বউ যখন ভাবী!


এলাকার বড়ভাই শরীফ ভাই ফোন দিয়ে বললেন, 'রনি, একটু দেখা করতে পারবি?'
বললাম, 'জ্বী ভাই, আসছি।
ভাই অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, 'আমার সাথে না। আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে পারবি?'
- আমি ঠিক বুঝলাম না।
ভাই দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। বললেন, 'আচ্ছা তোকে বুঝায়ে বলি। আমার প্রেমিকা স্নেহার সাথে পরিচয়, ভালোলাগা বা প্রেম যা ই বলিস না কেন, সব ফেসবুকের মাধ্যমেই। আমাদের মধ্যে সাক্ষ্যাৎ হওয়া তো দূরের কথা, স্নেহা আমাকে দেখেনাই পর্যন্ত।'
আমি অবাক হলাম, 'না দেখেই প্রেমে পড়ে গেল?'
- ইয়ে মানে ব্যাপারটা আসলে এরকম না। আমাদের মধ্যে সেইভাবে অফিশিয়াল প্রেম এখনো হয়নি। তবে প্রেম হবো হবো করছে। সারাদিনই কথা হয় ফোনে। সারারাত মেসেঞ্জারে চ্যাট হয়। এখন দেখা করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি দেখা করতে পারবো না।'
- কেন পারবেন না? কি সমস্যা?
ভাই রাগলেন। বললেন, 'গাধা, আমার দিকে তাকিয়ে দেখ। আমার ওজন একশো আট কেজি। এতো মোটা কোনো ছেলের সাথে স্নেহার মত মেয়ে প্রেম করবে? করবে না। তো আমি ডায়েট শুরু করে দিয়েছি। কয়েক মাস টাইম লাগবে। কিন্তু এদিকে স্নেহা নাছোড়বান্দা। দেখা না করলে নাকি আর কথাই বলবে না৷ তাই তুই প্লিজ আমার হয়ে ওর সাথে দেখা করে আয়। বলবি, তুই ই শরীফ। মানে আমি।'
আমি এতোক্ষণে বুঝলাম। বললাম, 'কিন্তু পরে যদি কোনো ঝামেলা হয়?'
- আরে ধুর, সেটা আমি দেখব। কোনো সমস্যাই হবে না। তুই জাস্ট ওর সাথে গিয়ে আধাঘন্টা একটা রেস্টুরেন্টে বসে দুই স্লাইস পিজ্জা খেয়ে চলে আসবি। তারপর তোর কাজ শেষ। বাকি দায়িত্ব আমার। কিন্তু একটা কথা।'
- কি?
- সমসময়, সব পরিস্থিতিতে একটা জিনিস মাথায় রাখবি। সেটা হলো, স্নেহা তোর ভাবী হয়। ভাবী।
.
ভাইয়ের শরীরে চর্বির মত পকেটে টাকারও অভাব নাই। আমরা খুব বড় এক রেস্টুরেন্টে ডেট করলাম। বিল যা আসলো তার থেকে বেশি দিলাম টিপস। তাছাড়া ফুলের তোড়া বাদেও স্নেহার জন্য হোয়াইট গোল্ডের খুব দামী একটা ব্রেসলেট উপহার নিয়ে গেছিলাম। সে তো খুবই ইমপ্রেস। দুইবার আলতো করে আমার হাত ধরতে চেষ্টা করলো। কিন্তু আমি হাত সরিয়ে নিলাম। হাজার হোক সে আমার ভাবী হয়।
.
দেখা করে আসার দুইদিন পরই শরীফ ভাইয়ের মেসেজ আসলো, 'রনি, মিশন কমপ্লিট। প্রেম হয়ে গেছে পুরোপুরি।'
আমি রিপ্লাই দিলাম, 'আলহামদুলিল্লাহ। ট্রিট দেন।'
ভাই ট্রিটও দিলো। আমি খুব খুশি। আমি যে স্মার্ট আর হ্যান্ডসাম সেটা তো আগেই জানতাম। প্রমানও পেলাম হাতেনাতে।
.
কিন্তু খুশি আমার কপালে ছিলো না সম্ভবত। অথচ আরো বেশিই খুশি লেখা ছিলো কপালে।
.
