নাগকন্যা - পর্ব (৪)

কারন আমি খেয়াল করলাম একটা দেয়াল ভেদ করে একটা দরজা তৈরী হয়েছে।এটা কি কোন মায়া নাকি অন্যকিছু।বিষয়টা এখন আমার কাছে বেশ গোলমেলে লাগছে।মনে মনে ভাবছি আমি মিস শিলাকে বিশ্বাস করে ভুল করে নি তো।মনের মধ্যে ভাবনার পাহাড় বাঁধতে লাগল অনেক।এর মধ্যে ভাবনার পাহাড়ে ছেদ পড়ল মিস শিলার ডাক শুনে।মিস শিলা বললেন
-মিসেস অধরা এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
আমি কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম






-এখানে তো দরজা ছিল না তাহলে দরজা তৈরী হল কিভাবে?এটা কি কোন মায়া শক্তি?
মিস শিলা মুচকি আর রহস্যময়ী হাসি দিয়ে বললেন

-হুম এরকম কিছুই বলতে পারেন।আলোর পরিচয় জানতে হলে তো একটু কষ্ট করতেই হবে।চলুন আমার সাথে।
আমিও মিস শিলাকে বিশ্বাস না করেও পারছিলাম না।তাই সাত পাঁচ না ভেবে দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম।কিন্তু আলো কোনভাবেই যেতে চাচ্ছে না।কিন্তু কেন যেতে চাচ্ছে না এর মানেটা বুঝতে পারছিলাম না।আলো বলল
-মা যাব না আমি। ঐখানের ঘ্রাণটা আমার সহ্য হচ্ছে না।এসব ধূপের ঘ্রাণ আমাকে কষ্ট দেয় অনেক।তুমি আমাকে ঐখানে নিয়ে যেও না।

আলোর কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম কারন ধূপের কোন ঘ্রাণ এখনও আমার নাকে এসে পৌঁছায় নি।তাই কিছুটা অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলাম
-মা এখানে তো কোন গন্ধ নেই।তাহলে তুমি যেতে চাচ্ছ না কেন?
আলো রাগী রাগী গলায় বলল
-আমি সব ঘ্রাণ পাচ্ছি।এ ঘ্রাণটায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসে মা।আমাকে নিও না ঐখানে।
পাশ থেকে মিস শিলা বলে উঠল

-মিসেস অধরা আলো হয়ত ভয় পেয়ে এসব বলছে আপনি চলুন তো।


আমি কি করব বেশ দুটানায় পড়ে গেলাম।একদিকে আলোর এমন বায়না আর অন্যদিকে আলোর ব্যাপারটা জানাও দরকার কি করা উচিত তা যেন আমার মাথায় ঢুকছে না।কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।ভাবনার দেয়াল ভেদ করে যেন কোন সমাধান মাথায় আসছে না।এটাও হতে পারে যে আলোর বয়স কম তাই ভয় পেয়ে এমন বলছে।কিছুক্ষণ ভেবে স্থির করলাম যা হবার হবে আগে ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করি তারপর দেখা যাবে।আমি মিস শিলাকে বললাম
-চলুন প্রবেশ করা যাক।

এ বলে দরজাটার সামনে গেলাম।দরজাটার সামনে গিয়ে একটু অবাক হয়ে গেলাম।দরজা শুরু থেকে খেয়াল করলাম একটা সুরঙ্গ বেয়ে যাচ্ছে।সুরঙ্গের ঐ পারে একটা ছোট কালো খুপরি দেখা যাচ্ছে।তাই কিছুটা ভয় ও পেলাম।ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-মিস শিলা ঐ খুপরিটা কিসের আর জায়গাটা এত অন্ধকারে আচ্ছন্ন কেন?
মিস শিলা সাহসী কন্ঠে জবাব দিলেন
-আরে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।ঐ খুপরিটাতেই তো ঐ বৃদ্ধা থাকে আর জায়গাটা অন্ধকার কারন আলোকিত জায়গায় নাগপিতা আগমণ করে না।তাই নাগপিতাকে আনতে এবং আলোর রহস্য ভেদ করতে এ জায়গায় আনা হয়েছে।আশা করি সবটা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছেন।

