সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২১)

অনেক ঝড়ো বাতাস মনে হয় এই বুঝি সবাইকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। আকাশ ভয় পেয়ে দৌড় দিলো হাত ছেড়ে। 
নন্দিনী : আকাশ যেওনা দাড়াও বলছি  নিশাত এক ঝাপে আকাশের সামনে। 






আকাশকে একটা থাপ্পর দিলো, তোর কি মাথা খারাপ চল আমার সাথে। নন্দিনী ওদের দুজনের হাত ধরে পুনরায় এগিয়ে গেলো।বাতাসটা হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে গেলো,চারিদিকে যেনো কোন বাতাসই ছিলোনা। নন্দিনী বুঝতে পারলো আকাশকে নিতে এসেছে কিন্তু তা সম্ভব নয় তাই ফিরে গেছে। ওরা দুর্যোগ মোকাবিলা করে কোনরকম বাড়ি পৌছালো,নন্দিনী বললো আকাশ, তুমি কি কি দেখেছো বলো আমাদের। আন্টি,রেনেসা ম্যাম ওনি আমাদের ম্যাম না, ওনি মারা গেছেন,প্রথম যেইদিন স্কুলের প্রথম বাচ্চাটাকে মারা হয় তখন ওনি মেরেছিলেন।কিন্তু ওনি মানুষ না। ওনি অন্য একটা বিশ্রী দেখতে। নন্দিনী: দেখোতো এটা কিনা। আকাশ: হ্যা আন্টি হ্যা হ্যা এটাই।এই ছবিটা কে একেছে?? নিশাত একেছে। তুমি এতো ভয় পেয়োনা তোমার কোন ভয় নেই,এই দেখো আমার গলায় যে তাবিজ এটার জন্য আমাদের কিছু করতে পারবেনা ওই সইতানটা। তারপর কি হলো : তারপর আন্টি ওই দিনকে রেনেসা ম্যাম আর আমি বাসায় আসি। আমরা রাতে একসাথে ডিনার ও করি। রেনেসা ম্যাম বললো, বাহ অনেক টেস্ট হয়ছে মিসেস লাইরা। মিসেস লাইরা হলো আকাশের মা। সবাই রাতে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুুত।নিচের বাসা থেকে আওয়াজ এলো, কেউ যেনো বাচাও বাচাও বলছিলো।আম্মু আব্বু দুইজনে রেনেসা ম্যামের দরজায় নক করলো। রেনেসা ম্যাম দরজা খুললো, বললো আরে মিসেস লাইরা কিছু কি বলবেন, না একটা আওয়াজ এলো যে, রেনেসা ম্যাম : কই কোন আওয়াজ পেলাম না, আর ইউ ওকে মিসেস লাইরা?? আম্মু আব্বু দুইজনে নিচ থেকে উপরে চলে আসলো। আমি জানালা দিয়ে দেখছিলাম উপর থেকে সবকিছু। রেনেসা ম্যাম দরজা বন্ধ করলো, আবার খুলে আমার দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত বিকট বিশ্রি হাসি দিলো। আমি চুপ করে রুমে চলে আসলাম।রাত ১২ টায় মনে হচ্ছে আমার রুমের জানালার পাশে নিচ দিয়ে কিছু একটা টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমার রুমটা ছিলো, মেইন দরজার সাথে উপরে বেলকোনির পাশে, মানে বেলকোনিতে দাড়িয়ে রাস্তার সবকিছু দেখতে পারবো, তারপর তারপর নন্দিনী বললো, 

আকাশঃ আমি সাহস করে আস্তে আস্তে বেলকোনিতে গেলাম।মাথাটা নিচু করে আস্তে আম্তে উপরে তুলে দেখতেই ভিষন ভাবে ভয় পেয়ে গেছি।রেনেসা ম্যামের লাশ নিয়ে যাচ্ছে আরেকটা রেনেসা ম্যাম।। কে আসল কে নকল, তবে সবকিছু গোলমাল। সেই রাতে আমার দুচোখে আর ঘুম নেই।আমি আম্মুকে সব বললাম বাবাকেও, কেউ আমার কথা বিশ্বাস করেনা, আমি অনেক ভয়ে আছি,আম্মু এটা বুঝতে পেরেছে। পরদিন আম্মু আমার রুমে ঘুমালো আমার সাথে।আবারো সেই অদ্ভুত আওয়াজ। আম্মুকে ডেকে তুললাম আম্মু আর আমি সোজা বেলকোনিতে গেলাম, রেনেসা ম্যাম একটা বাচ্চাকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে মাথা নেই। প্রচন্ড ভয় পেয়ে আম্মু আর আমি চিৎকার দিয়ে রুমে চলে আসি।রেনেসা ম্যাম চিৎকার শুনেই আমাদের দরজায় কড়া নাড়লো, আমরা ভয়ে শেষ। মা বললো ভয় পাবেনা নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে। দরজা খুলতেই রেনেসা ম্যাম বললো মিসেস লাইরা একটা চিৎকার শুনলাম। না না কই কোন চিৎকার তো নেই ওরা ঘুমিয়ে আছে মিসেস রেনেসা আমার বাবা উত্তর দিলো। ও আচ্ছা আমি ভাবলাম হয়তো কিছু দেখেছে। কি দেখবে রেনেসা ম্যাম????? ও না না কিছু না। বাবাঃ তা আপনি এখনো ঘুমাননি কেন?? একটু কাজ ছিলো স্কুলের বাচ্চাদের পরিক্ষার খাতাগুলো চেক করছিলাম। 


