সর্পদোষ - পর্ব (১)

ফারিয়ার বুকের উপর অনেক বড় এক সাপ। ভয়ে ফারিয়া চোখ বন্ধ করে ফেলে। কিছুক্ষণ পর ফারিয়া বুঝতে পারে, সাপটি তাকে ধর্ষণ করতেছে। ফারিয়া চোখ বন্ধ করে কান্না করতে লাগলো। একটা সাপের যৌনাঙ্গ কিভাবে হতে পারে কাওকে ধর্ষণ করার জন্য। একদিকে কষ্ট তো হচ্ছেই, অন্যদিকে জীবন বাচাতে সে চুপ মেরে আছে। দাতগুলো খিটমিট করে চাপাতে লাগলো। অনেক্ষন পর সাপটি ফারিয়াকে ছেড়ে নেমে যায়। ফারিয়া শুয়া থেকে উঠে দেখে নিজের নিম্নাংশে রক্ত বয়ে যাচ্ছে। এরপর আর কিছু মনে নেই তার। 


একই ঘটনা ঘটে গেলো ফারিয়ার বান্ধবী মিমের সাথে। মিমকেও একটা সাপ ধর্ষণ করেছে। কিন্তু কিভাবে কি, সেটাই বুঝার উপ্ব্য নেই। ধর্ষণ করাটা চোখে না দেখলেও, অনুভব করা যায়। যৌনমিলনের সকল কার্যক্রম করা হচ্ছে তা উপলব্ধি করা যায়। তাদের স্তন নিয়ে কেও খেলা করে, তাও স্পষ্ট ধরা যায়। কিন্তু সাপটি কি আদৌ সাপ? নাকি অন্য কিছু? সাপ তো হবার কথা নয়, কিন্তু অন্য কিছুও বা কি হতে পারে। আর যদি তারা জানেও, তবে তাকে শেষ করা অথবা এর সনাধানও তো পাওয়া যাবেনা। মিম বলল,

- শুন ফারিয়া, আমার সত্যিই খুব কষ্ট হয়। আমার তো এখনো বয়সই হয়নি।
- আমার তো মজাই লাগে।
- মাথা খারাপ তোর? একটা অদৃশ্য কিছুর সাথেও মজা নিস?
- প্রথম প্রথম খারাপ লাগতো। এখন আর লাগেনা।
- কিজানি বাবা, তোর ভালো লাগাতেই দোষ আছে।

৫ দিন পর....


- শুন ফারিয়া, এখনো কি তোকে করে?
- হ্যাঁ। কেনো?
- না মানে আমারো এখন ভালো লাগে। উফফ কি অনন্দ।
- দেখলি তো? আমার মত তুইও হয়ে গেলি।

আরো ৫ দিন পর...

এলাকায় ফারিয়া এবং মিমকে খুজেই পাওয়া যাচ্ছেনা। কিছুদিন যাবত ওদের চোখের চাহনিতে কেমন একটা কামভাব কামভাব থাকতো। আমেরিকার ভদ্র আপাদের স্টাইলে চলাফেরা করতো। কিন্তু হটাৎ করে হারিয়ে গেলো কোথায়। এই নিয়ে পুরো গ্রামবাসী চিন্তিত। তাদের সাথে যে একটা সাপ এতোদিন অঘটন করেছে, তা ওরা দুজন ছাড়া আর কেও জানতো না।এদিকে তাদের দুজনের নিখোঁজে পুরো এলাকা গরম।সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় এলাকার একজন ধার্মিক, ও মায়া বিদ্যার অধিকারী রনি ওজি। উনি তান্ত্রিক গিরি করে অনেক নাম কামিয়েছে৷ রনির আগমনেই পুরো বাড়ির সবাই সাহায্য চাইতে লাগলো। রনি ফারিয়ার বাসায় গিয়ে দেখে সব ঠিকঠাক। অর্থাৎ কিডন্যাপ হয়নি। এরপর পুরো রুমের গন্ধ নিতে চেষ্টা করায় বুঝতে পারে,গতরাতে এখানে অশরীরী ছিলো। রনি ঘেটেঘুটে টেবিলের উপর একটা ডায়রী পায়। সেখানে ফারিয়া ও মিমের পুরো ঘটনা জানতে পারে রনি। কিন্তু তারাও তো জানতো না, সাপটি আসলেই কে। আর কোথা থেকে এসেছে। এদিকে ডায়েরিতে পুরোনো ঘটনাই লেখা। রনি ডায়েরিটা ব্যাগে ঢুকিয়ে, ফারিয়া আর মিমের পরিবারকে বলল," পরে জানাচ্ছি, এখন কাজ আছে"।