তিনদিন পরই ভাইয়ের ডাক আসলো। স্নেহাকে শপিং এ নিয়ে যেতে হবে। ওর চাচাতো বোনের বিয়ে। আর্জেন্ট।
কি আর করা, চলে গেলাম। টাকা তো আর আমার যাচ্ছে না।
কয়দিন পর সিনেমা দেখা। সিনেপ্লেক্সে জোকার এসেছে। ভাবী ভাইকে ছাড়া দেখবে না। এদিকে ভাবীর কাছে ভাই তো আমি।
শরীফ ভাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে টিকিট বুকিং দিলেন।
.
মাসখানেক পর স্নেহা ভাবীর সাথে আমার ডেট নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়ালো। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন তো হচ্ছেই। হয়তো আমি দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে মাত্র রেস্ট নিতে বসেছি, সেইসময়ই ভাইয়ের ফোন,
- তোর ভাবীর ফুচকা খেতে ইচ্ছা করছে।
- তোর ভাবী বাতিঘর যাবে।
- তোর ভাবীর ডাক্তারের কাছে সিরিয়াল আছে।
- তোর ভাবীর ফ্রেন্ডের জন্মদিন।
আমি অবাক হই, 'ভাবীর ফ্রেন্ডের জন্মদিন তো আমি কি করব?'
ভাই ক্লান্ত গলায় বলেন, 'জন্মদিনের পার্টিতে আমাকেও দাওয়াত দিছে।'
.
সত্যি বলতে আমার খারাপ লাগে না তেমন। ভালোই লাগে৷ স্নেহা ভাবী জোস মেয়ে। সেইরকম সুন্দরী। আমাকে দেখলেই এতো বাবু বাবু করে। উফ। আমিও সুযোগ ছাড়িনা৷ কথায় কথায়, সোনা, জান, পাখি বলে ফিল নিই।
ওদিকে রাতজেগে চ্যাটিং করে শরীফ ভাই। আহারে, বেচারা!
.
ভাবী কোনো কোনো দিন আমাকে বলে, 'কাল রাতের জন্য আমি স্যরি।'
আমি মুচকি হাসি, 'আরে বাবু দোষ তো আমারই। তুমি কেন স্যরি বলবা?'
- তুমি খুব ভালো একটা ছেলে শরীফ।
- আমি জানি ভাবী।
- হোয়াট? কি বললা?
- বেবি। আমি জানি বেবি। বেবি বলছি।
.
কিন্তু আমার সমস্যা না হলেও একজনের হচ্ছিলো। আমার প্রেমিকা ইরার। সারাদিন কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে, তুমি আমাকে টাইম দাওনা। তুমি আগের মত নাই, বদলে গেছ। আমার ফ্রেন্ড তোমাকে সেদিন যমুনাতে এক মেয়ের সাথে দেখেছে, সে কি হয়?
আমি কসম কেটে বলি, সে আমার ভাবী হয়।
.
এটাই তো সত্যি, তাইনা? ভাবীই তো হয়।
.
আরো দুইমাস পরে আমাদের ত্রিভুজ প্রেম, আই মিন আমি শরীফ ভাই আর স্নেহা ভাবী এই তিনজনের প্রেম লিমিট ক্রস করে ফেললো।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি শরীফ ভাই আমাদের বসার ঘরে বসে আছেন। চোখমুখ শুকনা। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সারারাত ঘুম হয়নি।
আমি ভাইয়ের সামনে গিয়ে দাড়াই, 'কি হইছে? কোনো সমস্যা?'
ভাই মাথা নীচু করে আস্তে আস্তে বললেন, 'তোর ভাবীর বাসায় আজ কেউ থাকবে না। বাসা ফাকা থাকবে। আমাকে যেতে বলেছে।'
- হোয়াট? না না এটা সম্ভব না। আমার প্রেমিকা আছে।
- আমি ওকে কথা দিয়েছি আমি যাবো।
- প্লিজ ভাই। কি বলছেন এসব?
ভাই পকেট থেকে একটা প্লাস্টিকের গ্লাভস বের করলেন। বললেন, এটা হাতে পরে ফেল। স্নেহাকে এটা পরে টাচ করবি। তোর আর স্নেহার মাঝে যেন প্লাস্টিকের পর্দা থাকে। তোর শরীরের কোনো অংশ যেন ওর শরীরের সাথে সরাসরি না ছুয়ে যায়।
- কোনো অংশই না?