আচ্ছা অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ুন। এই বলেই বাবা দরজা বন্ধ করে দিলো। আমি আর আম্মু বাবাকে সব খুলে বললাম। বলো কি?? কি সাংঘাতিক। সব পুলিশকে জানাতে হবে। আবারো দরজায় কড়া নাড়লো। বাবা ভয়ে খুলতে পারছেনা, দরজা ভেঙ্গে ফেলার মত আওয়াজ। বাবা ভয়ে ভয়ে খুললো দেখলো কেই নেই। বন্ধ করতেই রেনেসা ম্যামের বিশ্রী চেহারা দেখে আমরা চিৎকার শুরু করি। আমার বেপারে একটা পাখিও টের পেলে একটাও জিন্দা বাচবিনা। জোরে জোরে হাসি দিলো আর চলে গেলো। ওইদিন থেকে আমরা সবাই চিন্তিত।কে রক্ষা করবে আমাদের।ভয়ে কাউকে কিচ্ছু বলতে পারিনা।তারপরদিন আপনারা দাওয়াত দিয়েছেন নিশাতের জন্মদিনে। হ্যা বুঝেছি সব। ওই সইতানটা এবার বুঝবে আমি শাস্তি দিবো এবার। নন্দিনী : নিশাতকে বললো না এটা কি, কি তার উদ্দেশ্য আগে জানতে হবে, বাচ্চাদের মাথা কেন নিচ্ছে, নিশাত: আচ্ছা আন্টি আঙ্কেল কোথায়?? কাদতর শুরু করলো আকাশ। বাবা, মা বেচে নেই সইতানটা মেরে ফেলেছে আমার চোখের সামনে। নন্দিনী জড়িয়ে ধরলো আকাশকে।কেদোনা আকাশ। আজ থেকে আমি তোমার মা। আমাদের সাথেই তুমি থাকবে এখন থেকে। আজকে থেকে আমার দুই ছেলে। আকাশ আর নিশাত ঘুমিয়ে পড়লো, নন্দিনী ওদের ঘুম পাড়িয়ে নিজেও ঘুমিয়ে পড়বে,এমন সময় নাগের ছায়া তাকে বললো আমাদের সন্তান যে সে সন্তান নই, ওর ভিতর দিব্যশক্তি আছে।ওই পারবে আমাকে মুক্ত করতে নন্দিনী কিছু বলার আগেই ছায়া মিলিয়ে গেলো। তবে নাগ কারো কাছে বন্দি আছে, কিন্তু দ্বিনেষ সাহেব তো মারা গেছে, তবে কে নাগকে বন্দি করেছে। নন্দিনী ঘুমিয়ে পড়লো পরদিন আকাশ আর নিশাতকে নিয়ে স্কুলে গেলো, 


সবাই উপস্হিত।কোথাও রেনেসা ম্যামকে দেখা যাচ্ছেনা। একটু পর রেনেসা ম্যাম পৌছালো ক্লাসে।বাইরে নন্দিনি আর আকাশকে দেখে মিচকি হাসি দিলো। নন্দিনী প্রিন্সিপার্ল সারের কাছে বললো রেনেসা ম্যাম ওনি ম্যাম না ওনি একটা অন্য কিছু,ওনি বাচ্চাদের মাথা কেটে নিচ্ছে। কোন প্রমান আছে মিসেস নন্দিনী জবাবে রেনেসা ম্যাম। নন্দিনীঃ আপনি সব বাচ্চাদের কেন মারছেন? আকাশের বাবা মাকেও আপনি মেরেছেন। কি সব ভুল ভাল কথা বলছেন মিসেস নন্দিনী। প্রমান ছাড়া এভাবে আপনি দোষারোপ করতে পারেননা। আর আমি কেন এগুলো বলেই কাদতে শুরু করলো, এভাবে অপমান করার স্পর্ধা কে দিয়েছে আপনাকে প্রিন্সিপার্ল সার ও অন্যান্য ম্যামেরা বলা বলি করছে। আচ্ছা প্রমান আমি দিচ্ছি বলেই নন্দিনী ওর গলার তাবিজটা খুলে রেনেসা ম্যামের মাথায় ধরলো, ওমনি ম্যামের চেহারা এক বিভৎস্য চেহারাতে পরিনত হলো, সবাই চিৎকার করে পালালো, রেনেসা ম্যাম পালিয়ে গেলো নিজের পাখনা দিয়ে উড়ে।চারিদিকে মিডিয়া,নিউজ,ভয়ের আতঙ্ক।সারা জায়গায় মাইকিং করা হলো শিশুকে একা না ছাড়তে, কেউ যেনো বাইরে না বের হয়। নন্দিনী কিভাবে কি করবে বুঝতে পারছেনা। রেনেসা ম্যামকে না মারলে সবাইকে এক এক করে মেরে ফেলব....


চলবে.....


SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।