রনি সোজা চলে আসে অন্ধরাজ মহলে। হ্যাঁ, অন্ধরাজ মহল। এইটা শুধু নামেই নয়, দেখতেও মহলটা অনেক বড়। পুরোনো কোনো রাজমহল বললেও চলে। এখানে একজন লোক থাকে, নাম রিয়াজ। পেশাগত অভ্যাস হচ্ছে গোয়েন্দা গিরি করা। মিশনের নেশায় ঢুবে থাকা যার অভ্যাস। রহস্য নিয়ে খেলা করার উপায় খোজাও এক রহস্য, সেই রহস্যকে খুজে বের করতেও লাগে রহস্য। এভাবে রহস্যকে হার মানিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তার মাঝেও থাকে রহস্য। কিন্তু গোয়েন্দা রিয়াজ সব সময় এমন কিছু কর‍তে চায়, যেটা রহস্যকে বলবে" আমি তোর থেকে উন্মোচন"।


রনি এসে রিয়াজকে খুজতে লাগলো। রিয়াজের আসল লাইব্রেরিতেও নেই সে( যেখানে গবেষণা করে)। রনি এদিক সেদিক ডাকছে রিয়াজকে। কিন্তু কোনো হুদিশ নেই তার।এমন সময় রিয়াজ রনির পিছন থেকে বলল " আমি তো এখানেই, দেখ? " রনি পিছনে তাকিয়ে দেখে রিয়াজ নেই। রনি হয়ে যায় অবাক, গায়েবি জানে নাকি রিয়াজ। রনি আবার শুনতে পায় রিয়াজ উপর থেকে বলে," আমি এখানে, দেখ? "। রনি উপরে তাকায়, দেখে রিয়াজ নেই৷ এরপর টেবিলের দিকে তাকিতে দেখে রিয়াজ টেবিলের উপর শুয়ে শুয়ে বই পড়তেছে। রনি রিতীমত অবাক হয়েই যায়। এই মাত্র এখানে কেও ছিলোনা। রনি জিজ্ঞাসা করে।

- কিরে, অদৃশ্য হওয়ার কোনো মন্ত্র শিখলি নাকি।
- না।
- তাহলে কিভাবে করলি এইটা?
- রহস্য দোস্ত, রহস্য।
- এই থাম তো, তোর এসব কিছুই বুঝিনা। সারাদিন কি এতো রহস্য রহস্য করিস।
- শুন,মানুষত্বের অপলোকে দৃষ্টি আহরণের প্রেক্ষাপটের এক শক্তিই যাদুবিদ্যা। আমি অদৃশ্য ছিলাম না, অথচ তোর চোখের অগোচরে ছিলাম আমি। রহস্য রহস্য রহস্য।
- এত না পেচিয়ে কিভাবে করলি সেটা বল।
- রহস্য দোস্ত রহস্য।
- রহস্যটা কি সেটা বল।
মানুষত্বের অপলোকে দৃষ্টি আহরণের প্র...
- বুঝেছি, আর বলতে হবেনা। তোর সঙ্গে কথা বলাই এক রহস্য।
- হ্যাঁ দোস্ত রহস্য।
- কিন্তু রহস্যটা কি।
- মানুষত্বের অপ...
- থাম। নতুন মামলা এসেছে। এইবার বের কর রহস্য।
- হ্যাঁ, এখানে বসে সব কাজ করি আমি৷ আর বাহিরে নাম কামাই করস তুই। এইটাও কিন্তু একটা রহস্য।
- বাদ দে তোর চুলের বৎস্য।এই নে ডায়েরিটা পড়। এই মেয়ে দুইটি নিখোঁজ। কি হয়েছে দেখ।( এই বলে রনি ডায়েরিটা রিয়াজের হাতে দেয়। রিয়াজ ডায়েরিটা পড়ে রনিকে বলল।)
- অর্থাৎ কোনো অশরীরী তাদের সাথে যৌনমিলন করতো। এভাবে ধীরে ধীরে তাদের বশ করে নেয়। এরপর তাদেরকে নিজের আয়াত্তে এনে, গায়েব করে দেয়। তারা জানতোনা সুখ কি। কিন্তু অশরীরী এমন ভাবে তাদের বশ করেছে, তখন মেয়ে দুটোর কাছে সেটাই ভালো লাগতো, যেটা অশরীরী করতো।
- কিন্তু অশরীরী কে? আর কি তার উদ্দেশ্য?
- সেটাই তো রহস্য।
- তো বের কর..?
- বের করাও একটা রহস্য।

- এতো রহস্য রহস্য করে তোর লাভ কি বল?
- আমি কি জানি..
- তোর সাথে কথা বলাটাই আমার অপরাধ৷ এখন ফাসির দড়িতে দিলেও আমি হাসি মুখে বরণ করে নিবো। তবুও তোর রহস্য রহস্য শুনতে রাজি না।
- দেখলি দোস্ত, এইটাও একটা মেন্টালি হ্যারেজমেন্ট। এর মাঝেও আছে রহস্য।
- আমার বাল। আমি গেলাম, রাতে আসতেছি। তুই গবেষণা কর কিভাবে মেয়ে দুটোকে বাচাবি।
- আচ্ছা।
- হু গেলাম।
- আচ্ছা শুন।
- হ্যাঁ বল,
- তুই যে দরজা খোলে বের হবি, এইটাও একটা রহস্য।
- ধুরররর শালা, আমার মাথা তোর কল্লা।
- হা হা হা

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।