- উহু, ভাই শান্ত মুখে কনডম বের করে আমার হাতে দিলেন। কোনো অংশই না।
.
স্নেহার বাসায় ঢোকার সাথে সাথেই দরজা বন্ধ করে দিয়ে সে আমাকে কিস করার চেষ্টা করলো। আমি বাধা দিলাম, 'প্লিজ, বিয়ের আগে এসব না।'
- মানে কি? তাহলে আসছ কেন?
- না মানে বাকি সব হবে, কিন্তু কিস না?
- বাকি সব বলতে?
- সেক্স?
- সিরিয়াসলি? সেক্স করতে সমস্যা নাই বিয়ের আগে কিন্তু চুমুতে সমস্যা?
আমি আমতা আমতা করে বলি, 'ইয়ে মানে আমি ছোটবেলা থেকেই ঠিক করে রেখেছি বউ বাদে কাউকে কিস করব না।'
- সে নাহয় বুঝলাম, কিন্তু তোমার হাতে পায়ে প্লাস্টিকের কাভার কেন?
আমি চোখ টিপ দেই, আসলে আমি সবখানেই প্রটেকশনে বিলিভ করি।
- হাইরে কপাল। তোমার মত পাগল আমি আর দেখিনাই। হাসে স্নেহা।
.
রাতে পরপর তিনবার সেক্স করার পর স্নেহা টান দিয়ে আমার গ্লাভস খুলে ফেলে। বলে, 'একবার আমি তোমার হাতটা ধরতে চাই।'
আমি ঝটকা দিয়ে সরে যাই। সরাসরি হাত ধরা? কিভাবে সম্ভব? ছিঃ এটা আমি পারব না। হাজার হোক স্নেহা আমার ভাবী হয়, ভাবী!
.
ঘুমিয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাবী আমাকে ডাক দেয়। বলে দেখে যাও, একটা চোর সম্ভবত। আমি ধড়ফড় করে উঠি, 'কই চোর? কোথায়?'
স্নেহা আমাকে চার তলার জানালা দিয়ে দেখায়, নীচে ওদের বাসার সামনের মাঠে একটা লোক দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে।
আমি শরীফ ভাইকে চিনতে পারি। আহারে বেচারা। স্নেহা আমার কাছে আসতে গেলে আমি সরিয়ে দেই। বলি, আজ আর না। আজ মনটা খুব খারাপ।
- হঠ্যাৎ কি হলো বাবু?
- কিছুনা বাদ দাও। ঘুমাই।
.
সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়৷ নীচে নেমে দেখি যথারীতি শরীফ ভাই দাঁড়ানো। আমাকে দেখেই বলেন, 'গ্লাভস কই?'
- সকালে উঠে ফ্রেশ হওয়ার সময় খুলেছি।
- সরাসরি টাচ করিসনি তো?
- না ভাই, করিনি৷
.
উনার চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ পড়ে। আমি বলি, 'ভাই অনেক হইছে, আর এভাবে চালানো ঠিক হবে না। স্নেহাকে সব বলে দেন। নাহলে খুব বড় ঝামেলা হয়ে যাবে।'
শরীফ ভাই নিজের বিশাল ভুড়ির দিকে তাকিয়ে বলেন, 'এখনো সময় হয়নি৷ আর কিছুদিন যাক।'
- কিন্তু আপনার স্বাস্থ্যের তো তেমন কোনো পার্থক্য দেখছি না।
- আরে ভাই আর বলিস না। খাবার দেখলে মাথা ঠিক থাকে না। কি যে করি। বাট তুই চিন্তা করিস না। কিটো ডায়েট নামের নতুন একটা ডায়েট শুরু করতে যাচ্ছি। আর বেশিদিন লাগবে না।
.