এবার মনে হচ্ছে আমার মাথায় ঘুরতে থাকা সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি।তাই কিছুটা অভয় নিয়ে যখন সুরঙ্গে পা রাখতে যাব ঠিক এ মুহুর্তে মনে হল কেউ একজন আমার হাতটা ধরে টান দিল।আমি পিছনে ফিরে এতটাই অবাক হলাম যে আমার কাছে বিষয় টা অনেকটা অষ্টম আশ্চর্যের মত লাগছিল।এটা কি করে সম্ভব? তাহলে আমি এতক্ষণ কার সাথে ছিলাম।এটা কি বাস্তব নাকি স্বপ্ন।কারন আমি পিছনে ফিরে দেখি দুজন মিস শিলা দাঁড়িয়ে আছে।একজন বলছে
-মিসেস অধরা আপনাকে যে মিস শিলা ডেকে এনেছে উনি একজন পিশাচ নাগিন।আপনি উনার কথায় যাবেন না।এ সুরঙ্গে গেলেই এ পিশাচ নাগিনের সমস্ত শক্তি ফিরে পাবে আর আলোর ক্ষতি করবে।আলোকে মেরেও ফেলতে পারে প্লিজ যাবেন না।



আবার অপরদিকে আরেকজন বলতেছে
-আপনি ওর কথা বিশ্বাস করবেন না মিসেস অধরা।ও একটা মায়া জাদু আপনাকে বিভ্রান্তিতে ফেলতেছে।নাগপিতাকে এ জায়গায় আহ্বান করলে আগমণ করে তাই আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছি।
আবার পাশ থেকে অপরজন বলে উঠল
-মিসেস অধরা নাগপিতা কোন সাধারণ মানুষের কথায় আগমণ হয় না।আগমণ তখন হবে যদি আলো ডাকে।কোন সাধারণ বৃদ্ধা নাগপিতাকে আহ্বান করতে পারবে না।বৃদ্ধা তো শুধু রহস্যের কারন বলতে পারবে।আপনি যাবেন না।উনি হলেন পিশাচ নাগিনী আমার ছদ্ম রূপ ধরে আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছে।উনি কোন সাধারণ মানুষ না।বিশ্বাস করুন আমার কথা। আপনি সুরঙ্গে পা দিবেন না।আর ঐ খুপরিটায় একটা কালো মূর্তি আছে যেটা হল পিশাচ নাগরাণীর সেখানে নিয়ে হয়ত পিশাচ নাগরাণীকে তুষ্ট করার জন্য আলোকে বলি দিবে।এতে করে এ পিশাচ নাগিনী অনেক শক্তি পাবে।আপনি যাবেন না প্লিজ।আমাকে বিশ্বাস করুন।


আবারও অপরদিকে আরেকজন বলে উঠল

-মিসেস অধরা মায়া শক্তির জালে ফাঁসবেন না।আলোর ভালোর জন্য হলেও আপনাকে যেতে হবে।প্লিজ যান।
আমি ওদের কথায় কিছুই বুঝতে পারছি না।এ কোন পরীক্ষার সম্মুখীন আমি হলাম।একদিকে একজন বলছে মিস শিলা আমি আবার অপরজন বলছে মিস শিলা উনি। কিন্তু কে আসল মিস শিলা চিন্হিত কিভাবে করব?কাকে বিশ্বাস করব।চরম পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে গেলাম।মাথায় কোন কাজ করছে না।মাথায় বেশ ব্যাথা হতে লাগল।দুজন শিলাকেই বেশ মনযোগ দিয়ে দেখতে লাগলাম।হুট করে বলে ফেললাম কে আসল শিলা আমাকে প্রমাণ দিন।প্রমাণ দিতে পারলে আমি বিশ্বাস করব এর আগে না।

