লে লে লে ইগড়িং বিগড়িং। হো সেনফু লিতামি.. হো সেন ফু লিতামি।। জাবাকানকা বিদারা উঠানকা লে লে লে সব হইচই সাড়ি বেদে ওদের দুজনের পাশে জংলীরা ঘিরে ধরলো। আর রক্ষা নেই। আগেই নিধিয়া পড়েছিলো এই জঙলী আদিবাসিদের বিষয়ে।এরা এদের মতো চলে। দেখার পালা কি হয় ওদের সাথে। একজন সর্দার বোধয় পেট মোটা বেশ এসেই বললো মারাক্কো তেক্কি ফিসবিঙ লিতাবু মারাক্কো মারদ দুর বাল কি সব ভাষা নিশাতের খুব রাগ হচ্ছে। জাল তুলেন বলছি। জাল তুলেন। সর্দার মনে হচ্ছে ক্ষেপে যাচ্ছে। আরো জোরে জোরে বলছে মাক্ফা কাফ্কা জালাতুগা জালাতুগা। ফালিয়া খাতা। মুজা বালিয়া দিতা। এই থামেন তো আপনাদের আজগুবি ভাষায় বলেন কেন। বাংলায় বল আবে। নিধিয়া মিচকি হেসে ফেললো। আরে আপনি হাসছেন জাস্ট গো এহেড। আপনি এদের সাথে থাকুন কেমন আমি চললাম। দেখুন মিঃ ওরা সংখ্যায় অনেক আর আমরা জালে বন্দি তাই মাথা গরম করেননা বুদ্ধি দিয়ে ওদের বোকা বানাতে হবে। তার আগেই জালটাকে জড়োসড়ো করে গুটিয়ে বাশে ঝুলিয়ে দুই দিকে দুইজন দুইজন করে ধরে ঝুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আর কিসব বলছে। মেক্কা মেক্কা তেক্কা তেক্কা বালিয়া দিক্কা এই বাবা বালিয়া মানে আবার বলি না তো নিধিয়া বলে উঠলো। এমন ভাবে জালটাকে পেচিয়ে ঝুলিয়েছে নিশাত নিচে আর নিধিয়া নিশাতের বুকের উপর নাক বরাবর ওর ঠোট.. বার বার ঝাকুনিতে ঠোটে ঠোট স্পর্শ করছে। দুর কি জ্বালায পড়লাম রে। আপনি সরুন আরে আপনি সরুন। দুর।দুজনে বন্দি। ওরা সব ঢোল বাজাচ্ছে আর গান মেক্কা মেক্কা তেক্কা তেক্কা বালিয়া দিক্কা।। দেখেন যদি বলি দেই তাহলে?? কেন আপনি তো ওদের ভাষা বুঝছেন তা যাননা সুন্দর আছেন ওদের গানে নেচে একটু ওদের কাছে মুক্তি চাইতে। দুর মজা করেননা তো। কি করে বাচবো সেটা ভাবুন। আমার ভাবা হয়ে গেছে। কি কি কি ভাবলেন? কি আবার আপনাকে ওদের হাতে দিয়ে বলবো আপনার জন্য জঙ্গলে এসেছি। দুর আপনি মজা করেন না তো। আরো জোরে ওদেরকে নিয়ে যাচ্ছে একবার মুখে, একবার কপালে, একবার ঠোটে দুজনের ঠোটে চুম্বন সুষ্টি হচ্ছে। নিধিয়া আর নিশাত গায়ের জোরে জাল ছেড়ার চেস্টা করলো। যে শক্ত জালরে বাবা। ব্যর্থ। হাপিয়ে আবার দুজনের বুকের উপর। আপনার জন্য না। দুর ভালো লাগেনা। একটু পর ধপ করে ফেললো নিশাত আর নিধিয়াকে জালসুদ্দ মাটিতে। ওরে বাবারে ওরে মারে উফ মরে গেছি। এবার নিধিয়া জালের নিচে পড়েছে। বুঝতে পেরেছেন তাহলে শক্ত মাটিতে কোমরে লেগেছে আবার গায়ের উপর আছে একটা মানুষ। এই ন্যাকামি বন্ধ করুন তো। জক জক ফিরহুদা ফিরহুদা কামরি আগা কামরি আগা। সবাই মাটিতে মাথা নুইয়ে ফেললো। একদল মেয়ে আসলো কি সব কাপড় চোপড়। মাথায় লতাপাতা, লতাপাতার জামা। আমার মাথা ঘুরিয়ে আসছে। সামনে তাকাতেই এক জঙ্গলি এগিয়ে আসছে। এটা বোধয় রাজা। আর সবার থেকে পোশাকটা ভিন্ন। সবাই বিনয় নিবেদন করছে মাটিতে লুটিয়ে। ওদের জ্বাল থেকে মুক্ত করলো। নিধিয়া বললো প্লিজ মাথা ঠান্ডা রাখুন। ওরা কি করে সেটা দেখুন। মাথা গরম করবেননা প্লিজ। হ্যা এবার বলি। ওরা ওদের ভাষায় বলছিলো। তোদের কত সাহস মানুষ হয়ে আমাদের স্হানে পা দিয়েছিস, তাও লতাদেবির ফল খেয়েছিস। রাজার কাছে নিয়ে যাবো। তোদেরকে বলির পাঠা বানাবো। 

চলবে............


SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।