লাশ কাটা ঘর - ভূতের গল্প

রাত তখন ২.৩০। আজ অফিস থেকে ফিরতে বড্ড দেরি হয়ে গেছে জিয়ামের। রাস্তায় এসে একটাও সিএনজি বা রিকশা কিছুই দেখতে পেলো না সে। কি আর করার যথারীতি হাটতে থাকলো জিয়াম। কিছুদূর যেতেই জিয়াম ভাবতে লাগলো যদি মেইন রোড দিয়ে যাই তাহলে এক ঘন্টা লাগবে। আর যদি মাজারের পাশ দিয়ে নৌকা পার হয়ে যাই তাহলে ১০ মিনিট লাগবে। 




যেই ভাবা সেই কাজ। জিয়াম ঠিক করলো সে নৌকা দিয়ে খালটা পার হয়েই বাসায় ফিরবে। উল্লেখ্য যে, খালটার পাশেই একটা পুরনো লাশকাটার ঘর রয়েছে। জিয়াম যখন মাজারের পাশ দিয়ে খালের রাস্তার দিকে যাচ্ছিলো, তখন জিয়াম খেয়াল করলো মাজারের কবরস্থানের উচু দেওয়ালের উপর থেকে একজন সাদা কাপড় পরিহিত বৃদ্ধলোক তাকে খালের ঐদিকে যেতে নিষেধ করছেন। কিন্তু জিয়াম সে কথায় পাত্তা দিলো না। তখনো জিয়াম খালের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলো। এবং হাটা শুরু করলো। বৃদ্ধ লোকটি তখন বলে উঠলো পরে কোনো ক্ষতি হলে আমাকে দোষারোপ করতে পারবি না। এই রাস্তা ভালো না। তুই অন্য রাস্তা দিয়ে যা। তোর ক্ষতি হবে। তোর ক্ষতি হবে। এই বলেই লোকটি হঠাত মাজারের কবরস্থানের মধ্যে উধাও হয়ে গেলেন। জিয়াম অনেক সাহসী ছিলো। জিয়াম ভেবেছে কোনো পাগল টাগল হবে। তাই সে এসব কিছুর তোয়াক্কা না করে ঘাটে গিয়ে পৌচ্ছালো। তখন জিয়াম খেয়াল করলেন পুরো ঘাটে কেউ নেই। ঘাট সম্পূর্ন জনমানবশূন্য। ঐ ঘাটে সরকারী একটি নৌকা ছিলো। যা রশি টেনে টেনে এপার ওপার হওয়া যেতো। তখন আর কিছুই করার নেই তাই জিয়াম একা একাই নৌকায় উঠলো। নৌকায় উঠার পর জিয়াম খেয়াল করলো খালের পাড়ের পুরনো লাশকাটা ঘরটার দরজা আপনা-আপনি খুলে যাচ্ছে, আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। . এসব দেখে জিয়াম প্রচন্ড ভয় পায়। তখন জিয়াম জোরে জোরে নৌকার রশি টানতে লাগলো। কিন্তু সে হঠাত দেখতে পেলো খালের ওই পাড়ের ঘাটে কালো কাপড় পরিহিত বিভৎস এক মহিলা তার দিকে তাকিয়ে হাসছেন। জিয়াম সাথে সাথে মধ্য খালে নৌকা থামিয়ে দিলো। জিয়াম না কি শুনেছে আগুন সাথে থাকলে নাকি খারাপ কোনো কিছু পাশে আসতে পারে না। তাই জিয়াম তার পকেট থেকে সিগারেট বাহির করে টানতে লাগলো। . তখন ওই মহিলাটি ঘাটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জিয়ামের দিকে তাকিয়ে হাসছে। এদিকে জিয়াম একটার পর একটা সিগারেট জ্বালাতেই আছে। কিছুক্ষন পর হঠাত মহিলাটি বলতে লাগলো এই সামান্য আগুন আমার থেকে কতোক্ষন তোকে রক্ষা করবে। তোকে তো পাড়ে আসতেই হবে। 



জিয়াম এই কথা শোনার পর চিৎকার করে কান্না শুরু করে দেয় এবং বাঁচার জন্য চিৎকার করেন। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। কারণ আশেপাশে এলাকা তখন সম্পূর্ন নিরব। জিয়ামের কান্না দেখে বিভৎস সেই নারী আরো জোরে হাসতে শুরু করলেন। এসব করতে করতে প্রায় ফজরের আযান দেওয়ার সময় হয়ে যায়। জিয়াম তখন দেখলো বিভৎস সেই মেয়েটি আস্তে আস্তে হেটে হেটে লাশকাটা ঘরের দিকে চলে যাচ্ছে। যেতে যেতে হঠাৎ সেই বিভৎস মেয়েটা পিছনে ফিরে জিয়ামকে বললো, তোর কপাল ভালো, তুই আমার হাত থেকে বেঁচে গেলি। আগামী তে হাতে পেলে আর ছাড়বো না। এই বলেই মেয়েটি লাশকাটা ঘরের দিকে আবার হাঁটা শুরু করলো। জিয়াম তখন আস্তে আস্তে নৌকার রশি টানতে টানতে অপর পাড়ে পৌচ্ছালো। কিন্তু জিয়ামের দূর্ভাগ্য ছিলো, ততোক্ষনে জিয়ামের শেষ সিগারেটটি শেষ হয়ে নিভে যায়। তখনো ফজরের আযান দিতে ঢেড় বাকি। জিয়াম বিপদ কেটে গেছে মনে করে নৌকা থেকে নেমে আসে। কিন্তু জিয়াম বুঝতে পারেনি বিপদ এখনো তার জন্য অপেক্ষা করছে। নৌকা থেকে নেমে একটু সামনে যাওয়ার সাথে সাথে সেই কালো কাপড় পরিহিত বীভৎস সেই মেয়েটিকে তার পাশে দেখতে পায়। জিয়াম তখন দৌড়ে নৌকায় উঠতে যাওয়ার আগেই মেয়েটি জিয়ামের গলায় কামড় বসায়। জিয়াম সেন্সলেস হয়ে যায়। তখন সেই বীভৎস মেয়েটি জিয়ামের শরীরের থেকে মাংস গুলোকে খুবলে খবলে খেতে লাগলো। পরেরদিন সকালে জিয়ামের লাশটা পাওয়া যায় একটা গাছের উপর ঝুলন্ত অবস্থায়। জিয়ামের শরীরের ক্ষতের চিহ্ন দিয়ে ভরপুর। মনে হচ্ছে কোনো হিংস্র জানোয়ার তার ধারালো নক দিয়ে জিয়ামের শরীরটা কে ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো জিয়ামের শরীরে এক ফোটা বিন্দু পরিমান রক্তও বাকি ছিলো না। . 

গল্পঃ Rafiqul Islam Erafi
লেখকঃ রফিকুল ইসলাম

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।