কিন্তু বেশিদিন লাগে। মাসের পর মাস চলে যায়। এদিকে আমাদের অবস্থার কোনো হেরফের হয়না। ফোনে আর ফেসবুকে প্রেম করে শরীফ ভাই। সরাসরি আমি।
তবে পার্থক্য কিছু হয়েছে অবশ্য। আগের মত ফুচকা খাইয়াতে নিয়ে যাওয়ার মেসেজ আসে কম। এখন হয়তো সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খাচ্ছি, এমন সময় ভাইয়ের কল আসে,
- আজ তোর ভাবীর ফ্রেন্ডের বাসায় কেউ থাকবে না।
- তোর ভাবীর আব্বু আম্মু গ্রামে গেছে। দুইদিন ফাকা থাকবে বাসা।
- এইবার আমার এক ফ্রেন্ডের ফাকা ফ্লাট পাওয়া গেছে। তোর ভাবী বলেছে চাবি নিয়ে রাখতে।
- তোর ভাবীর ফ্রেন্ডের জন্মদিন?
আমি অবাক হই, 'ফ্রেন্ডের জন্মদিন তো আমি কি করব?
শরীফ ভাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, 'জন্মদিনের পার্টিতে আমাকেও দাওয়াত দিয়েছে। রাতে থেকে যেতে হবে স্নেহার সাথে।
.
অনেকবার এরকম হয়েছে যে একই সাথে আমার প্রেমিকা ইরার বাসাতেও কেউ নাই, আবার ভাবীর বাসাতেও কেউ নাই। সেক্ষেত্রে আমি নিজের প্রেম সেক্রিফাইস করে ইরার বাসায় না গিয়ে ভাবীর বাসায় গেছি। হাজার হোক, ভাবী তো ভাবীই। গার্লফ্রেন্ডের আগে তার স্থান।
.
আপনারা ভাবছেন, আর কি বাকি থাকলো? এবার সেটাই বলি। কিছুদিন পর ভাই ছয় কেজি মিষ্টি নিয়ে আমার বাসায় আসলেন। আমি তো অবাক, এতো মিষ্টি কি মনে করে? ভাবীকে বলে দিছেন সব? ভাবী মেনে নিছে?
- আরে নাহ, মিষ্টি তোর জন্য না।
- তাহলে?
- তোর ভাবীর বাসা থেকে বিয়ের জন্য ছেলে দেখেছে। কিন্তু অন্য কারো সাথে ওর বিয়ে তো আমি মেনে নিতে পারব না। আমি ওর প্রেমিক।
- তো?
- তো আর কি। তুই ওর বাসায় প্রস্তাব নিয়ে যাবি।
- যদি রাজি হয়ে যায়?
- তখন দেখা যাবে।
.
স্নেহার বাবা মা রাজি হন না। শরীফ ভাই ডিসিশন নেন উনি প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করবেন। কিন্তু পোড়া কপাল তো আমার, শরীফ ভাইয়ের পক্ষ থেকে পালাতে হবে আমাকে। কিন্তু বিয়ে? সেটা কে করবে?
শরীফ ভাই আমার হাতটা ধরে বলেন, 'তুই আমার জন্য এটুকু করতে পারবি না?'
- মানে কি? বিয়ে করে ভাবীকে কি খাওয়াবো?
- সেই দায়িত্ব আমার। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে বাজার সদাইয়ের সব খরচ আমার।
- কিন্তু আপনি ওকে সত্যিটা বলবেন কবে?
- একটা মাস টাইম দে আমাকে। নতুন এক জিমে ভর্তি হয়েছি। তারা বলেছে এক মাসেই স্লিম করে দিবে। তুই থাইল্যান্ড গিয়ে হানিমুন করে আয়। ব্যবস্থা করতেছি।
- থাইল্যান্ড কেন?
- স্নেহার শখ অনেক আগে থেকেই। একমাস হানিমুন করে ফিরতে ফিরতেই আমি রেডি হিয়ে যাব।
.
কিন্তু একমাসে কিছুই হয় না৷ দুই বছর পর আমাদের প্রথম বাচ্চা হয়, শিরিন। বৈজ্ঞানিকভাবে বাচ্চা আমার হলেও, আসলে এটা তো শরীফ ভাইয়েরই বাচ্চা। তাই নামও উনার নামের সাথেই মিলিয়ে রেখেছেন ভাই নিজেই। আমি বাচ্চাকে নিয়ে আসি প্রায়ই ভাইয়ের কাছে। নিজের প্রথম ও একমাত্র মেয়েকে ভীষণ আদর করেন উনি। উনার একক প্রচেষ্টায় শিরিন উনাকে আধো আধো বোলে বাবা ডাকে। ভাইয়ের খুশি আর দেখে কে!
.