একজন শিলা বলে উঠল এই দেখুন আমার ঘাড়ে তীর চিন্হটা যেটা আমি আপনাকে দেখিয়েছিলাম।এই দেখুন।পাশের জনও আমাকে একই তীরচিন্হটা দেখিয়ে বললেন এই দেখুন আমার ঘাড়েও আছে।আমিই আসল শিলা।এ কোন মায়ার জালে ফাঁসলাম আমি এর তো কোন উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না।দুজন মিলে একই প্রমাণ দেওয়া শুরু করতেছে।এদের থেকে আসল শিলা বের করার কোন উপায় তো দেখছি না।চিন্তার ঘোর যেন আমাকে অতলে ডুবিয়ে নিয়ে যেতে লাগল।তাই বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লাম।আলো পাশ থেকে বলে উঠল।আপনারা কে আসল প্রমাণ হবে যদি এ মালাটায় হাত দিন।আমি আলোর দিকে তাকিয়ে বেশ অবাক তখন হলাম যে এ মালাটায় তো সে মালা যে মালাটা আলোর গলায় মিলিয়ে গিয়েছিল।আলোর হাতে এ মালাটা কি করে আসল।আর আলোকে মনে হচ্ছে না ও কোন বাচ্চা, মনে হচ্ছে ও অনেক বড় কোন মানুষ।আকৃতিতে বাচ্চা মনে হলেও কন্ঠে প্রকাশ পাচ্ছে আলো বড় কোন মেয়ে। তাহলে কি আলোর মধ্যে কোন শক্তি প্রবেশ করেছে।কি হচ্ছে এসব আমার সাথে।ধীরে ধীরে আমি নিস্তব হয়ে গেলাম।মাথাটা বেশ ঘুরতে লাগল।চিন্তায় মাথাটা যেন আরও জিম ধরতে লাগল।নিজেকে সামলানোর বেশ চেষ্টা করছিলাম।কিন্তু কোনভাবেই পারছিলাম না।মাথার ব্যাথাটা তীব্র থেকে তীব্র হতে লাগল।কপাল বেয়ে ঘাম বের হতে লাগল।

শরীরটা একদম নিথর হয়ে যেতে লাগল।প্রচন্ড মাথা ব্যাথা যেন আমাকে গ্রাস করতে লাগল।শরীরের সব ক্রিয়া যেন অঁচল হয়ে গেল।বাড়িটা ঘুরতে লাগল।সে সাথে শরীরের অসহনীয় ব্যাথায় চোখটা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেল।নিথর দেহটা যেন আরও নিথর হয়ে গেল।মুহুর্তের মধ্যে অবশের মত মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম।আবছা চোখে আরও কিছু একটা হচ্ছিল তা বুঝতে পারছিলাম কিন্তু স্পষ্ট করে দেখতে পারছিলাম না কিছু।প্রথমে কানে শব্দগুলো জোড়ালো আওয়াজে আসলেও আস্তে আস্তে শব্দের তীব্রতা কমতে লাগল।কিছুক্ষণের মধ্যে কোথায় হারিয়ে গেলাম জানি না।মনে হয় জ্ঞান হরালাম।



অনেকক্ষণ পর কানে হালকা হালকা কথা আসতে লাগল।আমি চোখ খুলতে চেয়েও চোখ খুলতে পারছিলাম না।হালকা পানির ঝাপটায় আমি চোখ খুলতে সক্ষম হলাম।চোখ খুলে এতটায় চমকালাম যে বলার অপেক্ষা রাখে না। কারন....

চলবে....

গল্পটির পরবর্তী পর্ব পেতে গল্পটি নিচের শেয়ার অপশন থেকে অথবা লিংক কপি করে ফেসেবুকে শেয়ার করুন

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।