এদিকে আমার বাসা থেকে ইরার সাথে বিয়ে ঠিক করেছে৷ আমি বলি, 'ভাই, আমার পক্ষে আপনার বউ ছেলে মেয়ের সাথে সংসার করা আর সম্ভব না। আমারো তো একটা জীবন আছে। আমারো তো ইচ্ছা হয় বিয়ে করি, বাচ্চার বাবা হই।'
ভাই দুঃখ দুঃখ গলায় বলে, 'তোর কষ্টও আমি বুঝি। তুই আমার জন্য যা যা করেছিস সেটা আমি কোনোদিনও ভুলতে পারবো না। বাট এবার আমি স্নেহাকে সব বলব। তোর বিয়ের দিনই।'
- কিন্তু আপনি তো চিকণ হননি?
- মোটা চিকণ দিয়ে কি হয়? প্রেম ভালোবাসা মনের সাথে মনের ব্যাপার। স্নেহা আমাকে ভালোবাসলে আমি যেমন সেভাবেই বাসবে।
- এটা শুরুতে কেন ভাবেননি?
- সেটাই তো ভুল করেছি। তোর জীবন নষ্ট করতেছি। আর হবে না। এবার শিওর বলব।
.
আমার বিয়ের দিন ভাই স্নেহার বাসার সামনে যায়। স্নেহা তখন হন্তদন্ত হয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছিলো। সে কিভাবে যেন খবর পেয়ে গেছে আমার আরেকটা বিয়ে। বাসার সামনে ভাইকে দেখে চিনতে পারে ও। ভাইকে সাথে করে নিয়ে আমার বাসায় চলে আসে৷ আমি তখন বরযাত্রীতে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি। স্নেহার কোলে আমার বৈজ্ঞানিক বাচ্চা। বিয়ে ভেঙে যায়। ভাইয়েরও আর কিছু বলা হয় না।
.
ভাই আমার হাত ধরে বলেন, 'আর অল্প কয়টা দিন। আমার জন্য এইটুকু তুই কর।'
আমি মাথা নাড়ি। কপালে ভাইয়ের সংসার টানা থাকলে কি আর করা।
আমি আস্তে করে বলি, 'ঠিকঠাক বলেন আর কতদিন?'
- অল্প কয়দিন রে ভাই। শীঘ্রই স্নেহাকে সব বলবো। প্রমিজ।'
.
পরিশিষ্টঃ আমার আর স্নেহার বিয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে। শরীফ ভাই বিশাল পার্টি দিয়েছেন। হাজার খানেক লোক ইনভাইট করেছেন। আমাকে দিয়ে স্নেহাকে ডায়ামন্ডের নেকলেস গিফট করলেন। অসম্ভব খুশি উনি৷ একটু পর পর বলছেন, 'কখনো ভাবীনাই, ভালোবাসার মানুষের সাথে পঞ্চাশ বছর পূরণ করবো।'
ভাইয়ের চোখ আনন্দে চকচক করে।
আমি কিছু বলিনা। হতাশ হয়ে মাথা নাড়ি। বেচারা!
.
রাতে স্নেহা আমার বুকে মাথা রেখে বলে, 'শরীফ জানো, আমি খুব ভাগ্যবতী মেয়ে। তোমার মত কাউকে স্বামী হিসাবে পেয়েছি। আমার আশেপাশে সবার স্বামীর সাথে ওদের কত ঝগড়া হয়। ওদের বর ওদেরকে রাগ করে, ঝাড়ি দেয়। কিন্তু তুমিই পৃথিবীর একমাত্র স্বামী যে আমাকে কখনো জোর গলায় একটা কথাও বলোনি। কোনোদিন না। আমি কতশত ভুল করেছি, তোমাকে বকা দিয়েছি, তাও তুমি কিচ্ছু বলোনি। কিচ্ছু না। তাহলে আমি ভাগ্যবতী না বলো?'

আমি চুপ করে থাকি। বউ হলে নাহয় ঝাড়ি দেয়া যায়৷ কিন্তু ওকে আমি কিভাবে রাগ করি? হাজার হোক স্নেহা যে আমার ভাবী হয়, ভাবী। ভাবীর সম্মান অনেক ওপরে!


লেখা: সোহাইল রহমান

SHARE THIS

0 Comments:

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।